ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব শাকিল একজন প্রকৌশলী। তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার জন্য রহিম, বক্কর ও এনাম মূলধন ছাড়াই তাকে অংশীদার হিসেবে নেয়। এনাম ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ নেয়নি। বছর শেষে এনাম সমান মুনাফা দাবি করে
- ক)(1)
প্রত্যক্ষ সেবা কী?
- খ)(2)
“ট্রেড লাইসেন্স ব্যবসায়ের গুরুত্বপূর্ণ দলিল”- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
জনাব শাকিল কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা কর ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব এনাম কীভাবে মুনাফা পাবে? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রাহকদের প্রয়োজন পূরণের উদ্দেশ্যে সরাসরি প্রদত্ত এবং স্পর্শ বা সংরক্ষণ করা যায় না এমন সেবাধর্মী কাজ বা সুবিধাকে প্রত্যক্ষ সেবা বলে (যেমন: ডাক্তার, আইনজীবী বা প্রকৌশলীদের সেবা)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ট্রেড লাইসেন্স হলো স্থানীয় সরকার বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার লিখিত অনুমতিপত্র।
আইনসম্মতভাবে কোনো ব্যবসা শুরু ও পরিচালনা করতে হলে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। এটি প্রমাণ করে যে ব্যবসাটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিবন্ধিত ও অনুমোদিত। এর মাধ্যমে যেমন ব্যবসায়ের আইনি বৈধতা নিশ্চিত হয়, তেমনি কর প্রদান, ব্যাংক হিসাব খোলা ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক চুক্তি সম্পাদনে এটি অত্যাবশ্যকীয় দলিল হিসেবে কাজ করে। তাই ট্রেড লাইসেন্সকে ব্যবসায়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব শাকিল হলেন একজন কর্মী অংশীদার (Working Partner)।
যে অংশীদার ব্যবসায় কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে না, কিন্তু নিজের দক্ষতা, মেধা ও শ্রম দিয়ে সার্বক্ষণিকভাবে ব্যবসায়ের পরিচালনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করে, তাকে কর্মী অংশীদার বলে। চুক্তির শর্তানুযায়ী এমন অংশীদার লাভ-লোকসানের অংশ বা নির্দিষ্ট বেতন বা উভয়ই পেয়ে থাকেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব শাকিল একজন প্রকৌশলী। তাঁর প্রকৌশল অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগানোর জন্য অন্যান্য অংশীদাররা (রহিম, বক্কর ও এনাম) কোনো প্রকার মূলধন বিনিয়োগ ছাড়াই তাঁকে অংশীদারি ব্যবসায়ে অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করে। তিনি মূলত মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ব্যবসায়ের সাথে যুক্ত হয়েছেন। সুতরাং অংশীদারের প্রকৃতি অনুযায়ী শাকিল একজন কর্মী অংশীদার।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব এনাম অংশীদারি চুক্তির বিধান অনুযায়ী এবং চুক্তি না থাকলে সমহারে মুনাফা পাবেন; তবে পরিচালনায় অংশ না নেওয়ায় তাঁর মুনাফা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই।
১৯৩২ সালের ভারতীয় অংশীদারি আইনের বিধান অনুযায়ী, অংশীদারি ব্যবসায়ের ভিত্তি হলো চুক্তি। অংশীদারদের মধ্যে মুনাফা বণ্টনের সুনির্দিষ্ট অনুপাত বা নিয়ম চুক্তিতে উল্লেখ থাকলে সেই অনুযায়ী মুনাফা বণ্টিত হয়। চুক্তিতে যদি এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট উল্লেখ না থাকে, তবে অংশীদারি আইনের ১৩(ক) ধারা অনুযায়ী ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগের পরিমাণ বা কার্যপরিচালনার ভূমিকা নির্বিশেষে সকল অংশীদার সমান হারে লাভ ও ক্ষতি বণ্টন করে নেবেন।
উদ্দীপকে জনাব এনাম মূলধন বিনিয়োগ করেছেন কিন্তু পরিচালনায় অংশ নেননি (যা তাকে মূলত একজন ঘুমন্ত বা নিষ্ক্রিয় অংশীদার নির্দেশ করে)। বছর শেষে তিনি অন্যান্যদের মতো সমান মুনাফা দাবি করেন। আইন অনুযায়ী, একজন অংশীদার পরিচালনায় অংশ না নিলেও অংশীদার হিসেবে তিনি মূলধন বিনিয়োগকারী হওয়ায় এবং ব্যবসায়িক দায় বহন করায় মুনাফা প্রাপ্তির পূর্ণ অধিকারী। যদি তাদের চুক্তিতে মূলধনের অনুপাত বা নির্দিষ্ট হারে মুনাফা বণ্টনের উল্লেখ থাকে, তবে তিনি সেই নির্ধারিত অনুপাত অনুযায়ীই মুনাফা পাবেন। আর যদি চুক্তিতে মুনাফা বণ্টন সম্পর্কে কোনো বিশেষ নিয়ম নির্ধারিত না থাকে, তবে আইনানুযায়ী এনামের সমপরিমাণ মুনাফা দাবির অধিকার সম্পূর্ণ বৈধ।
অতএব, অংশীদারি চুক্তির শর্তাবলি অনুযায়ী এবং চুক্তি নীরব থাকলে আইনের বিধানমতে সকল অংশীদারের সঙ্গে সমহারে জনাব এনামের মুনাফা পাওয়া উচিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও