ভূগোল ১ম পত্র • বায়ুমণ্ডল ও বায়ু দূষণ • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
সমমণ্ডল কাকে বলে?
- খ)(2)
জীবজগতের জন্য ট্রপোমণ্ডল গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' স্তরের বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' ও 'C' স্তরের তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের গ্যাসীয় উপাদানগুলোর অনুপাত প্রায় অপরিবর্তিত থাকে, বায়ুমণ্ডলের এই অংশকে সমমণ্ডল (Homosphere) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ট্রপোমণ্ডল বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের এবং গুরুত্বপূর্ণ স্তর, কারণ জীবজগতের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সমস্ত আবহাওয়া ও বায়বীয় উপাদান এই স্তরে বিদ্যমান। বায়ুমণ্ডলের মোট ওজনের প্রায় ৭৫ ভাগ এবং প্রায় সমস্ত জলীয় বাষ্প ও ধূলিকণা ট্রপোমণ্ডলেই থাকে। মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, ঝড়, শিশির ইত্যাদি সমস্ত আবহাওয়াজনিত প্রক্রিয়া এই স্তরেই ঘটে থাকে, যা পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং জীবজগতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই জীবজগতের জন্য ট্রপোমণ্ডল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' স্তরটি হলো বায়ুমণ্ডলের 'এক্সোমণ্ডল' (Exosphere), কারণ এখানে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসের প্রাধান্য থাকে।
'A' স্তর বা এক্সোমণ্ডলের বর্ণনা:
১. অবস্থান ও বিস্তার: তাপমণ্ডলের ঠিক ওপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার উচ্চতা থেকে প্রায় ৭৫০ বা ১০০০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত বায়বীয় স্তরকে এক্সোমণ্ডল বলে।
২. বায়বীয় উপাদান: এই স্তরে বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত পাতলা বা লঘু থাকে। এখানে মূলত হাইড্রোজেন (H) ও হিলিয়াম (He) গ্যাসের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
৩. তাপমাত্রা: স্তরটির নিচের অংশের তাপমাত্রা তাপমণ্ডলের মতো উচ্চ থাকে এবং ওপরের দিকে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় মহাকাশের চরম শূন্যতায় বিলীন হয়।
৪. কণার ঘনত্ব: এই স্তরে গ্যাসীয় অণু ও পরমাণুগুলোর ঘনত্ব এতটাই কম যে তারা প্রায় সংঘর্ষহীন অবস্থায় মহাকাশে বিচরণ করে এবং এদের কিছু অংশ পৃথিবীর মহাকর্ষ কাটিয়ে মহাশূন্যে হারিয়ে যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'B' স্তরটিতে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়, অর্থাৎ এটি 'তাপমণ্ডল/আয়নমণ্ডল' (Thermosphere/Ionosphere) এবং 'C' স্তরে মহাজাগতিক উল্কা পুড়ে ছাই হয়ে যায়, অর্থাৎ এটি 'মেসোমণ্ডল' (Mesosphere)। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অবস্থান ও বিস্তার: মেসোমণ্ডল (C) স্ট্রাটোবিরতির ওপর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত। অপরদিকে, মেসোপজের ওপরে প্রায় ৮০ কিলোমিটার থেকে ৫০০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমণ্ডল বা আয়নমণ্ডল (B) বিস্তৃত।
২. তাপমাত্রার পরিবর্তন: মেসোমণ্ডলে (C) উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুর তাপমাত্রা দ্রুত হ্রাস পায় এবং এর শেষ প্রান্তে প্রায় -৮৩° সেলসিয়াস বা তারও নিচে নেমে যায়, যা বায়ুমণ্ডলের শীতলতম স্থান। পক্ষান্তরে, তাপমণ্ডলে (B) অতিবেগুনি ও এক্স-রশ্মি শোষণের ফলে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ১,২০০° থেকে ১,৫০০° সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায়।
৩. আয়নিত অবস্থা ও বেতার যোগাযোগ: তাপমণ্ডলের (B) নিচের অংশটি সৌর বিকিরণের তীব্র প্রভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে (যা আয়নমণ্ডল নামে পরিচিত)। এই আয়নিত কণার স্তর থেকেই ভূপৃষ্ঠের বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসে এবং বেতার যোগাযোগ সম্ভব করে। তবে মেসোমণ্ডলে (C) এ ধরনের কোনো শক্তিশালী আয়নিত স্তর থাকে না।
৪. উল্কাপাত প্রতিরোধ: মহাশূন্য থেকে ধাবিত উল্কাপিণ্ডগুলো যখন পৃথিবীতে প্রবেশ করে, তখন মেসোমণ্ডলের (C) বাতাসের সাথে তীব্র ঘর্ষণে পুড়ে ভস্মীভূত হয়, যা পৃথিবীকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। তাপমণ্ডল অতিক্রম করে মেসোমণ্ডলে পৌঁছালে বায়ুর ঘর্ষণ বেশি তীব্র হয় বলেই উল্কা এখানে জ্বলে ওঠে।
অতএব, বৈশিষ্ট্য ও কার্যকারিতার দিক থেকে 'B' (তাপমণ্ডল) স্তর মানব যোগাযোগ ব্যবস্থায় এবং 'C' (মেসোমণ্ডল) স্তর পৃথিবীকে মহাজাগতিক উল্কার আঘাত থেকে রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও