উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন
জান এগ্রোভেট' ম্যাংগো জুস উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠান। তারা তাদের উৎপাদিত জুস বিপণনের লক্ষ্যে প্রতিটি জেলা শহরে এজেন্ট নিয়োগ করে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের পাইকাররা এজেন্টদের কাছ থেকে জুস সংগ্রহ করে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে। অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে জুসের মূল্য বাড়ায়। এতে ভোক্তারা ঐ পণ্য কিনতে নিরুৎসাহিত হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ে।
- ক)(1)
মধ্যস্থব্যবসায়ী কে?
- খ)(2)
'দালাল পণ্যের মালিকানা নেয় না'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি জুস বিপণনে কোন ধরনের বণ্টন প্রণালি ব্যবহার করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বর্তমান সমস্যা সমাধানে 'জান এগ্রোভেট' কোম্পানির করণীয় কী? যুক্তিসহ মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদনকারী ও চূড়ান্ত ভোক্তা বা ব্যবহারকারীর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করে যারা পণ্য বা সেবা বণ্টন কাজে সহায়তা করে, তাদের মধ্যস্থব্যবসায়ী বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দালাল হলো এমন এক ধরনের কার্যভিত্তিক মধ্যস্থতাকারী, যে পণ্যের মালিকানা গ্রহণ না করে কেবল ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যোগাযোগ ঘটিয়ে দেয় এবং চুক্তি সম্পাদনে সহায়তা করে। দালাল মূলত তার প্রদত্ত সেবার বিনিময়ে নির্দিষ্ট হারে কমিশন বা দালালি পেয়ে থাকে; পণ্যের কোনো স্বত্ব বা ঝুঁকি নিজের ওপর নেয় না। তাই বলা হয়, দালাল পণ্যের মালিকানা নেয় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি জুস বিপণনে পরোক্ষ বণ্টন প্রণালির অন্তর্ভুক্ত 'উৎপাদক → এজেন্ট → পাইকার → খুচরা বিক্রেতা → ভোক্তা' প্রণালিটি ব্যবহার করে।
যে বণ্টন প্রণালিতে উৎপাদনকারী ও চূড়ান্ত ভোক্তার মধ্যে একাধিক মধ্যস্থব্যবসায়ী যুক্ত থেকে পণ্য পৌঁছানোর কাজ করে, তাকে দীর্ঘ বা পরোক্ষ বণ্টন প্রণালি বলে। ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে সাধারণত এ ধরনের প্রণালি বহুল ব্যবহৃত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'জান এগ্রোভেট' উৎপাদিত ম্যাংগো জুস বিপণনের জন্য প্রতিটি জেলা শহরে এজেন্ট নিয়োগ করে। এরপর শহর ও গ্রামাঞ্চলের পাইকাররা এজেন্টদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে তা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেয় এবং খুচরা বিক্রেতারা তা ভোক্তাদের নিকট বিক্রি করে। অর্থাৎ, এখানে উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পর্যায়ক্রমে এজেন্ট, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতা জড়িত রয়েছে। সুতরাং, প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদক-এজেন্ট-পাইকার-খুচরা বিক্রেতা-ভোক্তা বণ্টন প্রণালিটি ব্যবহার করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বর্তমান সমস্যা (অসাধু ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মূল্যবৃদ্ধি) সমাধানে 'জান এগ্রোভেট' কোম্পানির উচিত বণ্টন প্রণালি সংক্ষেপ করা অথবা নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র/প্রত্যক্ষ তদারকি ব্যবস্থা চালু করা।
উদ্দীপকে দীর্ঘ বণ্টন প্রণালির কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জুসের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে ভোক্তারা পণ্য ক্রয়ে নিরুৎসাহিত হচ্ছে এবং কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘ বণ্টন প্রণালিতে মধ্যস্থতাকারীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ সমস্যা দূরীকরণে কোম্পানি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারে:
১. নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন: জেলা শহরগুলোতে নিজস্ব আউটলেটের মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রি করা।
২. মধ্যস্থতাকারীর স্তর হ্রাস: দীর্ঘ প্রণালি বাদ দিয়ে কেবল উৎপাদক থেকে নিজস্ব ডিলার/খুচরা বিক্রেতা হয়ে সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছানো।
৩. সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) মুদ্রণ ও প্রচার: জুসের মোড়কে বিক্রয়মূল্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা এবং বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভোক্তাদের সচেতন করা।
৪. বাজার মনিটরিং ও আইনি ব্যবস্থা: এজেন্ট ও পাইকারদের মজুতদারির ওপর নজরদারি রাখা এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।অতএব, পণ্যের কৃত্রিম সংকট ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে বণ্টন প্রণালি সংক্ষেপণ এবং নিজস্ব তত্ত্বাবধান জোরদার করাই কোম্পানির জন্য সবচেয়ে যৌক্তিক করণীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও