পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
জাতি কী?
- খ)(2)
জাতীয়তা নির্ধারণে সাংস্কৃতিক নীতি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'ক' কলামে তোমার পঠিত কোন ধারণা প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' কলামে প্রতিফলিত দুটি ধারণার পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী জনসমাজ যখন রাজনৈতিক সচেতনতার মাধ্যমে সার্বভৌমত্ব বা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করে বা করার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে, তখন তাকে 'জাতি' (Nation) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয়তা নির্ধারণে সাংস্কৃতিক নীতি হলো এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি যা মানুষের সাধারণ সংস্কৃতি, আচার-অনুষ্ঠান, ঐতিহ্য এবং জীবনধারার ঐক্যের ওপর ভিত্তি করে জাতীয়তাবোধ গড়ে তোলে।
সংস্কৃতি মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য ও পারস্পরিক বন্ধনকে দৃঢ় করে। কোনো জনসমষ্টি যখন দীর্ঘকাল ধরে একই ধরনের সামাজিক আচার, সাহিত্য, শিল্পকলা এবং জীবনযাপন পদ্ধতির অংশীদার হয়, তখন তাদের মধ্যে একটি গভীর ঐক্যের সৃষ্টি হয়। সংস্কৃতির এই অভিন্নতা মানুষকে 'আমরা' অনুভূতিতে একতাবদ্ধ করে স্বাতন্ত্র্যবোধ জাগিয়ে তোলে, যা জাতীয়তা গঠনের অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'ক' কলামে আমার পঠিত 'স্বদেশপ্রেম' (বা দেশপ্রেম) ধারণাটি প্রতিফলিত হয়েছে।
স্বদেশপ্রেম হলো নিজের দেশ, দেশের মাটি, মানুষ ও সংস্কৃতির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও গভীর মমত্ববোধ। এটি এমন এক মানসিক ও আত্মিক অনুভূতি, যা কোনো ব্যক্তিকে তার দেশের স্বার্থে সর্বস্ব ত্যাগ করতে অনুপ্রাণিত করে।
উদ্দীপকের 'ক' কলামে উল্লেখ রয়েছে—"নিজ দেশের প্রতি অনুরাগ, মমত্ববোধ"। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ধারণায়, নিজ দেশের প্রতি গভীর অনুরাগ, শ্রদ্ধা এবং জনগণের প্রতি মমত্ববোধই মূলত স্বদেশপ্রেমের মূল ভিত্তি। প্রতিটি নাগরিকের অন্তরে দেশের প্রতি যে স্বাভাবিক আকর্ষণ ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত থাকে, উদ্দীপকের 'ক' কলামে সেটিরই সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'ক' কলামে প্রতিফলিত হয়েছে 'স্বদেশপ্রেম' এবং 'খ' কলামে প্রতিফলিত হয়েছে 'জাতীয়তা' বা 'জাতীয়তাবোধের উপাদানসমূহ'। এ দুটি ধারণার মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় ও পরিপূরক সম্পর্ক বিদ্যমান।
স্বদেশপ্রেম হলো নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসা, অনুরাগ ও মমত্ববোধ। পক্ষান্তরে, ভৌগোলিক ঐক্য, বংশগত ঐক্য, ভাষাগত ঐক্য, ধর্ম ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে যখন একটি জনসমষ্টির মধ্যে রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক ঐক্যের ভাব জাগ্রত হয়, তখন তাকে জাতীয়তা বলে। উদ্দীপকের 'খ' কলামে ভৌগোলিক, বংশগত ও ভাষাগত ঐক্যের কথা বলা হয়েছে, যা জাতীয়তার প্রধান উপাদান।
স্বদেশপ্রেম এবং জাতীয়তা একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জাতীয়তাবোধের মূল চালিকাশক্তি হলো স্বদেশপ্রেম। কোনো জনসমষ্টির মধ্যে যদি নিজ দেশের প্রতি মমত্ববোধ বা স্বদেশপ্রেম না থাকে, তবে তাদের মধ্যে ভৌগোলিক বা ভাষাগত ঐক্য থাকলেও জাতীয়তাবোধ পূর্ণতা পেতে পারে না। আবার জাতীয়তাবোধ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার প্রেরণা দেয়, যা স্বদেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটায়।
পরিশেষে বলা যায়, স্বদেশপ্রেম একটি মানসিক আবেগ ও অনুভূতি, আর জাতীয়তা হলো সেই অনুভূতির সমষ্টিগত ও রাজনৈতিক রূপ। উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' কলামে প্রতিফলিত স্বদেশপ্রেম এবং জাতীয়তা পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক এবং একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও