বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পথেই রুমার নজর পড়ে আম গাছটির দিকে। ওদিকে তাকাতেই তার মনে পড়ে তার প্রতিবাদী বুবুর কথা। কেননা ঐ গাছটাতেই বুবু রীণার গলায় দড়ি দেয়া লাশ পাওয়া গিয়েছিল। কয়েকটা বখাটে যুবক তাকে প্রায়ই বিরক্ত করত। তাই একদিন সে প্রতিবাদ করেছিল এবং জুতা দেখিয়েছিল। সেই কারণে পরের দিনই তার প্রতিবাদী বুবু রীণার লাশ ঐ গাছটাতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

  1. ক)

    শহরের পথে থরে থরে কী ফুটেছে?

    (1)
  2. খ)

    'সেই ফুল আমাদের প্রাণ' – বুঝিয়ে দাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চেতনা 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার কোন বিষয়টির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের রীণা আর 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার শহিদরা একই প্রতিবাদের মূর্ত প্রতীক।" —উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শহরের পথে থরে থরে কৃষ্ণচূড়া ফুটেছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'সেই ফুল আমাদের প্রাণ'— কথাটি দ্বারা বাঙালির আত্মদান, স্বাধীনতার চেতনা এবং ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে একুশের শহীদদের রক্তে রঞ্জিত রক্তিম কৃষ্ণচূড়া ফুলকে বোঝানো হয়েছে।

    'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবি শামসুর রাহমান কৃষ্ণচূড়া ফুলকে নিছক ঋতুভিত্তিক ফুল হিসেবে দেখেননি; এই ফুল সালাম ও বরকতের আত্মদানের স্মারক। এই ফুল বাঙালির শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও চেতনার প্রতীক। তাই কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম রূপের সাথে বাঙালির প্রাণ ও অস্তিত্ব গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চেতনা 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং আত্মত্যাগের চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবি পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির দুর্বার গণ-আন্দোলন ও প্রতিরোধের কথা বলেছেন। বরকত, সালাম প্রমুখের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠেছিল, তা তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের ভিত্তি নাড়িয়ে দিয়েছিল। অন্যায় ও শোষণের মুখে মাথা নত না করে বাঙালি রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং রক্তের বিনিময়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, কয়েকজন বখাটে যুবকের নিত্যদিনের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করেছিল রীণা। সে অন্যায়ের কাছে নতিস্বীকার করেনি, বরং জুতা দেখিয়ে তার প্রবল ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে। পরবর্তীকালে তাকে প্রাণ বিসর্জন দিতে হলেও তার সেই সাহসী প্রতিবাদ অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। কবিতায় যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাঙালির সোচ্চার প্রতিবাদ ও আত্মাহুতি ব্যক্ত হয়েছে, উদ্দীপকের রীণার ক্ষেত্রেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন প্রতিবাদের সেই একই চেতনা প্রস্ফুটিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকের রীণা আর 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার শহিদরা একই প্রতিবাদের মূর্ত প্রতীক”— উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    অন্যায়ের কাছে পরাভব না মেনে নিজের অবস্থান থেকে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং সেই কারণে মৃত্যুবরণ করার চেতনায় উদ্দীপকের রীণা ও কবিতার শহিদরা এক মোহনায় মিলিত হয়েছে।

    'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় বর্ণিত একুশের ও ঊনসত্তরের শহিদরা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্যাতন ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁরা রাজপথে নেমে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে গণ-আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। তাঁদের এই আত্মদান ছিল অন্যায় ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাহসিকতার প্রতীক। তাঁদের আত্মত্যাগ সমগ্র জাতিকে স্বাধিকার আন্দোলনের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

    অপরদিকে, উদ্দীপকের রীণা একটি বখাটে দলের সামাজিক হয়রানি ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে একা রুখে দাঁড়ায়। সে ভয়ে চুপ না থেকে সরাসরি জুতা দেখিয়ে অসমসাহসিক প্রতিবাদ জানায়। এর চরম প্রতিশোধ হিসেবে বখাটেরা তাকে হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখে। ব্যক্তিগত জীবনের পরিসরে রীণার এই প্রতিবাদ ছিল অত্যন্ত তীব্র এবং আপসহীন।

    যদিও কবিতার শহিদদের লড়াই ছিল সমগ্র জাতির রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের সামষ্টিক লড়াই এবং রীণার লড়াই ছিল ব্যক্তিপর্যায়ে নিজের সম্ভ্রম ও সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য, তবুও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জীবন বিসর্জন দেওয়ার মানসিকতায় তারা উভয়েই অভিন্ন। সামাজিক কিংবা রাজনৈতিক— যে প্রেক্ষাপটেই হোক না কেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীক প্রতিরোধ গড়ে তোলার দিক থেকে উভয়েই প্রতিবাদের অনন্য মূর্ত প্রতীক। সুতরাং উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন