ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২১
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
সালাম ও তার তিন ডাই বোঝাপড়ার ভিত্তিতে বেঙ্গল ফার্নিচার নামক আসবাবপত্রের দোকান গড়ে তোলেন। ভালো ডিজাইন ও সুলভ মূল্যের কারণে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য ক্রেতাদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা পায়। ফলে প্রতিষ্ঠানটি অল্প দিনে সুনাম অর্জন করে। তিন বছর পর সালামের বড় ভাই মারা গেলে তার ১৬ বছর বয়সি ছেলে রফিককে ব্যবসার দেখাশুনার সুযোগ দেওয়া হয়। ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ৫০ লক্ষ টাকা একটি ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়।
- ক)(1)
অসীম দায় কী?
- খ)(2)
পরিবর্তনশীল চাহিদাবিশিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে কোন ব্যবসায় সংগঠন উপযোগী? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের ব্যবসায় সংগঠন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে প্রতিষ্ঠানে গৃহীত ব্যাংক ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে রফিকের দায় মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যবসায়ে বিনিয়োগকৃত মূলধনের বাইরেও দায় মেটানোর জন্য ব্যবসায়ের মালিকের ব্যক্তিগত সম্পদ পর্যন্ত দায়বদ্ধ থাকার অবস্থাকে অসীম দায় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিবর্তনশীল চাহিদাবিশিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে একমালিকানা ব্যবসায় সংগঠন সবচেয়ে উপযোগী।
যেসব পণ্যের চাহিদা ফ্যাশন, ক্রেতার রুচি, পছন্দ বা ঋতু পরিবর্তনের কারণে দ্রুত পরিবর্তিত হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যক্রমের সমন্বয় প্রয়োজন হয়। একমালিকানা ব্যবসায় মালিক এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে বাজারের আকস্মিক পরিবর্তন বা নতুন চাহিদার সাথে খুব সহজেই ব্যবসায়িক কৌশলের পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। এতে বিলম্ব ছাড়াই ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদামাফিক পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয়, যা অংশীদারি বা যৌথ মূলধনী ব্যবসায়ের বেলায় আনুষ্ঠানিকতার কারণে সময়সাপেক্ষ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'বেঙ্গল ফার্নিচার' প্রতিষ্ঠানটি একটি সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠন।
চুক্তি বা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে যৌথভাবে যে ব্যবসায় গঠন ও পরিচালনা করে, তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে। ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুযায়ী অংশীদারদের পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসই এ ব্যবসায়ের প্রধান ভিত্তি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সালাম ও তার তিন ভাই (মোট চারজন) পারস্পরিক বোঝাপড়া অর্থাৎ অলিখিত চুক্তির ভিত্তিতে আসবাবপত্রের দোকান 'বেঙ্গল ফার্নিচার' গড়ে তোলেন। তারা সম্মিলিতভাবে ব্যবসায় শুরু করে সুনাম অর্জন করেন। একাধিক ব্যক্তির উপস্থিতি, পারস্পরিক সমঝোতা এবং যৌথ কারবারের বৈশিষ্ট্য থাকায় প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিতভাবেই একটি অংশীদারি ব্যবসায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে গৃহীত ৫০ লক্ষ টাকার ব্যাংক ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে রফিকের দায় কেবল প্রতিষ্ঠানে তার থাকা স্বার্থ বা অংশের মূল্যমানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, সে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী নয়।
১৯৩২ সালের ভারতীয় অংশীদারি আইনের ৩০ ধারা অনুযায়ী, কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে অংশীদারি ব্যবসায়ে পূর্ণাঙ্গ অংশীদার করা যায় না। তবে সকল অংশীদারের সম্মতিক্রমে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে কেবল ব্যবসায়ের সুবিধার জন্য বা মুনাফায় অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। নাবালক অংশীদারের দায় সবসময় সসীম থাকে; অর্থাৎ ব্যবসায়ে তার বিনিয়োগ বা পাওনা অংশের অতিরিক্ত কোনো ব্যক্তিগত দায় বা ঋণের দায় তার ওপর বর্তায় না।
উদ্দীপকে সালামের বড় ভাই মারা যাওয়ার পর তার ১৬ বছর বয়সি নাবালক ছেলে রফিককে ব্যবসায়ের দেখাশোনার সুযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ব্যবসায়ের প্রয়োজনে ৫০ লক্ষ টাকা ব্যাংক ঋণ নেওয়া হয়। যেহেতু রফিকের বয়স ১৬ বছর, তাই দেশের প্রচলিত আইনানুসারে সে একজন নাবালক। নাবালক হিসেবে ঋণ পরিশোধে রফিকের ব্যক্তিগত কোনো দায় নেই। প্রতিষ্ঠান যদি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তবে রফিকের কারবারে বিদ্যমান অংশের সমপরিমাণ অর্থ পর্যন্ত সমন্বয় করা যাবে, কিন্তু তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে ব্যাংক ঋণ আদায় করা যাবে না।
সুতরাং, ৫০ লক্ষ টাকার ব্যাংক ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে রফিকের দায় সীমিত এবং সে নাবালক হওয়ার কারণে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত দায়মুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও