যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
দ্বিকোটিক বিভাগ কাকে বলে?
- খ)(2)
যৌক্তিক বিভাগের দুটি প্রধান সীমাবদ্ধতা লেখ।
- গ)(3)
ছক ২ এ কোন ধরনের অনপপত্তি ঘটেছে ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ছক-১ থেকে ছক-৩ পৃথক কেন? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে যৌক্তিক বিভাগ প্রক্রিয়ায় একটি জাতিকে পরস্পর-বিরোধী দুটি উপজাতিতে (একটি সদর্থক ও অপরটি নঞর্থক) বিভক্ত করা হয়, তাকে দ্বিকোটিক বিভাগ (Dichotomy) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌক্তিক বিভাগের দুটি প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো:
১. অনির্দিষ্ট বা অসীম পদকে বিভক্ত করা যায় না (যেমন: 'অ-মানুষ'), কারণ এর ব্যপ্তি সুনির্দিষ্ট নয়।
২. বিশিষ্ট বা একক পদকে (যেমন: 'ঢাকা', 'হিমালয়') বিভক্ত করা যায় না, কারণ এতে কেবল একটিমাত্র বস্তু নির্দেশিত হয় এবং কোনো উপজাতি থাকে না। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছক-২ এ 'উৎক্রান্তি বিভাগ' বা 'অনুল্লম্ফন দোষ' (বা অব্যাপ্ত/সংকীর্ণ বিভাগ অনুপপত্তি) ঘটেছে।
যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, একটি জাতিকে তার নিকটতম বা ক্রমিক উপজাতিতে বিভক্ত করতে হয়, কোনো মধ্যবর্তী স্তর বা ধাপ বাদ দেওয়া যায় না। যদি কোনো স্তর বাদ দিয়ে মধ্যবর্তী উপজাতিকে অতিক্রম করে বিভাগ করা হয়, তবে সেখানে 'উৎক্রান্তি বিভাগ অনুপপত্তি' (Fallacy of Saltus Divisionis বা Leaping Division) ঘটে।
ছক-২ এ মূল শ্রেণি হলো 'জীব'। নিয়ম অনুসারে জীবকে প্রথমে 'মানুষ' ও 'অমানুষ' (বা মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী) ইত্যাদি নিকটতম উপজাতিতে ভাগ করা উচিত ছিল। অতঃপর 'মানুষ' জাতিকে শিক্ষা অনুসারে 'শিক্ষিত' ও 'অশিক্ষিত'-তে ভাগ করা যায়। কিন্তু ছক-২ এ মধ্যবর্তী স্তর (মানুষ) বাদ দিয়ে সরাসরি জীবকে 'শিক্ষিত' ও 'অশিক্ষিত'-তে বিভক্ত করা হয়েছে। আবার পশু-পাখির মতো জীবের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রযোজ্য না হওয়ায় এখানে উপজাতিগুলোর পরিধি মূল জাতির পরিমাণের সমান হয়নি (সংকীর্ণ বিভাগ ঘটেছে)। মধ্যবর্তী ধাপ বাদ দেওয়ার কারণে ছক-২ এ উৎক্রান্তি বিভাগ অনুপপত্তি সংঘটিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছক-১ এবং ছক-৩ উভয়ের ক্ষেত্রেই যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘিত হলেও তাদের অনুপপত্তির প্রকৃতি ভিন্ন হওয়ায় ছক-১ থেকে ছক-৩ সম্পূর্ণ পৃথক।
ছক-১ এ 'ফল' শ্রেণিকে স্বাদের ভিত্তিতে 'মিষ্টি' ও 'টক' ফলে ভাগ করা হয়েছে। কিন্তু স্বাদ অনুসারে ফলের মধ্যে কষা, তিতা বা স্বাদহীন ফলও বিদ্যমান। ফলে এখানে বিভক্ত উপজাতিগুলোর মিলিত পরিমাণ বা ব্যক্ত্যর্থ মূল জাতির ব্যক্ত্যর্থের সমান হয়নি, বরং কম হয়েছে। যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘনের ফলে এখানে 'অব্যাপ্ত বিভাগ অনুপপত্তি' বা 'সংকীর্ণ বিভাগ অনুপপত্তি' ঘটেছে।
অন্যদিকে, ছক-৩ এ 'ত্রিভুজ'-কে বিভক্ত করতে গিয়ে একাধিক মূলসূত্র একসাথে গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে বাহুর ভিত্তিতে 'সমবাহু', 'বিষমবাহু', 'সমদ্বিবাহু' এবং কোণের ভিত্তিতে 'সমকোণী' ত্রিভুজকে একই সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। যৌক্তিক বিভাগের প্রথম নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বিভাগে একটিমাত্র মূলসূত্র বা ভিত্তিনীতি অনুসরণ করতে হবে। একাধিক মূলসূত্র গ্রহণ করায় এখানে 'পরস্পরাঙ্গী বিভাগ অনুপপত্তি' বা 'সংকর বিভাগ অনুপপত্তি' (Cross Division) ঘটেছে। সমকোণী ত্রিভুজ সমদ্বিবাহু বা বিষমবাহুও হতে পারে, ফলে উপজাতিগুলো পরস্পর বিচ্ছেদক হয়নি।
সুতরাং, ছক-১ এ ঘটেছে 'সংকীর্ণ বিভাগ অনুপপত্তি' (ব্যক্ত্যর্থ কম হওয়ার কারণে) এবং ছক-৩ এ ঘটেছে 'সংকর বিভাগ অনুপপত্তি' (একাধিক বিভাগের ভিত্তিনীতি ব্যবহারের কারণে)। এ কারণে ছক-১ থেকে ছক-৩ চরিত্রগত ও নিয়মভঙ্গের দিক থেকে পৃথক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও