গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: ১০০১০০ গ্রাম আটার রুটিতে ৬৯.৪৬৯.৪ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১২.১১২.১ গ্রাম প্রোটিন এবং ১.৭১.৭ গ্রাম স্নেহ পদার্থ আছে।
দৃশ্যকল্প-২: শিলা তিনদিন যাবৎ জ্বরে ভুগছে। সে কোনো খাবার খেতে পারছে না। তার মা তাকে পুষ্টিবিদের পরামর্শে উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার দিচ্ছেন। পুষ্টিবিদের মতে, "বিশেষ বিশেষ অবস্থায় শক্তি চাহিদা নির্ণয়ে কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হয়।"
- ক)(1)
SDA পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
"শক্তি ছাড়া মানবজীবন অচল" — বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এর নির্দেশিত আটার রুটির শক্তিমূল্য নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ পুষ্টিবিদের উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
SDA-এর পূর্ণরূপ হলো Specific Dynamic Action।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানবদেহের সকল অভ্যন্তরীণ জৈবিক ক্রিয়াকলাপ (যেমন—হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন, রক্ত সঞ্চালন, শ্বাস-প্রশ্বাস, পরিপাক ইত্যাদি) পরিচালনা এবং দৈনন্দিন সকল কায়িক শ্রমের জন্য শক্তির প্রয়োজন হয়। খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে দেহ এই শক্তি লাভ করে। শরীরে শক্তির সরবরাহ বন্ধ বা অপ্রতুল হলে জীবনধারণের মৌলিক কাজগুলো বন্ধ হয়ে মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে। তাই শক্তি ছাড়া মানবজীবন অচল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ প্রদত্ত ১০০ গ্রাম আটার রুটিতে পুষ্টি উপাদানগুলোর পরিমাণ:
কার্বোহাইড্রেট = ৬৯.৪ গ্রাম
প্রোটিন = ১২.১ গ্রাম
স্নেহ পদার্থ = ১.৭ গ্রামআমরা জানি,
১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থেকে পাওয়া যায় ৪ কিলোক্যালরি শক্তি
১ গ্রাম প্রোটিন থেকে পাওয়া যায় ৪ কিলোক্যালরি শক্তি
১ গ্রাম ফ্যাট/স্নেহ পদার্থ থেকে পাওয়া যায় ৯ কিলোক্যালরি শক্তিঅতএব,
কার্বোহাইড্রেট থেকে প্রাপ্ত শক্তি = ৬৯.৪ × ৪ = ২৭৭.৬ কিলোক্যালরি
প্রোটিন থেকে প্রাপ্ত শক্তি = ১২.১ × ৪ = ৪৮.৪ কিলোক্যালরি
স্নেহ পদার্থ থেকে প্রাপ্ত শক্তি = ১.৭ × ৯ = ১৫.৩ কিলোক্যালরিসুতরাং, ১০০ গ্রাম আটার রুটির মোট শক্তিমূল্য = (২৭৭.৬ + ৪৮.৪ + ১৫.৩) কিলোক্যালরি = ৩৪১.৩ কিলোক্যালরি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ পুষ্টিবিদের উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ। মানুষের দৈনিক স্বাভাবিক শক্তি চাহিদা সবসময় একরকম থাকে না; বয়স, লিঙ্গ ও শারীরিক পরিশ্রমের বাইরেও বিশেষ কিছু শারীরিক ও শারীরবৃত্তীয় অবস্থায় শক্তি চাহিদা পরিবর্তিত হয় এবং তা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হয়।
১. রোগাবস্থা ও সংক্রমণ: দৃশ্যকল্পে শিলা জ্বরে ভুগছে। জ্বরের কারণে দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মৌল বিপাকীয় হার (BMR) উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। প্রতি ১° ফারেনহাইট তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য মৌল বিপাক প্রায় ৭% বৃদ্ধি পায়। ফলে রোগীর শক্তি বা ক্যালরির চাহিদা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পায়।
২. খাদ্য গ্রহণে অক্ষমতা ও দুর্বলতা: অসুস্থতার সময় রোগীর রুচি হ্রাস পায়, বমি বা ক্ষুধামন্দা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় কম পরিমাণে সহজে পরিপাকযোগ্য ও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাদ্য নির্বাচন জরুরি।
৩. গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকাল: এ সময় ভ্রূণের বা শিশুর যথাযথ বৃদ্ধি ও মায়ের স্বাস্থ্যরক্ষায় অতিরিক্ত ক্যালরি প্রয়োজন হয়।
৪. বৃদ্ধি ও শারীরিক পুনর্গঠন: শৈশব, কৈশোর কিংবা অসুস্থতা পরবর্তী সুস্থ হয়ে ওঠার সময়ে টিস্যু মেরামতের জন্য বর্ধিত শক্তি ও পুষ্টির দরকার হয়।সুতরাং, অসুস্থতা বা জ্বরের মতো বিশেষ শারীরিক অবস্থায় বিপাকীয় পরিবর্তন ও শক্তির ক্ষয়পূরণের বিষয়টি বিবেচনা করেই পথ্য ও পুষ্টি পরিকল্পনা করতে হয়, যা পুষ্টিবিদের মন্তব্যের যথার্থতা প্রমাণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও