সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

সহপাঠ প্রশ্ন

হোসেন মিয়া বিশাল সম্পত্তির অধিকারী। তার চার ছেলে সবাই প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্বার্থের জন্য কৌশলী মনোভাবের অধিকারী। হোসেন মিয়া সবকিছু বুঝতে পারলেও সন্তান হিসেবে তাদেরকে বার বার ক্ষমা করে দেন। তার এই অপরিসীম কোমল মনোভাবের কারণে একসময় ছেলেরা গোপনে পুরো সম্পত্তি অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয় এবং শেষ পরিণতিতে হোসেন মিয়া রাস্তায় নেমে আসেন।

  1. ক)

    'মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন সেনাপতি'- এখানে সেনাপতির নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    'আমার শেষ যুদ্ধ পলাশিতেই'- উক্তিটি কে, কখন এবং কাকে করেছিলেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের হোসেন মিয়ার অপরিসীম মহানুভবতা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মূল কারণ। মন্তব্যটি যথার্থতা বিচার করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "সবাই মিলে সত্যিই আমরা বাংলাকে বিক্রি করে দিচ্ছি না তো?"- বক্তব্যটি উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ধৃত সংলাপে সেনাপতির নাম মীরজাফর।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি নবাব সিরাজউদ্দৌলা পলাশির যুদ্ধে মীরমদন নিহত হওয়ার পর ঘাতক ও চক্রান্তকারী সেনাপতি মীরজাফরকে লক্ষ্য করে গভীর হতাশা ও আক্ষেপ নিয়ে করেছিলেন।
    যুদ্ধের মাঠে প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের নিষ্ক্রিয়তা ও বিশ্বাসঘাতকতা সিরাজ বুঝতে পেরেছিলেন। মীরমদনের বীরত্বপূর্ণ মৃত্যুর পর যখন যুদ্ধ জয় প্রায় নিশ্চিত ছিল, তখন মীরজাফর ছলনা করে নবাবকে যুদ্ধ বন্ধের পরামর্শ দেন। সিরাজ মীরজাফরের অসৎ উদ্দেশ্য উপলব্ধি করতে পেরে এবং নিজের চরম দুর্ভাগ্য আঁচ করতে পেরে উপলব্ধি করেন যে তাঁর ভাগ্য ও বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার শেষ যুদ্ধক্ষেত্র হবে এই পলাশিই।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের হোসেন মিয়ার অন্ধ সন্তানস্নেহ ও অতিরিক্ত ক্ষমাশীলতা যেমন তাঁর চরম বিপর্যয়ের কারণ হয়েছিল, তেমনি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার চক্রান্তকারীদের প্রতি অতিরিক্ত সহনশীলতা ও মহানুভবতা তাঁর পতনের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল— তাই মন্তব্যটি যথার্থ।

    নাটকে দেখা যায়, মীরজাফর, ঘসেটি বেগম ও রাজবল্লভদের দফায় দফায় চক্রান্ত প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও সিরাজ তাঁদের উপযুক্ত কঠোর শাস্তি দেননি। দেশের ঐক্যের স্বার্থে তিনি বারবার মীরজাফরকে ক্ষমা করেছেন, কুরআন ছুঁয়ে শপথ করিয়ে পুনরায় প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব দিয়েছেন। নবাবের এই মাত্রাতিরিক্ত মহানুভবতা ও বিশ্বাসপ্রবণতাকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে মীরজাফররা ইংরেজদের সাথে গোপন আঁতাত চালিয়ে যায় এবং পলাশির প্রান্তরে নবাবের সাথে চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা করে। ফলে হোসেন মিয়ার মতো সিরাজের এই অতিরিক্ত কোমল মনোভাবই তাঁর ও বাংলার পতন ত্বরান্বিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রশ্নোত্ত উদ্ধৃতিটি রাজবল্লভ নবাবের দরবারে চক্রান্তের এক পর্যায়ে মীরজাফর ও অন্যান্য চক্রান্তকারীদের অন্ধ লোভের পরিণতি বোঝাতে উচ্চারণ করেছিলেন। উদ্দীপক ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ব্যক্তি-স্বার্থের কারণে সমষ্টির অমূল্য সম্পদ অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার অভিন্ন সত্য প্রতিফলিত হয়েছে।

    উদ্দীপকে চার ভাই নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ ও সুবিধার জন্য তাদের বাবার অজান্তে পৈতৃক সম্পত্তি অপরের কাছে গোপনে বিক্রি করে বাবাকে পথের ভিখারি বানায়। একইভাবে নাটকে মীরজাফর, জগৎশেঠ, উমিচাঁদ ও রাজবল্লভরা নিজেদের ক্ষমতা ও সম্পদের লোভে ইংরেজ বণিকদের সাথে হাত মেলায় এবং স্বাধীন বাংলার সার্বভৌমত্বকে রবার্ট ক্লাইভের কাছে বিকিয়ে দেয়। তারা ভেবেছিল ইংরেজরা কেবল বাণিজ্যিক সুবিধা নিয়ে চলে যাবে, কিন্তু বাস্তবে তারা পুরো বাংলাকেই বিক্রি করে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে। সুতরাং, উদ্দীপকের সম্পত্তি বিক্রির সাথে নাটকের দেশের স্বাধীনতা বিকিয়ে দেওয়ার গভীর মিল থাকায় প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি উভয় প্রেক্ষাপটেই যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন