ভূগোল ১ম পত্র • পৃথিবীর গঠন • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    ভূত্বক কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    পাদদেশীয় মালভূমি কীভাবে সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'B' চিহ্নিত স্তরের বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'A' ও 'C' চিহ্নিত স্তর দুটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায়, তাকে ভূত্বক (Crust) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উচ্চ পর্বত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে পর্বতের পাদদেশে পলি বা অন্যান্য ক্ষয়জাত পদার্থ সঞ্চিত হয়ে অথবা লাভা সঞ্চিত হয়ে যে মালভূমির সৃষ্টি হয়, তাকে পাদদেশীয় মালভূমি বলে।

    সাধারণত বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ এবং হিমবাহের মতো প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে পর্বতের উপরিভাগ ক্ষয় হয়ে পাদদেশে সঞ্চিত হয়। কালক্রমে তা বিস্তৃত ও উঁচু হয়ে সমতল ভূভাগে পরিণত হয়। উত্তর আমেরিকার কলোরাডো ও দক্ষিণ আমেরিকার পাতাগোনিয়া এ ধরনের মালভূমির উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ভূ-অভ্যন্তরের তিনটি স্তরের মধ্যে 'B' চিহ্নিত মাঝের স্তরটি হলো 'গুরুমণ্ডল' (Mantle)।

    ভূত্বকের ঠিক নিচ থেকে শুরু করে কেন্দ্রমণ্ডলের ওপর পর্যন্ত প্রায় ২,৮৮৫ কিমি পুরু স্তরটিকে গুরুমণ্ডল বলে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. গঠন উপাদান: এ স্তরটি মূলত ব্যাসল্ট জাতীয় ভারী শিলা দ্বারা গঠিত। এতে সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকায় একে সংক্ষেপে 'সীমা' (SIMA) বলা হয়ে থাকে।
    ২. উপস্তর: গুরুমণ্ডল দুটি ভাগে বিভক্ত—
    ক. ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল: এর বিস্তার ভূত্বক থেকে প্রায় ৭০০ কিমি গভীর পর্যন্ত। এই অংশের শিলা আংশিক গলিত বা নমনীয় অবস্থায় থাকে, যা অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার নামে পরিচিত।
    খ. নিম্ন গুরুমণ্ডল: ৭০০ কিমি থেকে কেন্দ্রমণ্ডলের উপরিভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত স্তরটি অপেক্ষাকৃত দৃঢ় এবং প্রধানত লোহা ও ম্যাগনেসিয়ামের সিলিকেট দিয়ে গঠিত।
    ৩. তাপমাত্রা ও চাপ: গুরুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা ভূত্বকের চেয়ে অনেক বেশি (প্রায় ১০০০° সেলসিয়াস থেকে ৩০০০° সেলসিয়াস পর্যন্ত) এবং গভীরতা বৃদ্ধির সাথে সাথে চাপ বৃদ্ধি পায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'A' চিহ্নিত উপরের স্তরটি হলো 'অশ্মমণ্ডল বা ভূত্বক' (Crust) এবং 'C' চিহ্নিত সর্বনিম্ন স্তরটি হলো 'কেন্দ্রমণ্ডল' (Core)। এদের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. অবস্থান ও বিস্তার:

    • ভূত্বক (A): এটি পৃথিবীর সর্ববহিঃস্থ পাতলা কঠিন আবরণ। এর গড় পুরুত্ব প্রায় ১৭ কিলোমিটার (মহাদেশীয় অঞ্চলে গড়ে ৩৫ কিমি এবং মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ৫ কিমি)।
    • কেন্দ্রমণ্ডল (C): এটি গুরুমণ্ডলের নিচে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত সর্বাপেক্ষা ভেতরের স্তর। এর ব্যাসার্ধ প্রায় ৩,৪৮৬ কিলোমিটার।

    ২. উপস্তর:

    • ভূত্বককে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়: শিয়াল (SIAL - সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম) এবং সীমা (SIMA - সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম)।
    • কেন্দ্রমণ্ডলও দুটি ভাগে বিভক্ত: বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল (তরল বা সান্দ্র অবস্থা, প্রায় ২,২৭০ কিমি পুরু) এবং অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল (কঠিন অবস্থা, প্রায় ১,২১৬ কিমি পুরু)।

    ৩. উপাদান:

    • ভূত্বক হালকা মৌল যেমন সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, অক্সিজেন, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।
    • কেন্দ্রমণ্ডল প্রধানত অত্যন্ত ভারী ও ঘন মৌল লোহা (Fe) ও নিকেল (Ni) দ্বারা গঠিত, যাকে সংক্ষেপে 'নাইফ' (NIFE) বলা হয়।

    ৪. তাপমাত্রা, চাপ ও ঘনত্ব:

    • ভূত্বকের গড় ঘনত্ব কম (২.৬ থেকে ৩.০ গ্রাম/ঘনসেমি) এবং তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম।
    • কেন্দ্রমণ্ডলের গড় ঘনত্ব অনেক বেশি (১০ থেকে ১৩ গ্রাম/ঘনসেমি) এবং এর তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি (প্রায় ৪০০০° থেকে ৫০০০° সেলসিয়াস বা তারও বেশি)। অতিরিক্ত চাপের কারণে এর অন্তঃঅংশ কঠিন অবস্থায় বিদ্যমান।

    সুতরাং, অবস্থান, উপাদান, ঘনত্ব ও অবস্থার দিক থেকে 'A' (ভূত্বক) এবং 'C' (কেন্দ্রমণ্ডল) পরস্পর সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন