ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
সালাম, রফিক ও শফিক একত্রে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি ব্যবসায় গড়ে তোলেন। সালাম মূলধন সরবরাহ করে এবং ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ নেয়। কিন্তু রফিক মূলধন না দিয়ে নিজে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত থাকে। শফিক চুক্তির শর্ত অনুযায়ী শুধুমাত্র বিনিয়োগকৃত মূলধনের দায় বহনে বাধ্য থাকবে। পাঁচ বছর পরে সালাম দেউলিয়া ঘোষিত হলে ব্যবসায়টি বন্ধ হয়ে যায়।
- ক)(1)
নামমাত্র অংশীদার কাকে বলে?
- খ)(2)
অংশীদারি ব্যবসায়ের দায় অসীম কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের শফিককে কোন ধরনের অংশীদার বলা যায়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সালাম দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ায় ব্যবসায়টি কোন ধরনের বিলোপসাধন ঘটবে? মতামত বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে অংশীদার ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে না এবং পরিচালনায় অংশ নেয় না, কিন্তু চুক্তির শর্তানুসারে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে ব্যবসায়ে নিজের নাম ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তাকে নামমাত্র অংশীদার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যবসায়ের দেনা পরিশোধের জন্য বিনিয়োগকৃত মূলধনের পাশাপাশি অংশীদারদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিও দায়ী থাকার কারণে অংশীদারি ব্যবসায়ের দায় অসীম হয়।
অংশীদারি আইনে সাধারণ অংশীদারদের দায় সীমাবদ্ধ নয়। ব্যবসায়ের সম্পদ বিক্রির পরও যদি পাওনাদারদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব না হয়, তবে অংশীদারদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে আনুপাতিক বা এককভাবে সেই অবশিষ্ট ঋণ পরিশোধ করতে হয়। এই ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার কারণেই এর দায়কে অসীম বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শফিককে 'সীমাবদ্ধ বা সীমিত অংশীদার' বলা যায়।
যে অংশীদারের দায় ব্যবসায়ে তার বিনিয়োগকৃত মূলধনের পরিমাণ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে এবং যিনি সাধারণত ব্যবসায় পরিচালনায় প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিতে পারেন না, তাকে সীমিত বা সীমাবদ্ধ অংশীদার বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সালাম, রফিক ও শফিক একত্রে একটি ব্যবসায় গড়ে তুলেছেন। সেখানে শফিক চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ব্যবসায় মূলধন বিনিয়োগ করেছেন, তবে তার দায় কেবলমাত্র বিনিয়োগকৃত মূলধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। অংশীদারি আইন অনুসারে যার দায় নির্দিষ্ট মূলধন দ্বারা সীমাবদ্ধ, তিনিই সীমিত অংশীদার। সুতরাং শফিক একজন সীমিত অংশীদার।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সালাম দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ায় ব্যবসায়টির 'বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন' ঘটবে।
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৪১ ধারা অনুযায়ী, কোনো অংশীদারি ব্যবসায়ের সকল অংশীদার অথবা একজন ব্যতীত সকল অংশীদার দেউলিয়া ঘোষিত হলে কিংবা আইনগত কারণে ব্যবসায়ের ধারাবাহিকতা অবৈধ হয়ে পড়লে ব্যবসায়টির বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন ঘটে।
উদ্দীপকে সালাম, রফিক ও শফিক তিনজন অংশীদার ছিলেন। তাদের মধ্যে শফিক ছিলেন একজন সীমিত অংশীদার। সীমিত অংশীদারের দায় ও সত্তা সাধারণ অংশীদারের মতো নয় এবং আইন অনুযায়ী কেবল সীমিত অংশীদার নিয়ে সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায় টিকে থাকতে পারে না। অন্যদিকে, রফিক কোনো মূলধন সরবরাহ না করে শুধু পরিচালনা করেন এবং সালাম মূলধন দিয়ে পরিচালনায় অংশ নেন। এমতাবস্থায় পূর্ণ দায়সম্পন্ন প্রধান অংশীদার সালাম আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ায় ব্যবসায়ের আইনগত কাঠামো ভেঙে পড়ে। অংশীদারি আইনের ৪১ ধারার বিধান মতে, একাধিক অংশীদারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারের দেউলিয়াত্ব বা সকল মূল সত্তার বিলুপ্তিতে ব্যবসায়টি আর সচল রাখা যায় না।
সুতরাং, সালামের দেউলিয়া ঘোষণার ফলে চুক্তিভিত্তিক সম্পর্কের ইতি ঘটে এবং আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে ব্যবসায়টির বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন ঘটে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও