ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
মধ্যপ্রাচ্যের ফিলিস্তিন একটি মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই দখলদার ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের নিকট অঞ্চলটির জনগণ শোষিত ও অত্যাচারিত হয়ে আসছে। ফলে ফিলিস্তিনের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসরাইল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু করে। এতে ইহুদি রাষ্ট্রটি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী জনগণকে দমনে নারী ও শিশুসহ সাধারণ নাগরিকের উপর নৃশংসভাবে গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এসবের পরেও ফিলিস্তিনের জনগণ তাদের স্বাধীনতা ফিরে পেতে সংগ্রাম চালিয়ে যায়।
- ক)(1)
মুক্তিযুদ্ধে প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
- খ)(2)
মুক্তিযুদ্ধে 'সেক্টর' কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্ত ঘটনার প্রকৃতি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুক্তিযুদ্ধে প্রধান সেনাপতি ছিলেন জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী (এম. এ. জি. ওসমানী)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা এবং সামরিক অভিযানগুলোকে সুশৃঙ্খল ও গতিশীল করার লক্ষ্যে সমগ্র বাংলাদেশকে যে প্রশাসনিক সামরিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছিল, তাকে 'সেক্টর' বলা হয়।
১৯৭১ সালের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেক্টর কমান্ডারদের সম্মেলনে সমগ্র বাংলাদেশকে ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। প্রতিটি সেক্টরের দায়িত্বে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিয়োজিত ছিলেন। এর মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়কালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত নির্মম 'গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ'-এর মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে ইসরাইলি দখলদার বাহিনী যেভাবে ফিলিস্তিনের নিরীহ সাধারণ নাগরিক, নারী ও শিশুদের ওপর নৃশংস আক্রমণ ও গণহত্যা চালিয়েছে, একাত্তরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীও ঠিক একই ধরনের বর্বরতা চালায়।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে বাঙালি নিধন অভিযান শুরু করে। ঢাকাসহ সারা দেশে তারা নিরস্ত্র, ঘুমন্ত মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হাজার হাজার ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এরপর পুরো নয় মাসব্যাপী তারা নারী ও শিশুদের ওপর পাশবিক অত্যাচার এবং সমগ্র দেশজুড়ে পাইকারি গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। তাই উদ্দীপকের ঘটনাটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত ঘটনাটি হলো ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত বাঙালি নিধন ও গণহত্যা। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃতি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত, বর্বর এবং ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধ।
উক্ত ঘটনার প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি মূল দিক স্পষ্ট হয়ে ওঠে:
১. পরিকল্পিত রাজনৈতিক নিধন: পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জাতিকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই গণহত্যা পরিচালনা করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতির মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে অস্ত্রের মুখে সমূলে ধ্বংস করা।
২. 'অপারেশন সার্চলাইট' ও নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞ: ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ বিভিন্ন স্থানে একযোগে ভারী অস্ত্র ও কামান নিয়ে হামলা চালানো হয়। পরে এটি সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
৩. বুদ্ধিজীবী নিধন: জাতিকে মেধা ও মননশীলতাহীন করার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে দেশের প্রথিতযশা শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও সাহিত্যিকদের হত্যা করা হয়।
৪. জাতিগত নির্মূলের চেষ্টা: দীর্ঘ নয় মাসে প্রায় ৩০ লক্ষ বাঙালিকে হত্যা করা হয় এবং লক্ষ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করা হয়। এক কোটি মানুষকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়।
সার্বিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃতি ছিল একতরফা, ফ্যাসিবাদী ও মানবতাবিরোধী, যা বিশ্ববিবেককে নাড়া দিয়েছিল এবং বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনকে অনিবার্য করে তুলেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও