যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃষ্টান্ত-১: সকল হাতি হয় প্রাণী দৃষ্টান্ত-২: সকল কাক হয় কালো দৃষ্টান্ত-৩: কিছু পাখি হয় সুকণ্ঠি

  1. ক)

    বিধেয়ক কী?

    (1)
  2. খ)

    বিধেয় ও বিধেয়ক এক নয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃষ্টান্ত-১ এ কোন ধরনের বিধেয়কের প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বিধেয়কের আলোকে দৃষ্টান্ত-২ ও দৃষ্টান্ত-৩ এর মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি সদর্থক যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যে যে যুক্তিগত বা ধারণাগত সম্পর্ক থাকে, তাকে বিধেয়ক বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিধেয় হলো যুক্তিবাক্যের একটি পদ যা উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করে। পক্ষান্তরে, বিধেয়ক হলো সদর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক। বিধেয় একটি বাস্তব পদ যা বাক্যে সরাসরি অবস্থান করে, কিন্তু বিধেয়ক কোনো পদ নয়—এটি সম্পর্কের রূপ। এছাড়া নঞর্থক বাক্যে বিধেয় থাকে কিন্তু কোনো বিধেয়ক থাকে না। তাই বিধেয় ও বিধেয়ক এক নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃষ্টান্ত-১ ("সকল হাতি হয় প্রাণী")-এ 'জাতি' (Genus) নামক বিধেয়কের প্রকাশ ঘটেছে।

    দুটি শ্রেণিবাচক পদের মধ্যে যখন একটি অপরটির তুলনায় অধিক ব্যাপক হয় এবং কম ব্যাপক শ্রেণিটি অধিক ব্যাপক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হয়, তখন বৃহত্তর শ্রেণিটিকে ক্ষুদ্রতর শ্রেণির জাতি বলে। এখানে 'প্রাণী' পদটি একটি বৃহত্তর শ্রেণি এবং 'হাতি' পদটি তার অন্তর্ভুক্ত একটি সংকীর্ণ উপশ্রেণি। ফলে বিধেয় পদ 'প্রাণী' উদ্দেশ্য পদ 'হাতি'-র তুলনায় অধিক ব্যক্ত্যর্থসম্পন্ন এবং উদ্দেশ্যকে নিজের মধ্যে ধারণ করে। তাই দৃষ্টান্ত-১ এ বিধেয়কটি হলো জাতি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-২ হলো "সকল কাক হয় কালো" এবং দৃষ্টান্ত-৩ হলো "কিছু পাখি হয় সুকণ্ঠি"। বিধেয়কের দৃষ্টিকোণ থেকে এ দুটির মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ সম্পর্ক ও পার্থক্য রয়েছে।

    দৃষ্টান্ত-২ এর ক্ষেত্রে:
    এখানে উদ্দেশ্য 'কাক' এবং বিধেয় 'কালো'। 'কালো' গুণটি কাকের কোনো জাত্যর্থ নয়, বরং একটি অপরিবর্তনীয় ও শ্রেণিগত লক্ষণ। কাকের ক্ষেত্রে বর্ণ কালো হওয়া একটি 'অবিচ্ছেদ্য ব্যক্তিগত/শ্রেণিগত উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণ' (Accident)। যেহেতু সকল কাকের ক্ষেত্রেই কালো বর্ণটি সার্বক্ষণিকভাবে বিদ্যমান এবং এটি ছাড়া কাকের বাস্তব অস্তিত্ব সাধারণত দেখা যায় না, তাই এটি অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ (Inseparable Accident)।

    দৃষ্টান্ত-৩ এর ক্ষেত্রে:
    এখানে উদ্দেশ্য 'পাখি' এবং বিধেয় 'সুকণ্ঠি'। সুকণ্ঠ হওয়া পাখির কোনো আবশ্যিক বা শ্রেণিগত মৌলিক লক্ষণ নয়। এটি কিছু পাখির মধ্যে থাকে এবং কিছু পাখির মধ্যে থাকে না। অর্থাৎ ব্যক্তি বা প্রজাতিভেদে এই গুণের পরিবর্তন ঘটে। ফলে এটি একটি 'বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ' (Separable Accident)।

    তুলনা:
    ১. দৃষ্টান্ত-২ এ বিধেয়টি উদ্দেশ্য শ্রেণির সবার ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে প্রযোজ্য (অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ), কিন্তু দৃষ্টান্ত-৩ এ বিধেয়টি কেবল কিছু সদস্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং পরিবর্তনশীল (বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ)।
    ২. দৃষ্টান্ত-২ সার্বিক সদর্থক বিধায় পুরো শ্রেণির সাথে বিধেয়কের সম্পর্ক নির্দেশ করে, কিন্তু দৃষ্টান্ত-৩ বিশেষ সদর্থক হওয়ায় আংশিক বিষয়ের সাথে অবান্তর লক্ষণের সম্পর্ক প্রকাশ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন