অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বর্তমান বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত রূপকল্প-২০২১-এর সুনির্দিষ্ট ২২টি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং এর যথাযথ বাস্তবায়ন। এ পরিকল্পনার অধীনে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ শেষ হওয়ায় সম্প্রতি সরকার সর্বশেষ সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকার মনে করে এসব পরিকল্পনার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অর্জন সহজ হবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে। বিশেষজ্ঞরাও আশা করেছেন, এসব পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্প সমৃদ্ধ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
- ক)(1)
প্রেক্ষিত পরিকল্পনা কী?
- খ)(2)
'স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভীত রচনা করে।'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের বর্ণিত বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনাসমূহের মেয়াদকাল উল্লেখ করো।
- ঘ)(4)
বিশেষজ্ঞগণের আশাবাদের আলোকে বাংলাদেশে উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশের দীর্ঘমেয়াদি আর্থ-সামাজিক রূপকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের জন্য যে রূপরেখা বা উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়, তাকে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (Perspective Plan) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তি রচনা করে'—কারণ যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য সরাসরি একবারে অর্জন করা সম্ভব নয়, বরং তা ধাপে ধাপে অর্জন করতে হয়।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় দেশের সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক রূপকল্প ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আর সেই সামগ্রিক লক্ষ্যকে ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করে বার্ষিক বা স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়ন করা হয়। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার অগ্রগতি, সম্পদ আহরণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের সফলতাই মূলত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের পথ সুগম করে। তাই স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশ সরকারের রূপকল্প-২০২১ অর্জনের লক্ষ্যে গৃহীত উন্নয়ন পরিকল্পনাসমূহের মেয়াদকাল নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (রূপকল্প-২০২১): এর মেয়াদকাল ছিল ২০১০ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত (মোট ১২ বছর/দীর্ঘমেয়াদি)।
২. ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা: এর বাস্তবায়ন মেয়াদকাল ছিল ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সাল (জুলাই ২০১১ – জুন ২০১৫)।
৩. সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা: এর মেয়াদকাল ছিল ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল (জুলাই ২০১৬ – জুন ২০২০)।
৪. বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP): এটি স্বল্পমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা, যার মেয়াদকাল সাধারণত এক অর্থবছর (১ বছর) হয়ে থাকে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বিশেষজ্ঞদের আশাবাদ অনুযায়ী, সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে একটি আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্পসমৃদ্ধ মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর করা সম্ভব। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিসীম।
১. সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার: বাংলাদেশে জনসংখ্যা বেশি কিন্তু প্রাকৃতিক ও আর্থিক সম্পদ সীমিত। উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাতের গুরুত্ব নির্ধারণ করে সম্পদের সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।
২. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন: পরিকল্পিতভাবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ও পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো মেগা প্রকল্পগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হয়, যা জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে।
৩. শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত রূপান্তর: একটি সনাতন কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে আধুনিক শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে উত্তরণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি সমন্বিত নীতি ও কৌশল দরকার, যা উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমেই পাওয়া যায়।
৪. দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান: সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং বিপুল যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব হয়।
অতএব, বাংলাদেশকে একটি আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্পসমৃদ্ধ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার রূপকল্প বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও