উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব রাজন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০ একর জমিতে উন্নত জাতের আম বাগান করেন। তার উৎপাদিত আম দেশে ও বিদেশে বাজারে বিক্রয় করেন। তিনি আম পাকানোর জন্য কোন কেমিক্যাল ব্যবহার করেন না। এছাড়া ক্ষতিকারক পলিথিন ব্যাগের পরিবর্তে কাগজের প্যাকেটে আম সরবরাহ করেন। ব্যবসা থেকে অর্জিত লাভের টাকা দিয়ে তিনি অটোমেটিক কৃষি যন্ত্র ও আম পরিবহনের জন্য ট্রাক ক্রয় করেন। বর্তমানে তার অধীনে ২০০ জন শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে।

  1. ক)

    চাহিদা কি?

    (1)
  2. খ)

    কিভাবে ক্রেতাভ্যালু সৃষ্টি করা যায়? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    জনাব রাজনের কার্যক্রম বিপণন ক্রমবিকাশের কোন পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত?

    (3)
  4. ঘ)

    "বিপণন অর্থনৈতিক উন্নয়নে সর্বাধিক কার্যকরী ইঞ্জিন"- ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার পেছনে যখন অর্থ ব্যয়ের সামর্থ্য এবং সেই অর্থ ব্যয় করার ইচ্ছা থাকে, তখন তাকে চাহিদা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একজন ক্রেতা কোনো পণ্য বা সেবা থেকে যে সামগ্রিক সুবিধা পায় এবং তা অর্জনে তাকে যে পরিমাণ ব্যয় করতে হয়, এই দুইয়ের পার্থক্যকে ক্রেতাভ্যালু বলে।

    ক্রেতাভ্যালু সৃষ্টি করতে হলে পণ্যের গুণগত মান, কার্যকারিতা ও সেবা বাড়াতে হয় অথবা পণ্যের জন্য ক্রেতার আর্থিক, সময় ও মানসিক ব্যয় কমাতে হয়। অর্থাৎ কম খরচে অধিক মানের পণ্য ও উন্নত বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদান করে ক্রেতার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সন্তুষ্টি নিশ্চিত করার মাধ্যমে ক্রেতাভ্যালু বৃদ্ধি করা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনাব রাজনের কার্যক্রম বিপণন ক্রমবিকাশের 'সামাজিক বিপণন যুগের' (Societal Marketing Era) অন্তর্ভুক্ত।

    সামাজিক বিপণন মতবাদে ক্রেতার সন্তুষ্টি ও ব্যবসায়ের মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সমাজ ও পরিবেশের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশ সুরক্ষা এবং জনস্বার্থ বিঘ্নিত না হওয়ার প্রতি খেয়াল রাখা হয়।

    উদ্দীপকে জনাব রাজন আম পাকানোর জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক বা কেমিক্যাল ব্যবহার করেন না এবং পরিবেশ দূষণকারী পলিথিন ব্যাগের পরিবর্তে স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কাগজের প্যাকেট ব্যবহার করে আম সরবরাহ করেন। ক্রেতাদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের সার্বিক কল্যাণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ব্যবসা পরিচালনা করায় তার এই কার্যক্রম স্পষ্টতই সামাজিক বিপণন যুগের অন্তর্ভুক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিপণন উৎপাদন ও ভোগের মধ্যে মেলবন্ধন সৃষ্টি করে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সচল ও গতিশীল রাখে বিধায় একে "অর্থনৈতিক উন্নয়নে সর্বাধিক কার্যকরী ইঞ্জিন" বলা হয়।

    বিপণন কেবল পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে সীমাবদ্ধ নয়; এটি চাহিদা সৃষ্টি, শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সম্পদের সুষম বণ্টন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহারে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। পিটার এফ. ড্রাকারের মতে, বিপণন অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশকে দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে সবচেয়ে কার্যকর শক্তির ভূমিকা পালন করে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব রাজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রয়ের মাধ্যমে বৃহৎ বাজার ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি করেছেন। অর্জিত মুনাফা পুনরায় আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও পরিবহন ট্রাক ক্রয়ে বিনিয়োগ করেছেন, যা মূলধন গঠন ও প্রযুক্তির প্রসারে ভূমিকা রাখছে। সর্বোপরি, তার এই ব্যবসায়িক উদ্যোগে ২০০ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা দারিদ্র্য বিমোচন ও মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখছে।

    অতএব, উৎপাদন বৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ, বৈদেশিক বাণিজ্য, মূলধন গঠন ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বিপণন দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখে বলে বিপণনকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সর্বাধিক কার্যকরী ইঞ্জিন বলা যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন