কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

শৈলেন সিরাজগঞ্জের একজন সমৃদ্ধ কৃষিজীবী। বাড়িতে ছোটখাটো একটি গরুর খামার গড়ে তুলেছেন। প্রতিবছর বন্যায়। গবাদিপশুর খাদ্যের তীব্র সংকট হয়। তাছাড়া বন্যার সময় তার গরুগুলোর দেহের তাপমাত্রা অত্যাধিক বেড়ে যায় এবং শরীর কাঁপতে। থাকে। এ বছর তিনি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে যোগাযোগ করে তার খামারের গবাদিপশুর সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শে তার বাড়ির পাশের জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করেন এবং বিশেষ প্রক্রিয়ায় বন্যার পূর্বেই তিনি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন। এই সব প্লরামর্শে তিনি বিশেষভাবে উপকৃত হন।

  1. ক)

    'হে' কী?

    (1)
  2. খ)

    পশুপালন গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    শৈলেনের খামারের গরুর কী রোগ হয়েছে? এ রোগের লক্ষণগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শকৃত বিশেষভাবে পশুখাদ্য সংরক্ষণের পদ্ধতি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফুল আসার সময় শিমজাতীয় বা অন্যান্য সবুজ কাঁচা ঘাস কেটে রোদে শুকিয়ে আর্দ্রতা ১৫-২০% এ নামিয়ে এনে ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করাকে 'হে' (Hay) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পশুপালন মানবজাতির খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হওয়ায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশুপালনের মাধ্যমে দুধ, মাংস ও ডিমের মতো প্রাণিজ আমিষের যোগান নিশ্চিত হয়, যা শারীরিক বৃদ্ধি ও মেধার বিকাশে অপরিহার্য। এছাড়া পশুর চামড়া, লোম ও হাড় বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং গোবর থেকে উৎকৃষ্ট জৈব সার ও বায়োগ্যাস তৈরি করা যায়। বেকারত্ব দূরীকরণ ও কৃষকের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রেও পশুপালন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত লক্ষণ অনুযায়ী শৈলেনের খামারের গরুর বাদলা (Black quarter) বা অ্যানথ্রাক্স/তড়কা রোগের আক্রমণ হয়েছে। তবে তীব্র জ্বর, শরীর কাঁপা এবং বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় গবাদিপশুতে বিশেষত অ্যানথ্রাক্স বা বাদলা রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। বিশেষ করে হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া (১০৪°-১০৭° ফা.), কাঁপুনি এবং খাদ্য গ্রহণ বন্ধ হওয়া অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

    এ রোগের প্রধান লক্ষণগুলো নিম্নরূপ:
    ১. দেহের তাপমাত্রা অত্যন্ত বৃদ্ধি পায় (১০৪° হতে ১০৬° ফারেনহাইট বা ততোধিক) এবং শরীর ভীষণভাবে কাঁপতে থাকে।
    ২. পশু খাওয়া বন্ধ করে দেয়, অলস ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং রোমন্থন (জাবর কাটা) বন্ধ করে দেয়।
    ৩. শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত ও কষ্টদায়ক হয় এবং নাড়ির স্পন্দন বৃদ্ধি পায়।
    ৪. কখনো কখনো পশুর চোখ লাল হয়ে যায় এবং নাক, মুখ ও মলদ্বার দিয়ে গাঢ় আলকাতরার মতো কালচে রক্ত নির্গত হতে পারে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শে শৈলেনের নেপিয়ার ঘাস চাষ করে বন্যার পূর্বেই বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করার পদ্ধতিটি হলো 'সাইলেজ' (Silage) তৈরি।

    সবুজ কাঁচা ঘাসের গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রেখে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা গাঁজন (fermentation) প্রক্রিয়ায় অম্লীয় পরিবেশে বাতাসমুক্ত অবস্থায় সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে সাইলেজ বলা হয়।

    পদ্ধতিটি নিম্নরূপ:
    ১. ঘাস সংগ্রহ ও চপিং: ফুল আসার সময়ে সতেজ পুষ্টিকর নেপিয়ার ঘাস কেটে ছোট ছোট টুকরো (২-৩ ইঞ্চি) করে কেটে নেওয়া হয়।
    ২. সাইলো প্রস্তুত: ঘাস সংরক্ষণের জন্য সাইলো পিট বা গর্ত খনন করা হয় অথবা পলিথিন ব্যাগে সংরক্ষণ করা যায়। গর্ত বা পাত্রটির তলদেশ ও চারপাশ বায়ুরোধী করতে পলিথিন বিছানো হয়।
    ৩. প্রেস করা বা বাতাস বের করা: কাটা ঘাস সাইলো পিটে স্তরে স্তরে ফেলে ভালোভাবে পা দিয়ে চেপে চেপে বাতাস বের করে দিতে হয়।
    ৪. ঝোলাগুড় বা চিটাগুড় মিশ্রণ: ঘাসের আর্দ্রতা অনুযায়ী ৩-৪% চিটাগুড় পানির সাথে মিশিয়ে স্তরে স্তরে ছিটিয়ে দিলে ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।
    ৫. বায়ুরোধী সিলিং: গর্তটি পূর্ণ হয়ে গেলে পলিথিন দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে তার ওপর মাটির স্তর দিয়ে সম্পূর্ণ বায়ুরোধী করা হয়।

    বন্যার সময়ে যখন কাঁচা ঘাসের তীব্র সংকট দেখা দেয়, তখন এই সাইলেজ পুষ্টিকর ও রসালো খাদ্য হিসেবে গবাদিপশুর পুষ্টি ও উৎপাদন বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন