ভূগোল ১ম পত্র • জলবায়ুর উপাদান ও নিয়ামক • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    বায়ুপ্রবাহ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বিশ্ব উষ্ণায়ন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'A' বায়ুপ্রবাহের বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে কোন বায়ুপ্রবাহের সাথে বাংলাদেশের জলবায়ুর সম্পর্ক রয়েছে? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চাপের পার্থক্যের কারণে বায়ুমণ্ডলের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ুর অনুভূমিক চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) বলতে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়াকে বোঝায়।

    জীবাশ্ম জ্বালানির মাত্রাতিরিক্ত দহন, নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংস এবং শিল্পকারখানার প্রসারের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসসমূহ (যেমন- কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, সিএফসি ইত্যাদি) বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব গ্যাস পৃথিবী থেকে প্রতিফলিত তাপ বিকিরণ শোষণ ও আটকে রেখে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক উষ্ণতাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণতা বৃদ্ধির ঘটনাকেই বিশ্ব উষ্ণায়ন বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'A' চিহ্নিত বায়ুপ্রবাহটি হলো 'নিয়ত বায়ু' (Planetary/Permanent Wind), কারণ এটি 'নিয়মিত প্রবাহিত হয়'।

    পৃথিবীর বিভিন্ন স্থায়ী উচ্চচাপ ও নিম্নচাপ বলয়ের মধ্যে সারা বছর ধরে নির্দিষ্ট দিকে এবং নিয়মিত গতিতে প্রবাহিত বায়ুকে নিয়ত বায়ু বলা হয়। নিয়ত বায়ু মূলত তিন প্রকার:
    ১. অয়ন বায়ু (Trade Wind): উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে বছরজুড়ে নিয়মিতভাবে যে বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে অয়ন বায়ু বলে। উত্তর গোলার্ধে এটি উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু হিসেবে প্রবাহিত হয়।
    ২. পশ্চিমা বায়ু (Westerlies): উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে উপমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে পশ্চিমা বায়ু বলে। উত্তর গোলার্ধে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম এবং দক্ষিণ গোলার্ধে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়।
    ৩. মেরু বায়ু (Polar Wind): মেরুদেশীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে উপমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে যে অত্যন্ত শীতল ও ভারী বায়ু নিয়মিত প্রবাহিত হয়, তাকে মেরু বায়ু বলে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'C' চিহ্নিত বায়ুপ্রবাহটির সাথে বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। উদ্দীপকে C বায়ুপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য বলা হয়েছে 'সময়ভেদে দিক পরিবর্তন করে', যা 'সাময়িক বায়ু' (বিশেষত মৌসুমি বায়ু)-কে নির্দেশ করে।

    বাংলাদেশের জলবায়ু মূলত ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর অন্তর্গত। আরবি 'মৌসিম' শব্দের অর্থ ঋতু। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে যে বায়ু দিক পরিবর্তন করে, তাকে মৌসুমি বায়ু বলে। বাংলাদেশের জলবায়ু ও ঋতুচক্রের প্রায় সমস্ত বৈশিষ্ট্যই এই বায়ুর ওপর নির্ভরশীল:

    ১. বর্ষাকাল ও বৃষ্টিপাত: গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এর ফলে দেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, যা দেশের মোট বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭০-৮০ ভাগ।
    ২. শীতকালের শুষ্কতা: শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু শুষ্ক স্থলভাগ (হিমালয় অঞ্চল) অতিক্রম করে আসে বলে এতে জলীয় বাষ্প থাকে না। ফলে এ সময় দেশে শুষ্ক ও শীতল আবহাওয়া বিরাজ করে।
    ৩. কৃষি ও অর্থনীতি: বাংলাদেশের কৃষিব্যবস্থা এবং জীবনযাত্রা মূলত মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

    অতএব, উদ্দীপকের 'C' অর্থাৎ সাময়িক বা মৌসুমি বায়ুর সাথেই বাংলাদেশের সামগ্রিক জলবায়ুর নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন