ভূগোল ১ম পত্র • জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    জলবায়ু কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    নিরক্ষীয় অঞ্চলে কেন অধিক বৃষ্টিপাত হয়? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'গ' ঋতুর বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' ঋতুর বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থাকে জলবায়ু বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য সারা বছর প্রায় লম্বভাবে কিরণ দেয়। এর ফলে এখানকার বায়ু উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে ওপরের দিকে উঠে যায়। এছাড়া নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের পরিমাণ বেশি থাকায় প্রচুর বাষ্পীভবন ঘটে। এই জলীয় বাষ্পপূর্ণ হালকা বায়ু উপরে উঠে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পরিচলন প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন প্রায় নিয়মিতভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'গ' ঋতুটি হলো বাংলাদেশের 'শীতকাল' (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এবং গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সে.)।

    বাংলাদেশে শীতকালের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নে বর্ণনা করা হলো:
    ১. সময়কাল ও তাপমাত্রা: নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ দেশে শীতকাল বিরাজ করে। এ ঋতুতে বাংলাদেশে গড় তাপমাত্রা থাকে প্রায় ১৭.৭° সেলসিয়াস। জানুয়ারি বাংলাদেশের শীতলতম মাস, যার গড় তাপমাত্রা প্রায় ১৬.৬° সেলসিয়াস।
    ২. বায়ুপ্রবাহ: শীতকালে বাংলাদেশে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিক থেকে শীতল ও শুষ্ক মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। স্থলভাগ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে এই বায়ুতে আর্দ্রতা থাকে না বললেই চলে।
    ৩. বৃষ্টিপাত: শুষ্ক মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ ঋতুতে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে। তবে বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের সামান্য অংশ (৫ থেকে ১০ ভাগেরও কম) এ সময়ে ঘটে থাকে।
    ৪. কুয়াশা ও আর্দ্রতা: শীতকালে রাত ও সকালে ঘন কুয়াশা পড়ে এবং তাপমাত্রা কমে গিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অনুভূত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' ঋতুটি হলো বাংলাদেশের 'বর্ষাকাল' (জুন থেকে অক্টোবর এবং গড় তাপমাত্রা ২৭° সে.)। নিম্নে এ ঋতুর বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বায়ুপ্রবাহ: জুন মাসের শুরুতে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এই বায়ুর প্রবাহই বর্ষাকালের সূচনা ঘটায়।
    ২. বৃষ্টিপাত: বাংলাদেশের মোট বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগই বর্ষাকালে হয়ে থাকে। এ সময় পাহাড়ি অঞ্চলে যেমন সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা কয়েকদিন ধরে অঝোরে বৃষ্টি হতে দেখা যায়।
    ৩. তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা: বর্ষাকালে গড় তাপমাত্রা থাকে প্রায় ২৭° সেলসিয়াস। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় প্রখর রোদ না থাকলেও বাতাসে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকায় আর্দ্রতা অনেক বেশি থাকে এবং ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়।
    ৪. বন্যা ও নদী-নালার অবস্থা: প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের নদ-নদীগুলো পানিতে উপচে পড়ে এবং প্রায়শই নিম্নভূমি প্লাবিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়।

    সুতরাং, উষ্ণ-আর্দ্র আবহাওয়া, প্রচুর বৃষ্টিপাত ও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাব উদ্দীপকের 'খ' বা বর্ষাকালের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন