যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
ব্যক্ত্যর্থ কাকে বলে?
- খ)(2)
“শব্দ মাত্রই পদ নয়”- কেন?
- গ)(3)
চিত্র-১ এর কলাম ‘ক’ এবং ‘খ’ এর সম্পর্ক পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
- ঘ)(4)
চিত্র-২ এর “দিনাজপুর” পদটিকে কি জাত্যর্থ বলা যায়? বিশ্লেষণসহ মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো পদ একই অর্থে যে বস্তু বা বস্তুসমূহের ওপর আরোপিত হয়, সেই বস্তু বা বস্তুসমষ্টির সংখ্যা বা পরিমাণকে ওই পদের ব্যক্ত্যর্থ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ্যায় পদ হলো এমন একটি শব্দ বা শব্দসমষ্টি, যা কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। অন্যদিকে, ভাষার ভাব প্রকাশের যেকোনো অর্থপূর্ণ ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টিই শব্দ। ব্যাকরণে পদ-অযোগ্য শব্দ (যেমন: হায়!, বাঃ!) বা পদ-সহযোগী শব্দ (যেমন: এবং, ও, কিন্তু, দ্বারা) কখনোই এককভাবে যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হতে পারে না। তাই সব পদই শব্দ হলেও সব শব্দ পদ নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্র-১ এর কলাম ‘ক’ এবং ‘খ’ এর মধ্যে পদের জাত্যর্থ ও ব্যক্ত্যর্থের বিপরীতমুখী পরিবর্তনের সম্পর্ক প্রদর্শিত হয়েছে।
যুক্তিবিদ্যায় জাত্যর্থ বৃদ্ধি পেলে ব্যক্ত্যর্থ হ্রাস পায় এবং জাত্যর্থ হ্রাস পেলে ব্যক্ত্যর্থ বৃদ্ধি পায়। চিত্র-১ এর কলাম ‘ক’-এ জাত্যর্থের বৃদ্ধি দেখানো হয়েছে। যেমন:
১. কেবল ‘বাংলাদেশি’ পদের ক্ষেত্রে গুণ বা জাত্যর্থ নির্দিষ্ট, ফলে এর ব্যক্ত্যর্থ কলাম ‘খ’-এ ১৬ কোটি।
২. যখন ‘বাংলাদেশি’র সাথে ‘শিক্ষিত’ গুণটি যুক্ত হয়ে ‘শিক্ষিত বাংলাদেশি’ হয়, তখন জাত্যর্থ বৃদ্ধি পায় এবং ব্যক্ত্যর্থ হ্রাস পেয়ে হয় ১২ কোটি।
৩. পরবর্তীতে ‘সৎ’ গুণটি যুক্ত হয়ে ‘সৎ শিক্ষিত বাংলাদেশি’ হওয়ায় জাত্যর্থ আরও বৃদ্ধি পায় এবং ব্যক্ত্যর্থ আরও হ্রাস পেয়ে ৯ কোটিতে নেমে আসে।অতএব, কলাম ‘ক’-এ পদের আবশ্যিক গুণ (জাত্যর্থ) ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে কলাম ‘খ’-এ সংশ্লিষ্ট সংখ্যামূলক পরিমাণ বা ব্যক্ত্যর্থ হ্রাস পেয়েছে, যা যুক্তিবিদ্যার ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী পরিবর্তনের নিয়মকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্র-২ এর ‘দিনাজপুর’ পদটিকে জাত্যর্থ বলা যায় না।
যুক্তিবিদ্যায় জাত্যর্থ বলতে কোনো পদের সাধারণ ও আবশ্যিক গুণ বা গুণসমষ্টিকে বোঝায়, যা ওই শ্রেণির সকল সদস্যের মধ্যে সমভাবে বিদ্যমান থাকে। কোনো পদের কেবল ব্যক্ত্যর্থ থাকতে পারে, কেবল জাত্যর্থ থাকতে পারে, আবার উভয়ই থাকতে পারে।
চিত্র-২ এ উল্লেখিত ‘দিনাজপুর’ একটি বিশিষ্ট নামবাচক পদ (Proper Name)। বিশিষ্ট নামবাচক পদ দ্বারা কেবল একটি নির্দিষ্ট স্থান বা ব্যক্তি বা বস্তুকে সরাসরি নির্দেশ করা হয়, কোনো বিশেষ শ্রেণিগত গুণকে বোঝানো হয় না। বিশিষ্ট যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল (J.S. Mill)-এর মতে, নামবাচক পদের কোনো জাত্যর্থ থাকে না; এর কেবল ব্যক্ত্যর্থ থাকে। কারণ ‘দিনাজপুর’ নামটি কোনো নির্দিষ্ট গুণ নির্দেশ করে না, বরং এটি একটি সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চল বা জেলাকে শনাক্তকারী কেবল একটি প্রতীক বা নাম মাত্র।
অতএব, যেহেতু ‘দিনাজপুর’ পদটি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণিগত আবশ্যিক গুণের সমাবেশ প্রকাশ করে না, তাই এটিকে জাত্যর্থ বলা যাবে না; এটি কেবল একটি ব্যক্ত্যর্থসম্পন্ন বিশিষ্ট নামবাচক পদ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও