‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: ফরহাদ স্থানীয় একটি সংগঠনের সদস্য। সেই প্রতিষ্ঠানে সকলের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কিছু নিয়মনীতি লিখিত আছে। উক্ত নিয়ম-কানুন সবাই মেনে চলে। ফলে সংগঠনের মধ্যে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় না।দৃশ্যকল্প-২: সারাহ গ্রামে বাস করে। তার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক ব্যক্তিকে সে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে। অসহায়দের সাহায্য করা এবং ভিক্ষুকদের ভিক্ষা দেয়া তার জীবনের একটা ভালো গুণ।

  1. ক)

    ধর্মীয় মূল্যবোধ কী?

    (1)
  2. খ)

    'অতিশাসনের বিপরীত ব্যবস্থাই হলো স্বাধীনতা'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ যে বিষয়ের নির্দেশ করা হয়েছে তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে সারাহ যে মূল্যবোধ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে তা চিহ্নিত করো। তুমি কি মনে করো উক্ত মূল্যবোধ সমাজের ভিত? তোমার মতামত দাও। 8

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ধর্মীয় অনুশাসন, বিশ্বাস এবং অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা মূল্যবোধকে ধর্মীয় মূল্যবোধ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অধ্যাপক সীলির মতে, 'অতিশাসনের বিপরীত ব্যবস্থাই হলো স্বাধীনতা' (Liberty is the opposite of over-government)। এর অর্থ হলো, রাষ্ট্রে যদি সরকারের মাত্রাতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ, হস্তক্ষেপ এবং অযাচিত বিধিনিষেধ থাকে, তবে নাগরিকের স্বাভাবিক বিকাশ ও মুক্ত চিন্তা ব্যাহত হয়। স্বাধীনতা মানে সব ধরণের নিয়ন্ত্রণের অবসান নয়, বরং ব্যক্তি যেন অন্যায় ও অপ্রয়োজনীয় সরকারি নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে নিজের ব্যক্তিত্ব বিকাশ করতে পারে, এমন পরিবেশ নিশ্চিত করাই হলো স্বাধীনতা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ 'আইন' (Law)-এর ধারণাকে নির্দেশ করা হয়েছে।

    আইন হলো রাষ্ট্র বা সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও আরোপিত এমন কিছু লিখিত ও সুনির্দিষ্ট বিধিনিষেধ বা নিয়ম-কানুন, যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে। আইন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের দ্বারা তৈরি হয় এবং তা সমাজের বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা প্রতিরোধ করে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে।

    উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ দেখা যায়, ফরহাদের সংগঠনের সদস্যদের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু লিখিত নিয়ম-কানুন রয়েছে, যা সবাই মেনে চলে এবং যার ফলে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় না। পৌরনীতি ও সুশাসনের দৃষ্টিতে এই লিখিত এবং বাধ্যতামূলক নিয়মাবলী আইনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্যের সাথে হুবহু মিলে যায়। সুতরাং দৃশ্যকল্প-১ এ আইনের ধারণাকে নির্দেশ করা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সারাহ 'নৈতিক মূল্যবোধ' (Moral Values) দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। হ্যাঁ, আমি মনে করি এই মূল্যবোধই সমাজের মূল ভিত্তি।

    নৈতিক মূল্যবোধ হলো মানুষের ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় ও উচিত-অনুচিতের গভীর মানসিক উপলব্ধি, যা সমাজকল্যাণে মানুষকে নিঃস্বার্থভাবে উদ্বুদ্ধ করে। উদ্দীপকে সারাহ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পৌঁছে দেয় এবং অসহায় ও ভিক্ষুকদের সাহায্য করে—এগুলো কোনো রাষ্ট্রীয় আইনের চাপ নয়, বরং তার ভেতরের নৈতিক চেতনা ও মানবিকতার প্রকাশ।

    নৈতিক মূল্যবোধ সমাজের ভিত্তি হওয়ার কারণসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. শৃঙ্খলার ভিত্তি: শুধু আইন প্রয়োগ করে সমাজে পূর্ণাঙ্গ শান্তি বা শৃঙ্খলা রক্ষা সম্ভব নয়। ব্যক্তি যখন অন্তরের নৈতিক মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়, তখন অপরাধপ্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পায়।
    ২. সামাজিক সংহতি ও সৌহার্দ্য: দয়া, সততা, সহানুভূতি এবং পরোপকারের মতো নৈতিক গুণাবলি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করে এবং বৈষম্য কমায়।
    ৩. আইনের সহায়ক শক্তি: আইনের চেয়েও নৈতিক মূল্যবোধের পরিধি ব্যাপক। আইন কেবল বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু নৈতিক মূল্যবোধ মানুষের অন্তর ও চিন্তা উভয়কেই পরিশুদ্ধ করে আইনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়।

    অতএব, নৈতিকতাহীন সমাজ সহজেই ভেঙে পড়ে এবং বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়। তাই নিঃসংকোচে বলা যায়, নৈতিক মূল্যবোধই একটি সুস্থ ও স্থিতিশীল সমাজের ভিত্তি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন