জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
কচু, টমেটো ইত্যাদি কিছু উদ্ভিদে পাতার কিনারায় এক ধরনের রন্ধ্র থাকে যা দিয়ে উদ্ভিদদেহ হতে পানি তরলাকারে নির্গত হয়। আম, জাম ইত্যাদি উদ্ভিদের পত্রপৃষ্ঠে এক ধরনের রন্ধ্র থাকে যা দিয়ে উদ্ভিদদেহ হতে পানি বাষ্পাকারে নির্গত হয়।
- ক)(1)
ভাজক টিস্যু কি?
- খ)(2)
মজ্জা রশ্মি বলতে কি বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ১ম প্রকার রন্ধ্রের গঠন বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত ২য় প্রকার রন্ধের খোলা ও বন্ধ হওয়াতে কৌশল সংক্রান্ত আধুনিক মতবাদ K+ এর ভূমিকা বিশ্লেষন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব উদ্ভিদ টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম, সেগুলোকে ভাজক টিস্যু (Meristematic tissue) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডের সংবহন বাণ্ডিলগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত রশ্মির মতো অংশকে মজ্জা রশ্মি (Medullary ray) বলে। এটি কাণ্ডের মজ্জা থেকে শুরু করে পেরিসাইকেল বা কর্টেক্স পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে এবং পানি ও খাদ্যদ্রব্য পার্শ্বীয়ভাবে পরিবহনে এবং খাদ্য সঞ্চয়ে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ১ম প্রকার রন্ধ্রটি হলো পানি নিঃস্রাবী অঙ্গ বা হাইডাথোড (Hydathode বা পানিপত্ররন্ধ্র)। নিচে এর গঠন বর্ণনা করা হলো:
১. পানি রন্ধ্র (Water pore): হাইডাথোডের বহির্ভাগে অবস্থিত একটি সূক্ষ্ম ছিদ্র, যা দুটি নিষ্ক্রিয় রক্ষীকোষ দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে। এই রক্ষীকোষগুলো সাধারণ পত্ররন্ধ্রের রক্ষীকোষের মতো খোলা বা বন্ধ হতে পারে না, বরং সর্বদা উন্মুক্ত থাকে।
২. এপিথেম (Epithem): রন্ধ্রের ঠিক নিচে একগুচ্ছ শিথিলভাবে সজ্জিত, পাতলা প্রাচীরযুক্ত, বর্ণহীন এবং ক্লোরোপ্লাস্টবিহীন প্যারেনকাইমা কোষ থাকে, যাদের এপিথেম বলে। কোষগুলোর মাঝে প্রচুর আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকে।
৩. উপশিরা বা জাইলেম প্রান্ত (Vascular endings): এপিথেম টিস্যুর ঠিক নিচে পাতার পরিবহন কলাগুচ্ছের জাইলেম নালিকার (ট্রাকিড বা ভেসেল) প্রান্ত উন্মুক্ত হয়। মূলজ চাপের ফলে জাইলেম দিয়ে আগত অতিরিক্ত পানি এপিথেমের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে বহিঃস্থ পানি রন্ধ্র দিয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় (Guttation প্রক্রিয়ায়) বাইরে নির্গত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ২য় প্রকার রন্ধ্রটি হলো সাধারণ পত্ররন্ধ্র (Stoma)। পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার আধুনিক ও সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতবাদ হলো লেভিট (Levitt, 1974) প্রস্তাবিত 'প্রোটন-পটাশিয়াম আয়ন () পাম্প মতবাদ'। এতে আয়নের ভূমিকা নিম্নরূপ:
১. পত্ররন্ধ্র উন্মুক্তকরণে এর ভূমিকা:
- দিনের বেলায় নীল আলোর উপস্থিতিতে রক্ষীকোষের প্লাজমামেমব্রেনে অবস্থিত -ATPase পাম্প সক্রিয় হয় এবং রক্ষীকোষ থেকে প্রোটন () সংলগ্ন সহকারী কোষে নির্গত হয়।
- প্রোটন নির্গমনের ফলে কোষের মধ্যে বৈদ্যুতিক নিরপেক্ষতা ও আয়নিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য সহকারী কোষ থেকে সক্রিয়ভাবে পটাশিয়াম আয়ন () এবং ক্লোরাইড আয়ন () রক্ষীকোষে প্রবেশ করে।
- একই সাথে রক্ষীকোষের স্টার্চ ভেঙে ম্যালিক এসিড উৎপন্ন হয়, যা ভেঙে ম্যালেট আয়নে পরিণত হয় এবং এর সাথে যুক্ত হয়ে পটাশিয়াম ম্যালেট তৈরি করে।
- রক্ষীকোষে অতিরিক্ত ও ম্যালেটের সঞ্চয়ের ফলে কোষরসের অভিস্রবণিক চাপ (osmotic potential) বৃদ্ধি পায়। ফলে পার্শ্ববর্তী কোষ থেকে অন্তঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় রক্ষীকোষে পানি প্রবেশ করে।
- রক্ষীকোষ স্ফীত (turgid) হয়ে ওঠে। রক্ষীকোষের ভেতরের প্রাচীর পুরু এবং বাইরের প্রাচীর পাতলা ও স্থিতিস্থাপক হওয়ায় স্ফীতিজনিত টানে রন্ধ্রটি খুলে যায়।
২. পত্ররন্ধ্র বন্ধকরণে এর ভূমিকা:
- রাতের বেলায় বা প্রতিকূল অবস্থায় (যেমন খরা বা জলের ঘাটতিতে অ্যাবসিসিক এসিডের প্রভাবে) -পাম্প নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।
- রক্ষীকোষ থেকে ও আয়ন নিষ্ক্রান্ত হয়ে পুনরায় পার্শ্ববর্তী সহকারী কোষে ফিরে যায়।
- রক্ষীকোষের দ্রাব ঘনমাত্রা কমে যাওয়ায় বহিঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় রক্ষীকোষ থেকে পানি বেরিয়ে যায়। এর ফলে রক্ষীকোষ শিথিল (flaccid) হয়ে পড়ে এবং পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়।
সুতরাং, রক্ষীকোষে আয়নের সক্রিয় প্রবেশ ও নির্গমনই পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ নিয়ন্ত্রণের প্রধান নিয়ামক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও