ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

তমালতলা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে আজাদ সাহেব তার উদ্বোধনী ভাষণে বলেন যে, তিনি অন্যায়ের প্রতিকার ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবেন। আবেগঘন ভাষণে তিনি আরও বলেন যে, তার কোনো ভুল হলে জনগণ যেন তার ভুল ধরিয়ে দেন। বস্তুতায় সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেও তিনি ব্যাপক বাধার সম্মুখীন হন। উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তিনি সহনীয় মাত্রায় কিছু কর ধার্য করলে। একদল লোক কর দিতে অস্বীকার করে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে। থাকে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে সকল অপশক্তির মোকাবিলা করে জেলায় শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।

  1. ক)

    বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে কে প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন?

    (1)
  2. খ)

    খুলাফায়ে রাশেদিন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    চেয়ারম্যান সাহেবের উদ্বোধনী বক্তৃতায় খুলাফায়ে রাশেদিনের কোন খলিফার ভাষণের আদর্শ পরিলক্ষিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো

    (3)
  4. ঘ)

    'জাকাত বিরোধী আন্দোলন দমাতে উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের চেয়ে খলিফাকে আরও বেশি দৃঢ়তা প্রদর্শন করতে হয়েছিল'- বক্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘খুলাফায়ে রাশেদিন’ বলতে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতের পর তাঁর আদর্শ অনুযায়ী সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে মুসলিম জাহানের শাসনভার পরিচালনাকারী চারজন খলিফাকে বোঝায়।
    তাঁরা হলেন—হযরত আবু বকর (রা.), হযরত উমর (রা.), হযরত উসমান (রা.) এবং হযরত আলী (রা.)। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬৬১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই চার খলিফার শাসনকালকে ইসলামের ইতিহাসে ‘খিলাফতে রাশেদা’ বা ন্যায়নিষ্ঠ খলিফাদের যুগ বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চেয়ারম্যান সাহেবের উদ্বোধনী বক্তৃতায় খুলাফায়ে রাশেদিনের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর ঐতিহাসিক উদ্বোধনী ভাষণের আদর্শ পরিলক্ষিত হয়েছে।

    হযরত আবু বকর (রা.) খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত এক ঐতিহাসিক ভাষণে বলেছিলেন, তিনি যেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও ন্যায়ের পক্ষে থাকেন এবং জনগণ যেন তাকে সহযোগিতা করে। তিনি আরও ঘোষণা করেছিলেন, যদি তিনি সঠিক পথে চলেন তবে প্রজারা যেন তাঁকে সমর্থন করে, আর যদি তিনি ভুল পথে যান তবে প্রজারা যেন তাঁর ভুল ধরিয়ে দিয়ে তাঁকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনে।

    উদ্দীপকের চেয়ারম্যান আজাদ সাহেবও দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্যায়ের প্রতিকার, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং তাঁর কোনো ভুল হলে জনগণ যেন তা ধরিয়ে দেয়—এমন উদার ও গণতান্ত্রিক বক্তব্য প্রদান করেন। এটি সরাসরি হযরত আবু বকর (রা.)-এর প্রথম খলিফা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের সময়কার ভাষণের মূল সুর ও শাসন দর্শনের সাথে হুবহু মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ। উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবকে একটি স্থানীয় পর্যায়ের কর অমান্যকারী গোষ্ঠীর মোকাবিলা করতে হয়েছিল, কিন্তু হযরত আবু বকর (রা.)-কে খিলাফতের অস্তিত্ব ও দ্বীন ইসলামের মৌলিক স্তম্ভ রক্ষার স্বার্থে একটি বিপজ্জনক ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়ে অসীম দৃঢ়তা দেখাতে হয়েছিল।

    মহানবি (সা.)-এর ওফাতের পর আরবের বিভিন্ন উপজাতি ইসলাম ত্যাগ (রিদ্দাহ) করে এবং ইসলামের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ ‘জাকাত’ প্রদানে অস্বীকার করে। অনেকেই মদিনার কেন্দ্রীয় শাসন অস্বীকার করতে শুরু করে। তৎকালীন জটিল পরিস্থিতিতে হযরত উমর (রা.)-সহ অনেক সাহাবি কিছুটা নমনীয় নীতি অবলম্বনের পরামর্শ দিলেও হযরত আবু বকর (রা.) দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, "আল্লাহর শপথ! রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় যারা একটি উটের রশি পরিমাণ জাকাত দিত, আজ তা দিতে অস্বীকার করলে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।"

    উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেব সাধারণ উন্নয়ন কর আদায়ে বাধার মুখে শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন, কিন্তু হযরত আবু বকর (রা.) সমগ্র মুসলিম উম্মাহ ও খিলাফতকে ভেঙে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে নমনীয়তার পরিবর্তে কঠোরতম ও আপসহীন মনোভাব প্রদর্শন করেন এবং জাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে সফল সামরিক অভিযান পরিচালনা করে ইসলামি রাষ্ট্রকে রক্ষা করেন। অতএব, উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের চেয়ে খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-কে বহুগুণ বেশি সাহসিকতা ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করতে হয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন