অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
সাদেক ২০১২ সালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি শিল্প গড়ে তোলে। ২০১৫ সালে তার পুঁজির পরিমাণ ৫০ লক্ষ টাকা হয় এবং শ্রমিকের সংখ্যা হয় ২০ জন। ২০২০ সালে তার শিল্প প্রতিষ্ঠানে পুঁজি বেড়ে হয় ১০ কোটি এবং শ্রমিক বেড়ে দাঁড়ায় ৯০ জনে।
- ক)(1)
শিল্প কী?
- খ)(2)
সরকার পলিথিন ব্যবহার রোধ করতে ব্যবস্থা নিচ্ছেন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ২০১২, ২০১৫ এবং ২০২০ সালে সাদেকের শিল্পসমূহকে সংজ্ঞায়িত কর।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ২০২০ সালের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিল্পের অবদান ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনীতিতে সাধারণত একই ধরনের দ্রব্য বা সেবা উৎপাদনে নিয়োজিত সকল উৎপাদন প্রতিষ্ঠান বা ফার্মের সমষ্টিকে একত্রে শিল্প বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পলিথিন একটি অপচনশীল পদার্থ, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এটি মাটিতে মিশে যায় না, যার ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয় এবং পয়োনিষ্কাশন নালা বা ড্রেনে আটকে গিয়ে মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে। এছাড়া পলিথিন পোড়ালে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস বায়ু দূষিত করে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। সামগ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার পলিথিন ব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী উদ্দীপকে উল্লিখিত সাদেকের শিল্পসমূহের শ্রেণিবিভাগ ও সংজ্ঞা নিম্নরূপ:
১. ২০১২ সালের শিল্প (কুটির শিল্প): জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, পারিবারিক সদস্যদের প্রাধান্য দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্থায়ী বিনিয়োগ (জমি ও কারখানার ভবন ব্যতীত) বিশিষ্ট উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানকে কুটির শিল্প বলে। ২০১২ সালে সাদেক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে উদ্যোগটি শুরু করেছিলেন, ফলে এটি কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
২. ২০১৫ সালের শিল্প (ক্ষুদ্র শিল্প): উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৭৫ লক্ষ টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা কিংবা যে শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৩১ থেকে ১২০ জন শ্রমিক কাজ করে, তাকে ক্ষুদ্র শিল্প বলে (সেবা খাতের ক্ষেত্রে পুঁজি ১০ লক্ষ থেকে ২ কোটি টাকা এবং শ্রমিক ১৬ থেকে ৩০ জন)। ২০১৫ সালে সাদেকের পুঁজি ৫০ লক্ষ টাকা এবং শ্রমিক ২০ জন হওয়ায় এটি ক্ষুদ্র শিল্পের অন্তর্গত।
৩. ২০২০ সালের শিল্প (মাঝারি শিল্প): উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১৫ কোটি টাকার অধিক এবং অনূর্ধ্ব ৫০ কোটি টাকা কিংবা ১২১ থেকে ৩০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকলে তাকে মাঝারি শিল্প বলে। তবে সেবা খাতের ক্ষেত্রে স্থায়ী সম্পদ ২ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকা বা শ্রমিক সংখ্যা ৫১ থেকে ১২০ জন হলে তা মাঝারি শিল্প হিসেবে গণ্য হয়। উদ্দীপকে ২০২০ সালে সাদেকের শিল্পে পুঁজি ১০ কোটি টাকা এবং শ্রমিক সংখ্যা ৯০ জন হওয়ায় এটি সেবা বা উৎপাদন উভয় মানদণ্ড বিবেচনায় 'মাঝারি শিল্প'-এর আওতাভুক্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ২০২০ সালে সাদেকের শিল্প প্রতিষ্ঠানটিতে পুঁজি বেড়ে দাঁড়ায় ১০ কোটি টাকা এবং শ্রমিকের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯০ জন। জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী এটি একটি মাঝারি শিল্প। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মাঝারি শিল্পের অবদান অপরিসীম। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো:
১. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: মাঝারি শিল্পগুলো শ্রমঘন প্রকৃতির হওয়ায় দেশের বিপুলসংখ্যক বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে, যা বেকারত্ব হ্রাস এবং দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২. জাতীয় আয় ও জিডিপিতে অবদান: মাঝারি শিল্প বিভিন্ন ধরনের ভোগ্যপণ্য ও শিল্পপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ অবদান রাখে।
৩. স্থানীয় সম্পদের সদ্ব্যবহার: এ ধরনের শিল্প স্থানীয় কাঁচামাল ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে গ্রামীণ ও মফস্বল অর্থনীতির বিকাশ ঘটায়।
৪. বৃহৎ শিল্পের সহায়ক ও সংযোগ সৃষ্টি: মাঝারি শিল্প অনেক সময় বৃহৎ শিল্পের কাঁচামাল বা যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী ব্যাকওয়ার্ড বা ফরোয়ার্ড লিংকেজ শিল্প হিসেবে কাজ করে, যা সামগ্রিক শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করে।
৫. রপ্তানি আয় বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়: মানসম্মত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে মাঝারি শিল্প একদিকে যেমন আমদানি বিকল্প পণ্য তৈরি করে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করে, তেমনি বিদেশে পণ্য রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
পরিশেষে বলা যায়, উপযুক্ত পুঁজি ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণে এবং শিল্পসমৃদ্ধ আধুনিক অর্থনীতি বিনির্মাণে ২০২০ সালের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মাঝারি শিল্পের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও