ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটের ওপর টেলিভিশনে একটি নাটক। হচ্ছিল। এই নাটকে নিয়মিত বাহিনীর সাথে অনেক অনিয়মিত বাহিনী যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। বীরত্বের সাথে উভয়ে যুদ্ধ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করে স্বাধীনতা অর্জন করে।
- ক)(1)
মুক্তিযুদ্ধের সময় সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক কে ছিলেন?
- খ)(2)
মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা বাহিনীর পরিচয় দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকে দেখানো ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বিভিন্ন বাহিনী যেভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করেছে। একইভাবে পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত যৌথবাহিনীর যুদ্ধ পরিচালনার ঘটনা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুক্তিযুদ্ধের সময় সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (এবং প্রধান সেনাপতি ছিলেন জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ ছাত্র, যুবক, কৃষক ও শ্রমিকদের সমন্বয়ে স্বল্পকালীন সামরিক প্রশিক্ষণে গড়ে ওঠা অনিয়মিত বাহিনীকে গেরিলা বাহিনী বা 'গণবাহিনী' (এফ.এফ) বলা হয়। এরা প্রধানত 'হিট অ্যান্ড রান' (আক্রমণ করে পালিয়ে যাওয়া) পদ্ধতিতে পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের দোসরদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে তাদের মনোবল ভেঙে দিত এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে 'নিয়মিত বাহিনী' ও 'অনিয়মিত বাহিনী'র যৌথ সমন্বয়ে পরিচালিত প্রতিরোধ ও স্বাধীনতা যুদ্ধের মিল রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল 'নিয়মিত বাহিনী' বা 'মুক্তিফৌজ' (যেমন- জেড ফোর্স, কে ফোর্স, এস ফোর্স)। অন্যদিকে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ যুবকদের নিয়ে স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণে গড়ে উঠেছিল 'অনিয়মিত বাহিনী' বা 'গণবাহিনী' (গেরিলা যোদ্ধা)। উদ্দীপকে নাটকের মাধ্যমে নিয়মিত ও অনিয়মিত বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণে দেশ শত্রুমুক্ত করার যে দৃশ্য ফুটে উঠেছে, তা মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নিয়মিত ও অনিয়মিত বাহিনীর সম্মিলিত সশস্ত্র সংগ্রামেরই বাস্তব প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত যুদ্ধ পরিচালনার বিষয়টি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে গঠিত 'যৌথ কমান্ড' বা 'যৌথবাহিনী'র চূড়ান্ত অভিযানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত হয় যৌথ কমান্ড। ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান বিমানবাহিনী ভারতের কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে আক্রমণ করলে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ফলে বাংলাদেশ-ভারত যৌথবাহিনী পূর্ণ শক্তিতে সমন্বিত সামরিক অভিযান শুরু করে। যৌথবাহিনী স্থল, নৌ ও আকাশপথে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর আক্রমণ জোরদার করে। এই ত্রিমুখী সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে হানাদার বাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল দ্রুত মুক্ত হতে থাকে। পরিশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে যৌথ কমান্ডের কাছে পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বে ৯৩ হাজার সৈন্যের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। উদ্দীপকে যেমন সকল বাহিনীর ঐক্যবদ্ধ ও বীরত্বপূর্ণ প্রচেষ্টায় শত্রুমুক্ত হয়ে স্বাধীনতা এসেছিল, ঠিক তেমনি মুক্তিযুদ্ধের শেষলগ্নে যৌথবাহিনীর পরিকল্পিত ও পরাক্রমশালী অভিযানের মাধ্যমেই দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও