কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
মনি তার এক একর জমির পুকুরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে একটি হাঁসের খামার গড়ে তোলে। কিছুদিন পর দেখল। যে, ২/১টি হাঁসের নাক-মুখ দিয়ে তরল পদার্থ বের হচ্ছে এবং হাঁসগুলো আলো দেখে ভয় পাচ্ছে। সে দ্রুত স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে। যোগাযোগ করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তাঁর খামারে আদর্শ প্রতিপালন পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলেন।
- ক)(1)
অধিক ডিম উৎপাদনকারী একটি মুরগির জাতের নাম লেখো।
- খ)(2)
কবুতর পালন সুবিধাজনক কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মনির খামারে কোন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে? উত্ত রোগের কারণ ও লক্ষণগুলো ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
.প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী মনি তার খামারের জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অধিক ডিম উৎপাদনকারী একটি জনপ্রিয় মুরগির জাত হলো হোয়াইট লেগহর্ন (White Leghorn)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবুতর পালন অত্যন্ত সুবিধাজনক কারণ এতে খুব কম জায়গা ও সামান্য পুঁজিতে খামার শুরু করা যায়। কবুতর সাধারণত নিজেদের খাদ্য নিজেরাই খুঁজে খায়, ফলে খাদ্যের পেছনে অতিরিক্ত খরচ হয় না বললেই চলে। এছাড়া কবুতরের রোগবালাই তুলনামূলক কম হয়, এরা দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং প্রতি মাসেই এদের বাচ্চা পাওয়া যায়, যা বাজারে পুষ্টিকর খাদ্য ও উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে দ্রুত লাভবান হওয়া সম্ভব।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মনির খামারের হাঁসের মধ্যে নাক-মুখ দিয়ে তরল পদার্থ বের হওয়া এবং আলোভীতি (ফটোফোবিয়া) দেখা দেওয়ার লক্ষণ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে খামারে 'ডাক প্লেগ' (Duck Plague) বা হাঁসের প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে।
রোগের কারণ:
ডাক প্লেগ একটি অতি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা 'হার্পিস ভাইরাস' (Herpesvirus)-এর সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। দূষিত পানি, সংক্রামিত খাদ্য এবং অসুস্থ হাঁসের সংস্পর্শের মাধ্যমে এ ভাইরাস দ্রুত ছড়ায়।রোগের লক্ষণসমূহ:
১. আক্রান্ত হাঁসের নাক ও মুখ দিয়ে আঠালো বা লালাজাতীয় তরল পদার্থ নির্গত হয়।
২. হাঁস আলো সহ্য করতে পারে না এবং আলোর বিপরীতে ছায়ায় বা অন্ধকারে মুখ লুকিয়ে থাকে (আলোভীতি)।
৩. হাঁস তীব্র তৃষ্ণা অনুভব করে, কিন্তু ক্ষুধামন্দা দেখা দেয় এবং ডানা ঝুলে পড়ে।
৪. হাঁসের চোখ দিয়ে পানি পড়ে ও চোখের পাতা ফুলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
৫. জলীয় বা সবুজাভ-সাদা রঙের পাতলা পায়খানা হয় এবং দ্রুত অনেক হাঁস মারা যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী মনির খামারকে বিপদমুক্ত ও উৎপাদনশীল রাখতে যে সমস্ত আদর্শ প্রতিপালন ও সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. পৃথকীকরণ ও মৃত হাঁস অপসারণ: আক্রান্ত হাঁসগুলোকে সুস্থ হাঁস থেকে দ্রুত আলাদা করে আলাদা স্থানে রাখতে হবে। মৃত হাঁসগুলোকে খামারের বাইরে মাটির গভীরে পুঁতে ফেলতে হবে অথবা পুড়িয়ে ফেলতে হবে যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়।
২. নিয়মিত টিকাদান (Vaccination): সুস্থ হাঁসগুলোকে দ্রুত ডাক প্লেগের প্রতিষেধক টিকা প্রদান করতে হবে। হাঁসের বয়স অনুযায়ী নিয়মিত শিডিউল মেনে টিকা নিশ্চিত করা আবশ্যক।
৩. খামারের জৈব নিরাপত্তা ও জীবাণুমুক্তকরণ: হাঁসের ঘর, ব্যবহৃত পাত্র এবং আশেপাশের এলাকা পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট বা উপযুক্ত জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত ধৌত ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
৪. পুকুরের পানি বিশুদ্ধকরণ: পুকুরের পানি দূষিত হয়ে থাকলে চুন বা ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগ করে পানি শোধন করতে হবে এবং প্রয়োজনে কিছুদিনের জন্য পুকুরে হাঁস নামানো বন্ধ রাখতে হবে।
৫. সুষম খাদ্য ও পরিচ্ছন্ন বাসস্থান: হাঁসকে পুষ্টিকর ও জীবাণুমুক্ত সুষম খাদ্য প্রদান করতে হবে। হাঁসের ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা এবং শুকনো বিছানা (লিটার) নিশ্চিত করতে হবে।এসব আদর্শ প্রতিপালন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে মনির খামারের মড়ক রোধ করা এবং খামারটিকে লাভজনক করা সম্ভব হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও