যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

অমি বললো, দেব-দেবীর অসন্তোষের কারণে সমুদ্রের পানি ফুলে গিয়ে জোয়ার-ভাটা হয় । জনি বললো, আমরা বিজ্ঞানে পড়েছি চাঁদের আকর্ষণের কারণে সমুদ্রে জোয়ার-ভাটা হয় ।

  1. ক)

    লৌকিক ব্যাখ্যা কী?

    (1)
  2. খ)

    বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অভিন্ন হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে অমির বক্তব্য ব্যাখ্যার কোন দিককে নির্দেশ করে?

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে অমি ও জনির বক্তব্যে যে ধরনের ব্যাখ্যা নির্দেশিত হয়েছে তার তুলনামূলক আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রকৃতির কোনো ঘটনাকে অতিপ্রাকৃতিক বা কাল্পনিক শক্তির সাহায্যে ব্যাখ্যা করার প্রচেষ্টাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কার্যকারণ সম্পর্ক এবং প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এতে ব্যক্তিগত বিশ্বাস, কল্পনা বা কুসংস্কারের কোনো স্থান নেই। বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হয় না, বরং নির্দিষ্ট নিয়মের ভিত্তিতে সার্বজনীন সত্য উপস্থাপন করে। তাই বিভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বা বিভিন্ন সময়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অভিন্ন হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে অমির বক্তব্য ব্যাখ্যার 'লৌকিক ব্যাখ্যা' রূপটিকে নির্দেশ করে।

    যে ব্যাখ্যায় কোনো প্রাকৃতিক ঘটনার কার্যকারণ সম্পর্ক অনুসন্ধান না করে অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার বা কোনো অদৃশ্য অতিপ্রাকৃতিক শক্তির ওপর নির্ভর করে মনগড়া কারণ দাঁড় করানো হয়, তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে।
    উদ্দীপকে অমি জোয়ার-ভাটার কারণ হিসেবে দেব-দেবীর অসন্তোষকে দায়ী করেছে। এটি কোনো বৈজ্ঞানিক বা বাস্তবসম্মত ভিত্তি নেই, বরং অন্ধবিশ্বাস ও কল্পনানির্ভর অতিপ্রাকৃতিক চিন্তা। তাই অমির বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে লৌকিক ব্যাখ্যাকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে অমির বক্তব্যে 'লৌকিক ব্যাখ্যা' এবং জনির বক্তব্যে 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা' নির্দেশিত হয়েছে। নিচে এদের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:

    ১. ভিত্তির পার্থক্য: অমির বক্তব্যে নির্দেশিত লৌকিক ব্যাখ্যার ভিত্তি হলো কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও অমূলক কল্পনা। অন্যদিকে জনির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ভিত্তি হলো পরীক্ষণ, পর্যবেক্ষণ ও বস্তুনিষ্ঠ কার্যকারণ নিয়ম।
    ২. রূপগত পার্থক্য: লৌকিক ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃতিক বা মনগড়া শক্তির ওপর নির্ভর করা হয় (যেমন: দেব-দেবীর অসন্তোষ)। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় প্রকৃতির প্রাকৃতিক নিয়মের মাধ্যমে ঘটনা ব্যাখ্যা করা হয় (যেমন: চাঁদের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ)।
    ৩. যাচাইযোগ্যতা: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বাস্তব ঘটনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি যাচাইযোগ্য বা প্রমাণযোগ্য। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যা অবাস্তব ও যাচাইয়ের অযোগ্য।
    ৪. সার্বজনীনতা: লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যক্তি ও সংস্কৃতির পার্থক্যের কারণে ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সার্বজনীন ও সর্বজনগ্রাহ্য।

    সুতরাং, অমির লৌকিক ব্যাখ্যার চেয়ে জনির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা যুক্তিসঙ্গত, নির্ভরযোগ্য এবং বিজ্ঞানসম্মত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন