অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
রহমান সাহেব 'X' দেশে বাস করেন। ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান এবং পরিবেশ দূষণের কারণে দেশটিতে ঘূর্ণিঝড়, ঘন ঘন বন্যা, অপর্যাপ্ত ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তরের নিম্নমুখিতা পরিলক্ষিত হয়। বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি দেশটির কৃষি উৎপাদনকে ব্যাহত করছে। পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার উন্নত বীজ, জৈব প্রযুক্তি, কৃষি ক্ষেত্রে আইসিটির ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।
- ক)(1)
কৃষি জোত কী?
- খ)(2)
উৎপাদন পদ্ধতি এবং ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষেত্রে জীবন নির্বাহী খামার এবং বাণিজ্যিক খামার কি একই? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত রহমান সাহেবের দেশটির কৃষি উন্নয়নের পথে অন্তরায়সমূহ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'X' দেশটির কৃষি উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একজন কৃষকের অধীনে থাকা চাষযোগ্য সমস্ত জমির সামগ্রিক সমষ্টিকে কৃষি জোত বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদন পদ্ধতি এবং ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষেত্রে জীবন নির্বাহী খামার এবং বাণিজ্যিক খামার এক নয়; এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
জীবন নির্বাহী খামারে মূলত পরিবারের ভরণপোষণের জন্য সনাতন পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করা হয়। এতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য না থাকায় কৃষকের ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা থাকে অত্যন্ত কম। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক খামারে মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি, উন্নত বীজ এবং যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন পরিচালিত হয়। বাজারমূল্যের ওঠানামা এবং মূলধনী বিনিয়োগের কারণে এতে ঝুঁকি গ্রহণের মাত্রা অনেক বেশি থাকে। তাই উৎপাদন পদ্ধতি ও ঝুঁকি উভয়ের দিক থেকেই এই দুই খামার সম্পূর্ণ ভিন্ন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত রহমান সাহেবের দেশটির কৃষি উন্নয়নের পথে প্রধান অন্তরায়গুলো হলো প্রতিকূল ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত দুর্যোগ।
কৃষি উৎপাদনে অনুকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য অপরিহার্য। কিন্তু উদ্দীপকের ‘X’ দেশে ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান এবং মারাত্মক পরিবেশ দূষণের কারণে বারবার ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানছে। এছাড়া সেখানে অপর্যাপ্ত ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের ফলে খরা পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে এবং অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে সেচকাজে সংকট তৈরি করছে। একইসাথে বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি কৃষিজমির লবণাক্ততা বাড়াচ্ছে ও ফসলহানি ঘটাচ্ছে।
এই সমস্ত প্রাকৃতিক ও জলবায়ুজনিত বিরূপ পরিবেশই মূলত উদ্দীপকের দেশটির কৃষি উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ‘X’ দেশটির কৃষি উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো সমসাময়িক জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর।
উদ্দীপকে উল্লেখিত দেশটির কৃষি খাত বৈশ্বিক উষ্ণতা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার প্রধানত তিনটি আধুনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে: উন্নত বীজ সরবরাহ, জৈব প্রযুক্তির (Biotechnology) প্রয়োগ এবং কৃষিক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (ICT) ব্যবহার।
এসব পদক্ষেপের গুরুত্ব নিম্নরূপ:
১. উন্নত বীজ ও জৈব প্রযুক্তি: খরা, বন্যা ও লবণাক্ততা সহনশীল উন্নত জাতের বীজ উদ্ভাবন ও ব্যবহারের মাধ্যমে বিরূপ জলবায়ুতেও কৃষি উৎপাদন অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব। জৈব প্রযুক্তি প্রয়োগের ফলে ফসলের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং প্রতি হেক্টরে উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
২. কৃষিতে আইসিটির ব্যবহার: আইসিটি ব্যবহারের ফলে কৃষকরা দ্রুত আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ফসল রোপণ ও কাটার সঠিক সময় এবং পোকা-মাকড় দমনের উপায় জানতে পারে। এতে দুর্যোগজনিত ফসলের ক্ষতি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায় এবং আধুনিক বিপণন ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকরা পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায়।সুতরাং, প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিস্থিতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করে দেশটির কৃষিকে টেকসই ও উৎপাদনশীল রাখতে সরকারের নেওয়া প্রযুক্তিভিত্তিক এসব পদক্ষেপ অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও প্রশংসনীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও