বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? - প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন।আসছে নবীন জীবন হারা অসুন্দরে করতে ছেদন।তাই সে এমন কেশে বেশেপ্রলয় বয়েও আসছে হেসে-মধুর হেসে!ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চির-সুন্দর!
- ক)(1)
'আঠারো বছর বয়স' কবিতার শেষ লাইন কোনটি?
- খ)(2)
"স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুকি " কেন ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সঙ্গে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার সাদৃশ্য দেখাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সঙ্গে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার মূলভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।” ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আঠারো বছর বয়স' কবিতার শেষ লাইন হলো: "এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।"
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আঠারো বছর বয়সে তরুণদের মনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার অদম্য সাহস ও নির্ভীক মনোভাব থাকে বলেই তারা স্পর্ধায় মাথা তোলার ঝুঁকি নেয়।
কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণের এই ক্রান্তিকালে তরুণেরা অন্যায়, শোষণ, পরাধীনতা ও সামাজিক অচলায়তনকে মুখ বুজে মেনে নিতে পারে না। যেকোনো অন্যায়কে রুখে দাঁড়াতে এবং আত্মমর্যাদা রক্ষা করতে তারা জীবন বাজি রেখে এবং পরিণামের ভয় না করে সাহসের সাথে রুখে দাঁড়ায়। তাই বলা হয়েছে, তারা "স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি"।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার জরা-জীর্ণ পুরাতনকে ভেঙে নতুনের আবাহন এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের সাহসিকতার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি তরুণদের অদম্য প্রাণশক্তি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব ও সমাজ পরিবর্তনের অঙ্গীকার তুলে ধরেছেন। এই বয়সের তরুণেরা কোনো বাধাকে ভয় পায় না; রক্তদানের পুণ্য ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে তারা পুরাতন অচল সমাজকে ভেঙে নতুন সুন্দর জীবন গড়তে চায়।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কাজী নজরুল ইসলামের 'প্রলয়োল্লাস' ভাবধারায় বলা হয়েছে—ধ্বংস দেখে ভয় না পেয়ে তাকে নতুনের সৃজন-বেদনা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। কারণ নবীনরা চির-সুন্দরের রূপ নিয়ে অসুন্দর ও জরাকে ছেদন করতে আসে। তারা ভাঙতে যেমন জানে, তেমনি নতুনের সৃষ্টিতেও দক্ষ। 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার তারুণ্যও একইভাবে বাধা-বিপত্তি ও ধ্বংসের পথ পেরিয়ে নবনির্মাণে ব্রতী হয়। ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুনকে বরণ ও প্রতিষ্ঠার এই চেতনায় উদ্দীপকটি কবিতার সাথে সাদৃশ্য ধারণ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নবসৃষ্টি ও অসুন্দরকে বিনাশের যে জয়গান গাওয়া হয়েছে, তা 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার মূলভাব তথা জরা-ভেঙে নতুনের শুভশক্তির উন্মেষের প্রতিফলন—মন্তব্যটি যথার্থ।
সুকান্ত ভট্টাচার্য তাঁর 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় এই বয়সের ইতিবাচক ও সৃষ্টিশীল বৈশিষ্ট্যকে মহিমান্বিত করেছেন। আঠারো বছর বয়স ভয়-ডরহীন, বিপ্লব ও সৃষ্টির প্রতীক। পরাধীনতা, কুসংস্কার ও শোষণমুক্ত এক নতুন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এ বয়সের মানুষ সমস্ত বাধা-বিপত্তি চূর্ণ করতে দ্বিধা করে না। কবি এই তারুণ্যের প্রাণশক্তিকেই দেশের বুকে নেমে আসার প্রার্থনা জানিয়েছেন, যাতে অন্যায়ের বিনাশ ঘটে এবং শুভর প্রতিষ্ঠা হয়।
উদ্দীপকেও একইভাবে প্রলয় ও ধ্বংসকে ইতিবাচক সৃষ্টির আগমনী বার্তা হিসেবে দেখানো হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে—"আসছে নবীন জীবন হারা অসুন্দরে করতে ছেদন" এবং "ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চির-সুন্দর!" অর্থাৎ ধ্বংস কোনো সমাপ্তি নয়, বরং অসুন্দরকে ছেদন করে সুন্দরের ভিত্তি গড়ার মাধ্যম।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের প্রলয়-সঞ্চারী নবীন চেতনা এবং 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার ধ্বংস ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে নতুন সুন্দর পৃথিবী রচনার প্রত্যয় একই সূত্রে গাঁথা। উদ্দীপকের ভাবধারা কবিতার সামগ্রিক মূলভাবের—অর্থাৎ অন্যায়ের বিনাশ ঘটিয়ে নতুন সৃজনের যে মূল সুর—তাকেই সার্থকভাবে প্রতিফলিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও