বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মহীশূরের টিপু সুলতান ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় চরিত্র। তিনি বারবার বিভিন্ন লড়াইয়ে ইংরেজদের ধরাশায়ী করেন। চতুর ইংরেজরা পেরে না উঠে টিপুর দরবারের এক উচ্চভিলাশী সেনাপতিকে হাত করে নেয়। এই সেনাপতি টিপুর সব খবর ইংরেজদের কাছে পৌছে দিত। সেই সেনাপতি দুর্গের দরজা খুলে দিয়ে ইংরেজদের প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। নিজ সেনাপতির বিশ্বাসঘাতকতায় অবশেষে টিপু সুলতান ইংরেজদের হাতে প্রাণ হারান।
- ক)(1)
সিরাজউদ্দৌলার ঘাতকের নাম কী?
- খ)(2)
'কাজেই শওকতজঙ্গ নবাব হবে নামমাত্র।' কথাটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'সেনাপতি'র সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্র/চরিত্র সমূহের বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের টিপু সুলতান আর 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজের পরিণতি যেন একসূত্রে গাঁথা।" মন্তব্যটি বিচার কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সিরাজউদ্দৌলার ঘাতকের নাম মোহাম্মদি বেগ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'কাজেই শওকতজঙ্গ নবাব হবে নামমাত্র'- উক্তিটির মাধ্যমে ঘসেটি বেগম বোঝাতে চেয়েছেন যে শওকতজঙ্গ সিংহাসনে বসলেও মূল ক্ষমতার চালিকাশক্তি থাকবে তাঁর নিজের হাতেই।
নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর সিরাজউদ্দৌলার সিংহাসনপ্রাপ্তি তাঁর খালা ঘসেটি বেগম মেনে নিতে পারেননি। তাই সিরাজকে উৎখাত করার জন্য তিনি পূর্ণিয়ার শওকতজঙ্গকে সামনে রেখে চক্রান্তে লিপ্ত হন। ঘসেটি বেগমের আসল উদ্দেশ্য ছিল অযোগ্য শওকতজঙ্গকে পুতুল নবাব বানিয়ে নেপথ্য থেকে স্বয়ং শাসনক্ষমতা পরিচালনা করা। সেই কূটকৌশলের অংশ হিসেবেই তিনি এই মন্তব্য করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'সেনাপতি'র সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বিশ্বাসঘাতক প্রধান সেনাপতি মিরজাফর এবং চক্রান্তকারী অমাত্যদের চরিত্রের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে মহীশূরের টিপু সুলতানের এক উচ্চাভিলাষী সেনাপতি ইংরেজদের প্রলোভনে পড়ে দরবারের গোপন খবর পাচার করে এবং দুর্গের দরজা খুলে দিয়ে নিজ শাসকের চরম সর্বনাশ ডেকে আনে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও প্রধান সেনাপতি মিরজাফর নবাবের উচ্চপদ ও সম্মান পেয়েও সিংহাসনের মোহে অন্ধ হয়ে ইংরেজদের সাথে গোপন চুক্তি সম্পাদন করে। পলাশির প্রান্তরে সুবিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকেও সে ইংরেজদের নির্দেশমতো যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে নবাবের পরাজয় তরান্বিত করে। উদ্দীপকের সেনাপতির মতো মিরজাফরও নিজ প্রভু ও দেশের বিরুদ্ধে শত্রুর দোসর হয়ে কাজ করেছে। তাই উদ্দীপকের বিশ্বাসঘাতক সেনাপতি মূলত নাটকের মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতক রূপেরই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের টিপু সুলতান আর 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজের পরিণতি যেন একসূত্রে গাঁথা"—মন্তব্যটি পুরোপুরি যথার্থ।
ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে মহীশূরের শাসক টিপু সুলতান এবং বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা উভয়েই বিদেশি ঔপনিবেশিক শক্তি ইংরেজদের বিরুদ্ধে আজীবন আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। টিপু সুলতান বারবার ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করে বীরত্ব প্রদর্শন করলেও শেষ পর্যন্ত নিজ বিশ্বস্ত সেনাপতির গোপন বিশ্বাসঘাতকতায় পরাজিত হন এবং ইংরেজদের হাতে নিহত হন।
একইভাবে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, তরুণ নবাব সিরাজউদ্দৌলা মাত্র তেইশ বছর বয়সে বাংলার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ইংরেজদের আধিপত্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর প্রধান সেনাপতি মিরজাফর এবং পারিষদদের দেশদ্রোহী চক্রান্তের কারণে পলাশির যুদ্ধে তাঁর পতন ঘটে। শেষ পর্যন্ত নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে বন্দি হয়ে ঘাতক মোহাম্মদি বেগের হাতে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়।
উভয় নেতাই যোগ্য ও বীর সেনাপতি হওয়া সত্ত্বেও শত্রুর সামরিক দক্ষতার চেয়ে ঘরের শত্রুদের অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতা ও চক্রান্তের কারণেই নিজেদের জীবন ও রাজ্য হারান। এই দিক থেকে বিবেচনা করলে উদ্দীপকের টিপু সুলতান এবং নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলার মর্মান্তিক পরিণতি একই ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির সূত্রে গাঁথা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও