পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
একটি রাষ্ট্রের দুটি অংশ। 'খ' অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক শোষণ, নির্যাতন ও বৈষম্য থেকে মুক্তির জন্য 'ক' অঞ্চলের একজন মহান নেতা নেতৃত্ব দেন। তিনি স্বাধীকার প্রতিষ্ঠা, জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। 'ক' অঞ্চলের জনগণ ওই দাবিসমূহ আদায়ের জন্য দুর্বার আন্দোলন শুরু করেন।
- ক)(1)
পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান কত সালে কার্যকর হয়?
- খ)(2)
১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের কোন ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত দাবির সাথে তোমার পঠিত যে দাবি সাদৃশ্য রয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনের ফলাফল বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের পূর্ব বাংলায় প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন (সাধারণ নির্বাচন) অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ নির্বাচনে মূলত পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো রদবদল ছিল না, বরং প্রাদেশিক পরিষদে মুসলিম ও অমুসলিম আসনসমূহের প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য এ নির্বাচন পরিচালিত হয়। এতে যুক্তফ্রন্ট বিপুল ভোটে জয়লাভ করে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দাবির সাথে আমার পঠিত ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' কর্মসূচির সাদৃশ্য রয়েছে।
পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শোষণ চালিয়ে আসছিল। উদ্দীপকে 'খ' অঞ্চলের শোষণ ও বৈষম্য থেকে মুক্তির লক্ষ্যে 'ক' অঞ্চলের মহান নেতা যেমন অর্থনৈতিক মুক্তি, স্বাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন, তেমনি বাস্তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে লাহোরে বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ হিসেবে ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
ছয় দফার মূল উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বতন্ত্র মুদ্রা বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রণয়ন এবং নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা অর্জন। উদ্দীপকের মহান নেতার দাবিসমূহ বঙ্গবন্ধুর এই ছয় দফারই প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনের ফলাফল হিসেবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে এবং তা পরবর্তীতে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত করে।
ছয় দফাভিত্তিক আন্দোলনের ফলে পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খান আতঙ্কিত হয়ে দমন-পীড়ন শুরু করে। বঙ্গবন্ধুসহ বহু নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে তাঁদের বিরুদ্ধে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' দায়ের করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ছাত্র-জনতা তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলে, যা ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। গণঅভ্যুত্থানের ফলে আইয়ুব খানের সামরিক স্বৈরশাসনের পতন ঘটে এবং বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পান।
এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানালে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। সুতরাং, উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনের ফলাফল ছিল বাঙালির স্বাধীনতা অর্জন ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভাঙন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও