অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৬

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

রহিম সাহেব একজন প্রবাসী। তিনি আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বাজারে গিয়ে দেখেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত দ্রব্যের প্রতি ক্রেতাদের প্রচুর আগ্রহ। তিনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে দেশীয় শিল্পের সাম্প্রতিক উৎপাদন তথ্য সংগ্রহ করেন, যা নিম্নরূপ-রহিম সাহেব তার উদ্যোক্তা বন্ধু সেলিমের কাছে জানতে পারেন বাংলাদেশে শ্রমিকদের অদক্ষতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি ইত্যাদি কারণে দেশে শিল্পায়নের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

  1. ক)

    কুটির শিল্প কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বৃহৎ শিল্প কিভাবে বেকার সমস্যা সমাধান করতে পারে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চা শিল্পের উৎপাদন প্রবৃদ্ধির ওপর মন্তব্য করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে চামড়া শিল্পের উন্নয়নে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত? বুঝিয়ে বল।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রধানত পারিবারিক সদস্যদের দ্বারা পারিবারিকভাবে পরিচালিত হয় এবং স্বল্প মূলধন ও স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন করে, তাকে কুটির শিল্প বলে। জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী কুটির শিল্পে সাধারণত পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্যসহ সর্বোচ্চ ১০-১৫ জনের কর্মসংস্থান থাকে এবং জমি ও কারখানা ভবন ছাড়া স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৫ লক্ষ টাকার নিচে থাকে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বৃহৎ শিল্প দেশের বিপুল বেকার সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    বৃহৎ শিল্পকারখানায় বিপুল পরিমাণ মূলধন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি প্রত্যক্ষভাবে প্রচুরসংখ্যক দক্ষ, আধা-দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এছাড়া বৃহৎ শিল্পকে কেন্দ্র করে পরিবহন, কাঁচামাল সরবরাহ, মেরামত, বিপণন ও বিভিন্ন সহযোগী লিংকেজ শিল্পের বিকাশ ঘটে, যা পরোক্ষভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করে। এর ফলে দেশের শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত হতে পারে এবং বেকার সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সারণিতে ২০০৯-১০ থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছর পর্যন্ত তৈরি পোশাক, চামড়া ও চা শিল্পের উৎপাদন তথ্য দেওয়া হয়েছে।

    ১. তৈরি পোশাক শিল্প: ২০০৯-১০ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ৪০৭১ মিলিয়ন টাকা, যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১০-১১ অর্থবছরে ৪২৯০ মিলিয়ন টাকা, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৬০০০ মিলিয়ন টাকা এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৮৮০০ মিলিয়ন টাকায় পৌঁছায়। অর্থাৎ তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত ইতিবাচক ও দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ২. চামড়া শিল্প: ২০০৯-১০ অর্থবছরে চামড়ার উৎপাদন ছিল ১০.৫০ মিলিয়ন বর্গমিটার। ২০১০-১১ অর্থবছরে তা সামান্য বেড়ে ১০.৬০ হলেও ২০১১-১২ অর্থবছরে পুনরায় হ্রাস পেয়ে ১০.৫০ মিলিয়ন বর্গমিটারে নেমে আসে। তবে ২০১২-১৩ অর্থবছরে তা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে ১৯.০০ মিলিয়ন বর্গমিটারে দাঁড়ায়। অর্থাৎ প্রাথমিক বছরগুলোতে উৎপাদন স্থবির থাকলেও শেষ বছরে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

    ৩. চা শিল্প: ২০০৯-১০ অর্থবছরে চায়ের উৎপাদন ছিল ৫৯.৫০ হাজার মেট্রিক টন, যা ২০১০-১১ তে ৬০.০০ এবং ২০১১-১২ তে ৬১.০০ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছায়। কিন্তু ২০১২-১৩ অর্থবছরে তা সামান্য কমে ৬০.৭৫ হাজার মেট্রিক টন হয়। অর্থাৎ চা শিল্পের উৎপাদন তুলনামূলকভাবে প্রায় স্থির ও ধীরগতির প্রবৃদ্ধি প্রদর্শন করেছে।

    সার্বিকভাবে দেখা যায়, তৈরি পোশাক শিল্পে সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রবৃদ্ধি হয়েছে, চামড়া শিল্পে শেষ বছরে উল্লম্ফন দেখা গেছে এবং চা শিল্পে উৎপাদন প্রবৃদ্ধি ছিল অত্যন্ত শ্লথ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে যে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকের অদক্ষতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি ইত্যাদির কারণে শিল্পের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তাই চামড়া শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা উচিত:

    ১. শ্রমিকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ: সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য শ্রমিক ও কারিগরদের যথাযথ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে।

    ২. চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি: চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া ট্যানারিতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য শোধনাগার (CETP) স্থাপন করে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় থাকে।

    ৩. কাঁচামাল ও ঋণ সহায়তা: চামড়া প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সামগ্রীর সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

    ৪. দুর্নীতি প্রতিরোধ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, দুর্নীতি রোধ এবং দেশে বিনিয়োগবান্ধব ও রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা আবশ্যক।

    ৫. আন্তর্জাতিক বাজারজাতকরণ ও ব্র্যান্ডিং: চামড়াজাত পণ্য যেমন জুতা, ব্যাগ ইত্যাদির বিশ্বমানের ডিজাইন প্রণয়ন এবং বিদেশে কার্যকর বাজার সম্প্রসারণ ও ব্র্যান্ডিংয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে।

    উপযুক্ত পদক্ষেপসমূহ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক শিল্পের মতো একটি অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন