অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
আজিম স্যার ক্লাসে প্রাকৃতিক পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ছাত্রদের বললেন, গাছ পরিবেশ রক্ষার জন্য খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান। বাংলাদেশে প্রায় ২৫,০৮৭ বর্গ কি.মি. বনভূমি আছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। সুন্দরবন, মধুপুর ও ভাওয়াল গড় প্রভৃতি অল্প কয়েকটি অঞ্চল ছাড়া প্রায় পুরো দেশেই বৃক্ষরাজির অভাব রয়েছে। তাই আমাদের নিজেদের বাঁচার প্রয়োজনেই সারাদেশে প্রচুর পরিমাণে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। তাছাড়া দেশের ভূ-নিম্নস্থ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকা আরও গতিশীল করা সম্ভব।
- ক)(1)
বাংলাদেশের আয়তন কত বর্গকিলোমিটার?
- খ)(2)
বাংলাদেশে অর্থনীতি কৃষিনির্ভর কেন?
- গ)(3)
ক্লাসে আজিম স্যারের দেওয়া তথ্যে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের যে দিকটি ফুটে উঠেছে, তার ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বনভূমি নিয়ে আজিম স্যারের হতাশা থাকলেও, ভূ-নিম্নস্থ প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিয়ে তিনি কেন আশাবাদী? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের মোট আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার (ছিটমহল বিনিময়ের পর আনুষ্ঠানিকভাবে ১,৪৭,৬১০ বর্গকিলোমিটার)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহের জন্য কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অধিকাংশ শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ, জাতীয় আয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান এবং সামগ্রিক কর্মসংস্থানের সিংহভাগ কৃষি খাত থেকেই আসে বলে বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আজিম স্যারের দেওয়া তথ্যে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের বনভূমির অপ্রতুলতা ও পরিবেশগত ভারসাম্যের সংকটের দিকটি ফুটে উঠেছে।
একটি দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য মোট ভূখণ্ডের অন্তত ২৫% বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু উদ্দীপকে আজিম স্যারের বক্তব্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মাত্র প্রায় ২৫,০৮৭ বর্গ কি.মি. বনভূমি রয়েছে, যা দেশের মোট আয়তনের তুলনায় বেশ কম (শতকরা হিসেবে প্রায় ১৭% বা প্রকৃত বৃক্ষাচ্ছাদন অনুযায়ী আরও কম)। সুন্দরবন, মধুপুর ও ভাওয়াল গড় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো কিছু সীমিত অঞ্চল ছাড়া দেশের বিস্তীর্ণ অংশে প্রয়োজনীয় বৃক্ষরাজির তীব্র ঘাটতি রয়েছে। এই অপর্যাপ্ত বনভূমি দেশের জলবায়ু পরিবর্তন, মরুকরণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতাকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বনভূমির অপ্রতুলতা নিয়ে আজিম স্যারের হতাশা থাকলেও, ভূ-নিম্নস্থ প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিয়ে তাঁর আশাবাদী মনোভাব সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় বনভূমির অভাব থাকায় পরিবেশ ও জলবায়ুগত বিপর্যয় সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে, যা উদ্বেগের বিষয়। তবে বিপরীতে বাংলাদেশের ভূ-গর্ভে রয়েছে মূল্যবান প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, চুনাপাথর, চীনামাটি, কঠিন শিলা এবং বিভিন্ন খনিজ বালু ইত্যাদি ভূ-নিম্নস্থ সম্পদ।
এই সম্পদগুলোর যথাযথ অনুসন্ধান, উত্তোলন এবং দক্ষ ও পরিকল্পিত ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সংকট নিরসন করা সম্ভব। বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, সার ও সিমেন্ট কারখানাসহ ভারী ও মাঝারি শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হলে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে। ফলে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধি পেয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা অত্যন্ত গতিশীল হবে। সুতরাং, ভূ-নিম্নস্থ সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে শিক্ষকের আশাবাদ বাস্তবসম্মত ও যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও