ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

রাজা ধর্মপাল রাজস্ব ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় ও সমৃদ্ধ করেছিলেন। তবে তার পুত্র দেবপাল ক্ষমতায় আরোহণ করে রাজ্য বিস্তারে মনোযোগী হন। তিনি পূর্ব ও দক্ষিণে অনেকগুলো সফল অভিযানের। মাধ্যমে বিশাল পাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। দেবপালের প্রতিটি অভিযানে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছিলেন তার দুইজন বিশ্বস্ত মন্ত্রী ও কিছুসংখ্যক দক্ষ সেনাপতি।

  1. ক)

    কাকে আরব বিশ্বের প্রথম রাজা বলা হয়?

    (1)
  2. খ)

    খলিফা আবদুল মালিককে 'রাজেন্দ্র' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা। করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রাজা ধর্মপালের সাথে খলিফা আবদুল মালিকের। কোন কর্মকাণ্ডের সামঞ্জস্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের রাজা দেবপালের মতোই খলিফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিক শ্রেষ্ঠ বিজেতা ছিলেন- উক্তিটির যথার্থতা। বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা মুয়াবিয়া (রা.)-কে আরব বিশ্বের প্রথম রাজা বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিককে 'রাজেন্দ্র' বা 'সম্রাটদের পিতা' (Father of Kings) বলা হয়, কারণ তাঁর চারজন সুযোগ্য পুত্র পর্যায়ক্রমে উমাইয়া সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন। তাঁর পরবর্তী চার পুত্র হলেন—আল-ওয়ালিদ, সুলায়মান, দ্বিতীয় ইয়াজিদ এবং হিশাম। তাঁদের দক্ষ শাসনে উমাইয়া খিলাফত এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ে প্রবেশ করে। রাজপরিবারের উত্তরসূরিদের এমন রাজকীয় সাফল্যের কারণেই ঐতিহাসিকগণ তাঁকে 'রাজেন্দ্র' অভিধায় ভূষিত করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের রাজা ধর্মপালের রাজস্ব ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় ও সমৃদ্ধ করার কর্মকাণ্ডের সাথে খলিফা আবদুল মালিকের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    খলিফা আবদুল মালিক সিংহাসনে আরোহণের পর অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা দমন করে সাম্রাজ্যের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে মনোনিবেশ করেন। তিনি রাজস্ব ব্যবস্থার ত্রুটি সংশোধন করেন, মুসলিম ও অমুসলিম প্রজাদের জন্য বৈষম্যহীন নতুন করনীতি নির্ধারণ করেন এবং খাঁটি আরবি মুদ্রা চালু করে বাণিজ্য ও রাজস্বের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আনেন।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, রাজা ধর্মপাল রাজ্য বিস্তারের চেয়ে রাজস্ব ব্যবস্থার ভিত্তি সুদৃঢ় ও সমৃদ্ধ করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। একইভাবে খলিফা আবদুল মালিকও উমাইয়া খিলাফতের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ভিত্তি সুসংহত করে রাজস্ব ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছিলেন। সুতরাং, অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব অর্জন ও রাজস্ব সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে উভয়ের কর্মকাণ্ডের স্পষ্ট সামঞ্জস্য লক্ষণীয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের রাজা দেবপালের মতোই খলিফা আল-ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিক উমাইয়া বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজেতা ছিলেন—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, রাজা দেবপাল সিংহাসনে আরোহণ করে বিশ্বস্ত মন্ত্রী ও দক্ষ সেনাপতিদের সহযোগিতায় সফল সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন।

    অনুরূপভাবে, উমাইয়া খলিফা আল-ওয়ালিদ তাঁর পিতা আবদুল মালিকের সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে সাম্রাজ্য বিস্তারে সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। তিনি দক্ষ সেনাপতিদের পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছিলেন। তাঁর সময়ে সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধু ও মুলতান জয় করে ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের সূচনা করেন; সেনাপতি কুতাইবা বিন মুসলিম মধ্য এশিয়ার বোখারা, সমরকন্দ ও খোয়ারিজম জয় করেন; এবং বিখ্যাত সেনাপতি মুসা বিন নুসায়ের ও তারিক বিন জিয়াদ উত্তর আফ্রিকা পেরিয়ে স্পেন (আন্দালুসিয়া) জয় করেন। ফলে তাঁর আমলে উমাইয়া সাম্রাজ্য পূর্বে সিন্ধু নদ থেকে পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

    সুতরাং, উপযুক্ত সেনাপতি ও সুপরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উদ্দীপকের দেবপালের রাজ্যবিস্তারের সাথে খলিফা আল-ওয়ালিদের শ্রেষ্ঠ বিজেতাসুলভ কৃতিত্বের পূর্ণ সাদৃশ্য রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন