অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
'Y' দেশে ২০১৫ সালে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুদ ছিল। কিন্তু বেকার সমস্যা ছিল প্রকট। জনগণের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। ফলে সে সময় দেশের অনেক লোক ক্ষুধায় কষ্ট পায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার খাদ্য আমদানি বৃদ্ধি এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ভেজাল বিরোধী কার্যক্রম জোরদার করে।
- ক)(1)
নিরাপদ খাদ্য কী?
- খ)(2)
'খাদ্য নিরাপদকরণে জনসাধারণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
'Y' দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় কোন দিকটি বিঘ্নিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের উল্লিখিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গৃহীত সরকারি পদক্ষেপসমূহের যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে খাদ্য মানুষের শারীরিক বৃদ্ধি, সুস্থতা ও জীবনধারণের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত, পুষ্টিকর এবং দূষণ বা ক্ষতিকর উপাদানমুক্ত, তাকে নিরাপদ খাদ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাদ্য নিরাপদকরণ বলতে উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন ও গ্রহণ পর্যন্ত খাদ্যের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করাকে বোঝায়। জনসাধারণ যদি খাদ্য কেনার সময় মেয়াদোত্তীর্ণ ও রাসায়নিকযুক্ত খাবার বর্জন করে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য সংরক্ষণ ও প্রস্তুত করে এবং কোনো খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর উপাদান দেখলে প্রতিরোধ ও অভিযোগ গড়ে তোলে, তবে ভেজাল বা অনিরাপদ খাদ্য প্রতিরোধ সম্ভব হয়। ভোক্তাদের সচেতনতা ও সতর্কতাই খাদ্য নিরাপদকরণের ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'Y' দেশের খাদ্য নিরাপত্তার 'খাদ্য প্রাপ্তি বা খাদ্যে প্রবেশাধিকার' (Food Access) দিকটি বিঘ্নিত হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তার তিনটি মৌলিক দিক রয়েছে—খাদ্যের প্রাপ্যতা (Food Availability), খাদ্যে প্রবেশাধিকার বা ক্রয়ক্ষমতা (Food Access) এবং খাদ্যের ব্যবহার বা উপযোগিতা (Food Utilization)। খাদ্যের প্রাপ্যতা থাকলেও জনগণের হাতে যদি পর্যাপ্ত আয় বা ক্রয়ক্ষমতা না থাকে, তবে তারা প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহ করতে পারে না, যাকে প্রবেশাধিকার বিঘ্নিত হওয়া বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'Y' দেশে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুদ ছিল, অর্থাৎ খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত ছিল। কিন্তু দেশে প্রকট বেকার সমস্যার কারণে জনগণের হাতে কোনো অর্থ ছিল না। ফলে ক্রয়ক্ষমতার অভাবে তারা খাদ্য কিনতে পারেনি এবং অনাহারে ভুগেছে। সুতরাং, সেখানে খাদ্য নিরাপত্তার 'খাদ্যে প্রবেশাধিকার বা প্রাপ্যতা অনুযায়ী ক্রয়ক্ষমতার দিকটি' বিঘ্নিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ পুরোপুরি যথাযথ ও প্রাসঙ্গিক ছিল না।
উদ্দীপকের 'Y' দেশে মূল সংকটটি ছিল বেকারত্ব এবং ক্রয়ক্ষমতার অভাব, খাদ্যের সরবরাহের ঘাটতি বা ভেজাল নয়। দেশের গুদামে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও জনগণ বেকারত্ব ও আয়ের অভাবে খাদ্য কিনতে পারছিল না। কিন্তু সরকার সংকট মোকাবিলায় খাদ্য আমদানি বৃদ্ধি এবং ভেজাল বিরোধী কার্যক্রমের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের যথার্থতা বিচার নিচে করা হলো:
১. খাদ্য আমদানি বৃদ্ধি: দেশে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও নতুন করে খাদ্য আমদানি করা অযৌক্তিক ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়। কারণ খাদ্য সংকটের উৎস সরবরাহের ঘাটতি ছিল না, ছিল ক্রয়ক্ষমতার সংকট।
২. ভেজাল বিরোধী অভিযান: খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ভেজাল বিরোধী কার্যক্রম সবসময় ইতিবাচক হলেও বর্তমান অনাহার পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক ও প্রধান সমাধান এটি ছিল না।উদ্দীপকের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের উচিত ছিল কর্মসংস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করা, অতিদরিদ্রদের মাঝে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে খোলা বাজারে খাদ্য বিতরণ (OMS), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচি জোরদার করা এবং বেকার ভাতা বা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর প্রসার ঘটানো। এর ফলে সাধারণ জনগণের খাদ্য ক্রয়ের সামর্থ্য বৃদ্ধি পেত।
অতএব, সমস্যা নিরূপণ না করে খাদ্য আমদানি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করায় গৃহীত সরকারি পদক্ষেপসমূহ উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে যথাযথ ও কার্যকরী ছিল না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও