বাংলা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
11.1.
অমর একুশে বইমেলা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো।
11.2.
নিচের উদ্দীপক অনুসরণে একটি খুদেগল্প রচনা করো:
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ছাত্ররা কলেজ প্রাঙ্গণে রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এমন সময় সেখানে উপস্থিত হলেন সদর হাসপাতালের নতুন মেডিক্যাল অফিসার ডা. শায়লা .........
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১১.১. অমর একুশে বইমেলা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ:
স্থান: সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণ
চরিত্র: তানভীর ও সাজিদ
তানভীর: আরে সাজিদ! কেমন আছিস? তোকে মেলায় দেখে খুব ভালো লাগল।
সাজিদ: ভালো আছি তানভীর। তুই কেমন আছিস? প্রতিবছরই তো বইমেলায় আসা হয়, এবারও সুযোগটি হাতছাড়া করলাম না।
তানভীর: একদম ঠিক বলেছিস। অমর একুশে বইমেলা তো শুধু একটি বই কেনার স্থান নয়, এটি আমাদের জাতীয় সংস্কৃতি ও প্রাণের মিলনমেলা।
সাজিদ: একদম সত্যি! বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগের স্মৃতি বহন করে চলেছে এই বইমেলা। বাংলা একাডেমির পাশাপাশি সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্ত প্রাঙ্গণ মেলার আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
তানভীর: হ্যাঁ, চারপাশের বইপ্রেমীদের ভিড় আর লেখকদের উপস্থিতি এক অন্যরকম অনুভূতি তৈরি করে। তুই কি কিছু বই কিনলি?
সাজিদ: হ্যাঁ, ইতিহাসভিত্তিক কয়েকটি বই আর কিছু নতুন প্রকাশিত গল্পের বই কিনেছি। তুই কী কী কিনলি?
তানভীর: আমি সমকালীন বিজ্ঞান ও কবিতার কিছু বই কিনলাম। তবে এবার মনে হচ্ছে মেলায় নতুন প্রজন্মের লেখকদের বইয়ের সংখ্যা বেশ বেশি।
সাজিদ: ঠিক তাই। নতুন লেখকদের উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন, পাশাপাশি মানসম্পন্ন সাহিত্যের প্রসারও জরুরি।
তানভীর: খুব সুন্দর বলেছিস। বইপড়ার অভ্যাসই পারে একটি জাতিকে আলোকিত করতে। চল, এবার চা খেতে খেতে বাকি স্টলগুলো ঘুরে দেখি।
সাজিদ: চল, যাওয়া যাক।
অথবা,
১১.২. খুদেগল্প:
রক্তের বন্ধনে মুক্তিযুদ্ধ
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ছাত্ররা কলেজ প্রাঙ্গণে রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করেছে। পুরো প্রাঙ্গণ লাল-সবুজের পতাকায় সুসজ্জিত। সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের উদ্দীপনা চোখে পড়ার মতো। এমন সময় সেখানে উপস্থিত হলেন সদর হাসপাতালের নতুন মেডিক্যাল অফিসার ডা. শায়লা।
ছাত্ররা তাঁকে সশ্রদ্ধ অভ্যর্থনা জানিয়ে আসন গ্রহণ করতে বলল। ডা. শায়লা রক্তদাতাদের শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা ও রক্ত সংগ্রহ প্রক্রিয়া তদারক করতে লাগলেন। একপর্যায়ে তিনি নিজেই রক্ত দেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলেন। উপস্থিত এক শিক্ষার্থী অবাক হয়ে বলল, "ম্যাম, আপনি নিজেই রক্ত দেবেন?"
মুচকি হেসে ডা. শায়লা বললেন, "আজকের এই দিনে রক্ত দেওয়া আমার জন্য শুধু কর্তব্য নয়, এক পরম ঋণ শোধের চেষ্টা। আমার বাবা ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে বাবার শরীরে বুলেটের ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল। তখন স্থানীয় এক অচেনা যুবকের রক্তেই বাবার প্রাণ বেঁচে যায়। সেদিন রক্ত দিয়ে যে বন্ধন তৈরি হয়েছিল, তা আমাদের স্বাধীনতারই প্রতীক।"
ডা. শায়লার কথা শুনে উপস্থিত সকলের ভেতর এক নীরব আবেগ ও দেশপ্রেমের সঞ্চার হলো। শিক্ষার্থীরা নতুন উদ্যমে নিজেদের রক্তদানের লাইনে এসে দাঁড়াল। ডা. শায়লার রক্তদানের মধ্য দিয়ে দিনটি এক স্মরণীয় মানবিক উৎসবে রূপ নিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও