রসায়ন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

রসায়ন ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশের পশু সম্পদের উপর ভিত্তি করে একটি শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। অপরদিকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন দ্রুততর হওয়ায় সিমেন্ট শিল্পেরও প্রসার ঘটেছে।

  1. ক)

    ন্যানো পার্টিক্যাল কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কাগজ রিসাইক্লিং পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় শিল্পপণ্য উৎপাদনের মূলনীতি বর্ণনা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের প্রথম শিল্পের প্রসারে পরিবেশ দূষণরোধে তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব কণার আকার ১ থেকে ১০০ ন্যানোমিটার (nm) পরিসীমার মধ্যে থাকে, তাদেরকে ন্যানো পার্টিক্যাল (Nanoparticle) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কাগজ তৈরিতে প্রধান কাঁচামাল হিসেবে কাঠ ও বাঁশ ব্যবহৃত হয়, যার জন্য ব্যাপক হারে বন উজাড় করতে হয়। ব্যবহৃত কাগজ রিসাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহার করার মাধ্যমে নতুন কাগজ তৈরির জন্য গাছ কাটার প্রয়োজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এছাড়া রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ায় নতুন কাগজ উৎপাদনের তুলনায় পানি ও শক্তির ব্যবহার কম হয় এবং কাগজ তৈরির বর্জ্য দ্বারা পরিবেশ ও পানিদূষণ হ্রাস পায়। এভাবে কাগজ রিসাইক্লিং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় শিল্পপণ্যটি হলো সিমেন্ট। সিমেন্ট উৎপাদনের মূলনীতি নিম্নে বর্ণনা করা হলো:

    ১. কাঁচামাল সংগ্রহ ও চূর্ণীকরণ: সিমেন্ট তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো ক্যালসিয়ামঘটিত উপাদান (চুনাপাথর বা CaCO3CaCO_3) এবং সিলিকাঘটিত উপাদান (ক্লে বা কাদামাটি, যাতে SiO2SiO_2, Al2O3Al_2O_3, Fe2O3Fe_2O_3 থাকে)। কাঁচামালগুলোকে নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে বিচূর্ণ করা হয়।

    ২. ঘূর্ণায়মান চুল্লিতে দহন: মিশ্রণটিকে একটি বিশেষ ঘূর্ণায়মান চুল্লিতে (Rotary Kiln) প্রায় ১৪০০°C–১৫০০°C তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করা হয়। উচ্চ তাপমাত্রায় চুনাপাথর বিয়োজিত হয়ে চুন (CaOCaO) উৎপন্ন করে, যা ক্লে-র উপাদানের সাথে যুক্ত হয়ে ক্যালসিয়াম সিলিকেট ও অ্যালুমিনেটের মিশ্রণ তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় ছোট ছোট শক্ত দানাদার পদার্থ তৈরি হয়, যাকে সিমেন্ট ক্লিঙ্কার (Cement Clinker) বলে।

    ৩. জিপসাম সহযোগে গুঁড়াকরণ: উৎপন্ন ক্লিঙ্কার ঠান্ডা করে এর সাথে ২–৩% জিপসাম (CaSO4⋅2H2OCaSO_4 \cdot 2H_2O) মেশানো হয়। জিপসাম সিমেন্ট জমাট বাঁধার সময়কে নিয়ন্ত্রণ করে (সিমেন্ট যাতে দ্রুত জমাট না বাঁধে)। পরিশেষে এই মিশ্রণটিকে বল মিলের সাহায্যে অতি সূক্ষ্ম চূর্ণ করে সিমেন্ট প্রস্তুত করা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে পশু সম্পদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা শিল্পটি হলো চামড়া বা ট্যানারি শিল্প। এ শিল্পের বর্জ্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও বিষাক্ত হওয়ায় পরিবেশ সংরক্ষণে দূষণরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।

    দূষণরোধে করণীয় বিষয়ে আমার মতামত ও বিশ্লেষণ নিম্নে তুলে ধরা হলো:
    ১. কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (CETP) স্থাপন: ট্যানারির তরল বর্জ্যে উচ্চমাত্রার ক্রোমিয়াম, সালফাইড, অম্ল ও ক্ষার থাকে। প্রতিটি কারখানার তরল বর্জ্যকে বাধ্যতামূলকভাবে সার্বক্ষণিক কার্যকর কেন্দ্রীয় তরল বর্জ্য শোধনাগারের (CETP) মাধ্যমে পরিশোধন করে পরিবেশে নির্গমন করতে হবে।
    ২. ক্রোমিয়াম পুনরুদ্ধার ও পুনর্ব্যবহার: ট্যানিং প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত ক্ষতিকর ক্রোম বর্জ্যকে আলাদা প্ল্যান্টের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার (Chrome Recovery) করে পুনঃব্যবহারের ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে তা জলাশয়ে মিশে মাটি ও পানিদূষণ না ঘটায়।
    ৩. কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: চামড়ার ছাঁট, মাংস ও চর্বির মতো কঠিন বর্জ্যগুলোকে উন্মুক্ত স্থানে না ফেলে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে জৈব সার, বায়োগ্যাস বা পোলট্রি ফিডের কাঁচামাল তৈরিতে ব্যবহারের আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করতে হবে।
    ৪. পরিবেশবান্ধব রাসায়নিকের ব্যবহার: ট্যানিং প্রক্রিয়ায় ক্ষতিকর ও স্থায়ী রাসায়নিকের পরিবর্তে যথাসম্ভব এনজাইমভিত্তিক ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প রাসায়নিক ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
    ৫. কঠোর তদারকি ও আইন প্রয়োগ: শিল্পাঞ্চলে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মিত মনিটরিং এবং কারখানাগুলোতে পরিবেশ আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

    উপসংহারে বলা যায়, যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের মাধ্যমেই চামড়া শিল্পের উন্নয়ন এবং পরিবেশ দূষণরোধের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন