অর্থনীতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
‘অ’ দেশে অনেকগুলো তেলের বৃহৎ খনি আবিষ্কৃত হওয়ায় বিদেশি তেল উত্তোলনকারী কিছু কোম্পানি ঐ দেশের সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তেল উত্তোলন শুরু করে। এ কার্যক্রমে সরকারি তেল উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানও যুক্ত হয়। এসব কাজে দেশি-বিদেশি প্রচুর লোক নিয়োজিত হওয়ায় মানুষের আয় বৃদ্ধি পায়। আবার ভবিষ্যৎ চিন্তা থেকে মানুষের সঞ্চয়ের আগ্রহও বৃদ্ধি পায়। দেশে ব্যাংক বিমাসহ নানা রকম আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিকশিত হয় । কিন্তু তেল ছাড়া অন্যান্য উৎপাদন ক্ষেত্র সেভাবে বিকশিত না হওয়ায় ব্যাংক অলস জমার পরিমাণ বাড়তে থাকে । অথচ জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় দেশীয় কৃষি, শিল্প, ব্যবসায়-বাণিজ্যে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হলে এমনটি হতো না ।
- ক)(1)
মূলধন কাকে বলে?
- খ)(2)
‘চলতি মূলধনকে আবর্তিত মূলধনও বলা হয়’– কারণ কী?
- গ)(3)
‘অ' দেশে মূলধন গঠনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও নেতিবাচক ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করো ।
- ঘ)(4)
‘অ’ দেশের সঞ্চয়কে মূলধনে রূপান্তরের উপায় নিয়ে তোমার মতামত উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষের শ্রমের দ্বারা উৎপাদিত যে অংশ পুনরায় অধিকতর উৎপাদন কাজে ব্যবহার করা হয়, তাকে মূলধন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে মূলধন উৎপাদন প্রক্রিয়ায় মাত্র একবার ব্যবহৃত হয়ে নিঃশেষ হয়ে যায় বা রূপ পরিবর্তন করে, তাকে চলতি মূলধন বলে; যেমন—কাঁচামাল, জ্বালানি ইত্যাদি।
চলতি মূলধন বিক্রয়লব্ধ অর্থের মাধ্যমে পুনরায় আবর্তিত হয়ে কারবারে ফিরে আসে। অর্থাৎ, নগদ অর্থ কাঁচামালে রূপান্তরিত হয়, উৎপাদিত পণ্য বিক্রির মাধ্যমে আবার নগদ অর্থে ফিরে আসে এবং পুনরায় কাঁচামাল কেনায় ব্যবহৃত হয়। এভাবে চক্রাকারে আবর্তিত হয়ে উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখে বলেই চলতি মূলধনকে আবর্তিত মূলধনও বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'অ' দেশে মূলধন গঠনের প্রক্রিয়ায় কিছু ইতিবাচক এবং কিছু নেতিবাচক ক্ষেত্র স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
মূলধন গঠনের তিনটি প্রধান ধাপ হলো সঞ্চয়ের সৃষ্টি, সঞ্চয় সংগ্রহ এবং সেই সঞ্চয়কে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে রূপান্তর করা।
ইতিবাচক ক্ষেত্রসমূহ:
১. তেল খনি আবিষ্কার ও উত্তোলন কার্যক্রমে দেশি-বিদেশি প্রচুর লোকের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি পাওয়া।
২. জনগণের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার চিন্তা থেকে সঞ্চয়ের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়া (সঞ্চয় সৃষ্টি)।
৩. দেশে ব্যাংক, বিমাসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিকাশ ঘটা, যা জনগণের বিক্ষিপ্ত সঞ্চয় সংগ্রহে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।নেতিবাচক ক্ষেত্রসমূহ:
১. তেল উত্তোলন ছাড়া অন্যান্য উৎপাদনশীল খাত (যেমন: কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য) পর্যাপ্ত পরিমাণে বিকশিত না হওয়া।
২. আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহে সংগৃহীত সঞ্চয় বিনিয়োগে রূপান্তরিত না হয়ে ব্যাংকে 'অলস জমা' (Idle money) হিসেবে পড়ে থাকা।অর্থাৎ, 'অ' দেশে সঞ্চয় সৃষ্টি ও সঞ্চয় সংগ্রহের ইতিবাচক পরিবেশ থাকলেও বিনিয়োগের সুযোগের অভাবে সঞ্চয় মূলধনে রূপান্তরের ধাপটি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা মূলধন গঠনের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান নেতিবাচক দিক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে 'অ' দেশের অলস সঞ্চয়কে কার্যকরী মূলধনে রূপান্তরের জন্য কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বহুমুখী বিনিয়োগ ক্ষেত্র তৈরি করাই হলো প্রধান উপায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'অ' দেশে আয় ও সঞ্চয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকিং খাতে প্রচুর তহবিল জমা হয়েছে, কিন্তু বিকল্প বিনিয়োগ খাতের অভাবে তা অলস পড়ে রয়েছে। এটি প্রকৃত মূলধন সৃষ্টিতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। সঞ্চয়কে মূলধনে রূপান্তরের জন্য নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা জরুরি:
১. জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি: উদ্দীপকে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে আধুনিক কৃষি, বৃহৎ ও ক্ষুদ্র শিল্প এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটাতে হবে। এতে বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
২. অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ: শুধু তেল খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদনশীল অন্যান্য খাতে সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
৩. ঋণের সহজলভ্যতা ও সুদের হার সমন্বয়: অলস জমা কাজে লাগানোর জন্য উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. অবকাঠামোগত উন্নয়ন: যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটালে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শিল্প স্থাপনে উৎসাহিত হবে।পরিশেষে বলা যায়, ব্যাংকে পুঞ্জীভূত অলস সঞ্চয় নিজে থেকে মূলধন হতে পারে না; উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী কৃষি, শিল্প ও ব্যবসায় উৎপাদনশীল বিনিয়োগ ঘটাতে পারলেই 'অ' দেশের সঞ্চয় প্রকৃত মূলধনে পরিণত হবে এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও