উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব রাজু চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০ একর জমিতে আম্রপালী বাগান করেন। উৎপাদিত আম দেশে ও বিদেশের বাজারে বিক্রয় করেন। তিনি আম উৎপাদন ও আম পাকানোর জন্য কোনো প্রকার ক্ষতিকারক কীটনাশক ও কেমিক্যাল ব্যবহার করেন না। এমনকি পলিথিন ব্যাগের পরিবর্তে চটের ব্যাগে আম সরবরাহ করেন। ব্যবসায় থেকে অর্জিত লাভের টাকা দিয়ে তিনি অটোমেটিক কৃষি যন্ত্র ও আম পরিবহনের জন্য ট্রাক ক্রয় করেন। বর্তমান সময়ে তার বাগানে ৩০০ জন শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
- ক)(1)
অভাব কী?
- খ)(2)
কীভাবে ক্রেতা ভ্যালু সৃষ্টি করা যায়?
- গ)(3)
জনাব রাজুর কার্যক্রম বিপণন ক্রমবিকাশের কোন পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"বিপণন অর্থনৈতিক উন্নয়নের সর্বাধিক কার্যকরী ইঞ্জিন" উক্তিটি উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষের প্রয়োজন যখন কোনো নির্দিষ্ট সমাজ, সংস্কৃতি ও ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের প্রভাবে মূর্ত বা প্রকাশিত রূপ লাভ করে, তখন তাকে অভাব বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্রেতা ভ্যালু সৃষ্টি করা যায় কোনো পণ্য বা সেবা থেকে প্রাপ্ত সুবিধা (benefit) এবং তা অর্জনের জন্য প্রদত্ত ব্যয়ের (cost) মধ্যে ইতিবাচক পার্থক্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে।
যখন কোনো প্রতিষ্ঠান পণ্যের মান বৃদ্ধি করে, ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করে, উন্নত সেবা প্রদান করে এবং ক্রেতার ক্রয়ের খরচ ও ঝুঁকি কমিয়ে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সন্তুষ্টি প্রদান করে, তখনই সফলভাবে ক্রেতা ভ্যালু সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব রাজুর কার্যক্রম বিপণন ক্রমবিকাশের 'সামাজিক বিপণন মতবাদ' (Societal Marketing Concept) বা 'সামাজিক দায়িত্বশীলতার পর্যায়'-এর অন্তর্ভুক্ত।
সামাজিক বিপণন মতবাদ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হবে ভোক্তার সন্তুষ্টি বিধান ও মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সমাজ তথা পরিবেশের সার্বিক কল্যাণ ও ভারসাম্য রক্ষা করা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব রাজু আম উৎপাদন ও পাকানোর ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতিকারক কীটনাশক বা কেমিক্যাল ব্যবহার করেন না। তিনি পরিবেশের সুরক্ষায় পলিথিনের পরিবর্তে চটের ব্যাগ ব্যবহার করেন। অর্থাৎ, তিনি শুধু নিজের মুনাফা বা ক্রেতার তাৎক্ষণিক তৃপ্তি নয়, বরং ক্রেতার সুস্বাস্থ্য ও সামগ্রিক পরিবেশ রক্ষার প্রতি সচেতন। এই পরিবেশবান্ধব ও মানবকল্যাণমুখী কার্যক্রম সরাসরি সামাজিক বিপণন মতবাদের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"বিপণন অর্থনৈতিক উন্নয়নের সর্বাধিক কার্যকরী ইঞ্জিন"— উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং উদ্দীপকের আলোকে সম্পূর্ণ বাস্তব ও যথার্থ।
বিপণন কেবল পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের কাজ নয়; এটি কৃষি, শিল্প ও সেবামূলক খাতের বিকাশ ঘটিয়ে সার্বিক অর্থনীতিকে গতিশীল করে। বিপণনের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্ব্যবহার হয়, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। বিখ্যাত ব্যবস্থাপনা বিশারদ পিটার ড্রাকারের মতেও বিপণন হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি।
উদ্দীপকে জনাব রাজুর ২০ একর জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে আম্রপালী আম চাষ এবং দেশ-বিদেশের বাজারে তা সুষ্ঠুভাবে বিপণনের ফলে অর্জিত লাভ থেকে অটোমেটিক কৃষি যন্ত্র ও ট্রাক ক্রয় করা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের মূলধনি সম্পদের বিকাশ ঘটেছে এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের পথ সুগম হয়েছে। এছাড়া, তাঁর কার্যক্রমে ৩০০ জন শ্রমিকের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা বেকারত্ব দূরীকরণ ও আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। এমনকি বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথও উন্মুক্ত হয়েছে।
সুতরাং, জনাব রাজুর কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে বিপণন কর্মকাণ্ড কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তির ব্যবহার, আয় বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখে। অতএব, বিপণনকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কার্যকরী ইঞ্জিন বলা যথাযথ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও