‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

অমল কৃষ্ণ মণ্ডল 'ক' অঞ্চলের প্রশাসক হয়ে আসার পর তিনি তার এলাকার কুসংস্কার, অশিক্ষা দূর করার জন্য স্থানীয় অধিবাসীদের সচেতন করে তোলেন। ছিনতাইকারী ও ঠগবাজদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করেন। ফলে এলাকায় শান্তি ফিরে আসে।

  1. ক)

    বাঁশের কেল্লা কে নির্মাণ করেন?

    (1)
  2. খ)

    সূর্যাস্ত আইন বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের অমল কৃষ্ণ মণ্ডলের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ইংরেজ শাসকের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "তৎকালীন সমাজের কুসংস্কার দূরীকরণের জন্য উক্ত শাসক স্মরণীয়"- উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তিতুমীর (সৈয়দ মীর নিসার আলী) বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লর্ড কর্নওয়ালিস কর্তৃক প্রবর্তিত ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের একটি কঠোর শর্ত ছিল 'সূর্যাস্ত আইন'। এই আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের পূর্বেই জমিদারদের বাৎসরিক রাজস্ব পরিশোধ করতে হতো। কোনো জমিদার নির্দিষ্ট সূর্যাস্তের পূর্বে রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাঁর জমিদারি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হতো।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের অমল কৃষ্ণ মণ্ডলের সংস্কার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পদক্ষেপের সাথে পাঠ্যবইয়ের ইংরেজ গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের মিল রয়েছে।

    লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক (১৮২৮-১৮৩৫ খ্রি.) ছিলেন একজন মানবতাবাদী ও প্রগতিশীল ইংরেজ শাসক। তিনি ভারতে শাসনভার গ্রহণ করে সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার দিকে মনোযোগ দেন। তিনি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা নৃশংস সতীদাহ প্রথা বিলোপ করেন এবং মধ্য ভারতের কুখ্যাত ডাকাতদল 'ঠগি'দের কঠোর হস্তে দমন করে জনসাধারণের জীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনেন। উদ্দীপকে অমল কৃষ্ণ মণ্ডলও একইভাবে কুসংস্কার দূরীকরণ ও ছিনতাইকারী-ঠগবাজদের দমন করে এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন, যা সরাসরি লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের কর্মকাণ্ডের প্রতিরূপ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তৎকালীন সমাজের কুসংস্কার দূরীকরণের জন্য লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক স্মরণীয়—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

    বেন্টিঙ্কের শাসনামল ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের সামাজিক ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। তৎকালীন হিন্দু সমাজে প্রচলিত অমানবিক সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে রাজা রামমোহন রায় আন্দোলন শুরু করলে বেন্টিঙ্ক তাঁকে সর্বাত্মক সমর্থন দেন এবং ১৮২৯ সালে ১৭ নম্বর রেগুলেশন জারি করে সতীদাহ প্রথাকে আইনত নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ ঘোষণা করেন। এর ফলে হাজার হাজার বিধবা নারীর জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায়। এছাড়াও তিনি গঙ্গাসাগরে বা নদীতে প্রথম সন্তান বিসর্জন দেওয়ার মতো কুসংস্কার এবং বাল্যবিবাহ ও কন্যাশিশু হত্যার মতো নিষ্ঠুর প্রথা কঠোর হস্তে দমন করেন। শুধু কুসংস্কার নয়, সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে তিনি কুখ্যাত 'ঠগি' দস্যুদের নির্মূল করেন। শিক্ষা বিস্তারে মেকলের সুপারিশের ভিত্তিতে আধুনিক পাশ্চাত্য ও ইংরেজি শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন করেন। সুতরাং, বিচার করলে দেখা যায় যে, ব্রিটিশ শাসকদের মধ্যে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ভারতীয় সমাজের কুসংস্কার ও অনাচার দূর করে আধুনিক ও মানবিক সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার কারণেই ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন