ভূগোল ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
জলবায়ু অঞ্চল—
ক—নিরক্ষরেখার নিকটে অবস্থিত
খ—ঋতুভেদে বায়ু দিক পরিবর্তন করে
- ক)(1)
বায়ুমন্ডল কাকে বলে?
- খ)(2)
গ্রিনহাউস প্রভাব কী? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জলবায়ু 'ক' এর বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' জলবায়ুর প্রভাব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে গ্যাসীয় আবরণ পৃথিবীকে চারদিক থেকে বেষ্টন করে আছে, তাকে বায়ুমণ্ডল বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রিনহাউস প্রভাব হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত নির্দিষ্ট কিছু গ্যাস (যেমন কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ইত্যাদি) ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপ মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাধা দিয়ে বায়ুমণ্ডলে আটকে রাখে এবং পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। শীতপ্রধান দেশে কাচের ঘরে যেমন তাপ আটকে উষ্ণ পরিবেশ তৈরি হয়, তেমনি বায়ুমণ্ডলের এই গ্যাসগুলো পৃথিবীর চারপাশে একটি অদৃশ্য চাদর তৈরি করে পৃথিবীকে বসবাসযোগ্য রাখে; কিন্তু অতিরিক্ত গ্যাস নিঃসরণে এটি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঘটাচ্ছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' হলো নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল, যা নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° থেকে ১০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত। এই অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. তাপমাত্রা: এখানে সারা বছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়, ফলে সারা বছরই অধিক তাপমাত্রা বিরাজ করে। বার্ষিক গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৭° সেলসিয়াস এবং ঋতু পরিবর্তন দেখা যায় না।
২. বৃষ্টিপাত: অতিরিক্ত উষ্ণতার কারণে এখানে প্রতিদিন পরিচলন প্রক্রিয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০০ থেকে ২৫০ সেন্টিমিটার বা তারও বেশি। প্রায় প্রতিদিন অপরাহ্ণে বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টিপাত হয়।
৩. আর্দ্রতা ও বায়ুপ্রবাহ: বায়ুতে আপেক্ষিক আর্দ্রতা অত্যন্ত বেশি থাকে (৮০% এর বেশি) এবং এখানে শান্ত বলয় বা নিরক্ষীয় শান্তবলয় বিরাজ করে। ফলে এ অঞ্চলে গভীর চিরহরিৎ অরণ্যের সৃষ্টি হয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' জলবায়ুটি হলো মৌসুমি জলবায়ু, যেখানে ঋতুভেদে বায়ুর দিক ১৮০° পরিবর্তিত হয়। এই জলবায়ুর প্রভাব মানবজীবন ও প্রকৃতির ওপর অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. কৃষিকাজে প্রভাব: মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। গ্রীষ্মকালীন আর্দ্র মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, যা ধান, পাট, চা, গম ইত্যাদি ফসলের উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য। সময়মতো মৌসুমি বৃষ্টি না হলে খরা দেখা দেয় এবং অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বন্যা হয়।
২. জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি: মৌসুমি জলবায়ুর ঋতুভিত্তিক পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদ, খাদ্যাভ্যাস ও উৎসব পালিত হয়। বৃষ্টিপাত কম-বেশির ওপর জনসাধারণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতা নির্ভর করে।
৩. নদ-নদী ও জলবায়ু: মৌসুমি বৃষ্টির কারণে এ অঞ্চলের নদীগুলো বর্ষাকালে পানিতে পূর্ণ থাকে, যা অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সেচকাজে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
৪. উদ্ভিজ্জ ও জীববৈচিত্র্য: মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার কারণে পর্ণমোচী বা পাতাঝরা বনভূমির বিকাশ ঘটেছে, যা জীববৈচিত্র্যের এক সমৃদ্ধ ক্ষেত্র।
সুতরাং বলা যায়, মৌসুমি জলবায়ু এ অঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য এবং মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও