গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • বাংলাদেশ নৌবাহিনী কলেজ, চট্টগ্রাম • বাংলাদেশ নৌবাহিনী কলেজ, চট্টগ্রাম টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

রাফাহ্ তার কানাডা প্রবাসী বোনের জন্য জ্যামিতিক আকারের ফুল, লতাপাতার বিমূর্ত নকশা বিশিষ্ট একটি ঐতিহ্যবাহী শাড়ি ক্রয় করলেন। অপর দিকে তার দাদির জন্য গরদের একটি শাড়ি কিনলেন। যেটি গুটি পোকার লালা থেকে তৈরি।

  1. ক)

    খাসিয়া মেয়েদের ব্যবহৃত পোশাকের নাম লেখো।

    (1)
  2. খ)

    "খদ্দর" শব্দটি স্বদেশি আন্দোলনের সাথে জড়িত।- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে রাফাহ্ তার বোনের জন্য কোন ধরনের শাড়ি কিনেছে? তার বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রাফাহর কেনা বোনের ও দাদির শাড়ি দুটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খাসিয়া মেয়েদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম হলো 'কাজিম পিন' (বা কাজিমপিন)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় বিদেশি বস্ত্র বর্জন করে দেশি বস্ত্র ব্যবহারের ডাক দেওয়া হয়, যা 'স্বদেশি আন্দোলন' নামে পরিচিত। এই আন্দোলনে মহাত্মা গান্ধীর আহ্বানে দেশের সাধারণ মানুষ চরকায় সুতা কেটে মোটা সুতি কাপড় তৈরি শুরু করে। স্থানীয়ভাবে প্রস্তুত এই হাতে বোনা মোটা সুতি কাপড়ই 'খদ্দর' বা 'খাদি' নামে পরিচিতি লাভ করে। এভাবে আত্মনির্ভরশীলতা ও দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে 'খদ্দর' শব্দটি স্বদেশি আন্দোলনের সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রাফাহ্ তার প্রবাসী বোনের জন্য ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ি কিনেছে।

    জামদানি শাড়ির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. জ্যামিতিক নকশা: জামদানি শাড়িতে জ্যামিতিক আকারের ফুল, লতা, পাতা, কলকা ইত্যাদি বিমূর্ত ও ঐতিহ্যবাহী নকশায় বোনা হয়।
    ২. বয়নের কৌশল: এটি সূক্ষ্ম সুতি বা রেশমি সুতা দিয়ে এক বিশেষ হস্তচালিত তাঁতে বোনা হয়, যেখানে টানা সুতার মাঝে হাত দিয়ে অতিরিক্ত নকশার সুতা প্রবেশ করিয়ে নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়।
    ৩. স্বচ্ছতা ও আরামদায়ক: জামদানি শাড়ি ওজনে হালকা, সূক্ষ্ম ও আরামদায়ক হয়। এর জমিন মসৃণ এবং নকশাগুলো শাড়ির ওপর ভেসে থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রাফাহ্ তার বোনের জন্য কিনেছে ঐতিহ্যবাহী 'জামদানি শাড়ি' এবং দাদির জন্য কিনেছে 'গরদ শাড়ি'। নিচে শাড়ি দুটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. তন্তুর উৎস: জামদানি মূলত উচ্চমানের সূক্ষ্ম সুতি সুতা (অনেক ক্ষেত্রে রেশম মিশ্রিত) দিয়ে তৈরি। অন্যদিকে গরদ হলো খাঁটি রেশম বা সিল্কের শাড়ি, যা গুটিপোকার (তুঁত পোকার) লালা থেকে নিঃসৃত রেশম তন্তু দিয়ে তৈরি।
    ২. তৈরি প্রণালি ও টেক্সচার: জামদানি শাড়িতে হস্তচালিত তাঁতে অতিরিক্ত সুতা দিয়ে হাত দিয়ে নকশা তোলা হয়, এর জমিন কিছুটা জালি বা স্বচ্ছ হয়। গরদ শাড়ির জমিনে কোনো সুতার কৃত্রিম মাড় বা রঙ না দিয়ে স্বাভাবিক সোনালি-সাদা বা অফ-হোয়াইট রঙে বোনা হয়, যা অপেক্ষাকৃত ঘন ও মসৃণ।
    ৩. নকশা ও অলংকরণ: জামদানি শাড়িতে জ্যামিতিক আকারের বৈচিত্র্যময় ফুল, লতাপাতার আকর্ষণীয় মোটিফ থাকে। পক্ষান্তরে গরদ শাড়ির জমিন সাধারণত সাদামাটা বা ছোট বুটির হয় এবং পাড়ে ও আঁচলে উজ্জ্বল লাল বা অন্যান্য রঙের চওড়া বা সরু নকশা থাকে।
    ৪. ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যবহার: গরদ শাড়ি মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা-অর্চনা এবং প্রবীণদের ব্যবহারের জন্য পবিত্র ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক হিসেবে সমাদৃত। অপরপক্ষে জামদানি একটি সার্বজনীন উৎসবের পোশাক হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।

    সুতরাং দেখা যায়, তন্তুর বৈশিষ্ট্য, বুননপদ্ধতি এবং ব্যবহারের দিক থেকে শাড়ি দুটি পরস্পরের থেকে ভিন্ন ও নিজস্ব ঐতিহ্যে ভাস্বর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন