কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
আলাল দীর্ঘদিন ধরে তার পুকুরে মাছ চাষ করলেও মাছ চাষ। সম্পর্কে কোনো প্রশিক্ষণ পাননি। এ বছর তিনি তার পুকুরে বুই মাছ চাষ করেন। পোনা মজুদের সপ্তাহখানেক পর তিনি তার পুকুরে কিছু মাছের ফুলকায় রক্তক্ষরণ, ফুলকা পচা ও ফুলে যাওয়া লক্ষণ লক্ষ করেন। এমন সমস্যায় তিনি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিলে। কর্মকর্তা আলালকে এ রোগের কারণ, প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য জৈবিক ও রাসায়নিক ব্যবস্থা বলে দেন। এ ব্যবস্থা নেওয়াতে রোগটি অন্য পুকুরে আর ছড়ায়নি।
- ক)(1)
মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কী?
- খ)(2)
চিংড়ি চাষ কেন লাভজনক? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত রোগটির কারণ ও লক্ষণগুলো ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাছকে খাদ্যোপযোগী করে ভবিষ্যৎ ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতিতে পচনের হাত থেকে রক্ষা করে গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রেখে সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিংড়ি একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও সুস্বাদু জলজ খাদ্য। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চিংড়ির ব্যাপক চাহিদা ও উচ্চ মূল্য রয়েছে। অন্যান্য মাছের তুলনায় চিংড়ি তুলনামূলক কম সময়ে দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং এটি রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়। ফলে তুলনামূলক কম পুঁজিতে চাষ করে খুব দ্রুত বেশি মুনাফা লাভ করা যায় বলে চিংড়ি চাষ অত্যন্ত লাভজনক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আলালের পুকুরের রুই মাছগুলোতে ফুলকা পচা রোগের লক্ষণ দেখা দিয়েছে।
রোগের কারণ:
মাছের ফুলকা পচা রোগটি সাধারণত ব্র্যাঙ্কিওমাইসেস (Branchiomyces sanguinis বা Branchiomyces demigrans) নামক ছত্রাকের আক্রমণে হয়ে থাকে। এছাড়া পুকুরে পানির গুণাগুণ নষ্ট হলে, তলায় অতিরিক্ত জৈব পদার্থ বা কাদা জমে থাকলে এবং পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে এ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে।লক্ষণসমূহ:
১. আক্রান্ত মাছের ফুলকার রক্তনালী বন্ধ হয়ে যায় এবং ফুলকায় রক্তক্ষরণ ঘটে।
২. ফুলকার কোনো কোনো অংশ ফেকাশে হয়ে যায় এবং পচে খসে পড়তে থাকে।
৩. ফুলকা ফুলে যায় এবং মাছ শ্বাসকষ্টে ভোগে।
৪. শ্বাসকষ্টের কারণে মাছ পানির উপরিভাগে এসে খাবি খায় এবং ভারসাম্যহীনভাবে চলাফেরা করে অবশেষে মারা যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মৎস্য কর্মকর্তার দেওয়া পরামর্শটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যৌক্তিক ছিল।
আলালের পুকুরের মাছে ফুলকা পচা রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল। এ রোগটি একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো পুকুরের মাছ ধ্বংস করতে পারে এবং পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জলাশয়েও সংক্রমিত হতে পারে। মৎস্য কর্মকর্তা রোগ প্রতিকার ও প্রতিরোধের জন্য জৈবিক ও রাসায়নিক ব্যবস্থার সমন্বিত পরামর্শ দেন।
যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ:
১. রাসায়নিক ব্যবস্থা: ফুলকা পচা রোগে আক্রান্ত পুকুরে প্রতি শতাংশে ১ কেজি চুন ও জীবাণুনাশক হিসেবে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট বা কপার সালফেট প্রয়োগ করা জরুরি। এছাড়া আক্রান্ত মাছকে ৩-৫% লবণ পানিতে বা পটাশ দ্রবণে কয়েক মিনিট গোসল করিয়ে ছেড়ে দিলে জীবাণু ধ্বংস হয়। মৎস্য কর্মকর্তার এই রাসায়নিক ব্যবস্থাপনায় ক্ষতিকর ছত্রাক দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
২. জৈবিক ও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা: পুকুরের অতিরিক্ত কাদা অপসারণ, পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং পরিমিত খাদ্য সরবরাহ করার মাধ্যমে পরিবেশ উন্নত করা সম্ভব হয়। এর ফলে রোগজীবাণুর বিস্তার বন্ধ হয়।সঠিক সময়ে এই পরামর্শ গ্রহণ করায় আলাল রোগটি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছিলেন এবং রোগটি অন্য পুকুরে ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়। সুতরাং, আলালের অর্থনৈতিক ক্ষতি রোধ এবং মৎস্য সম্পদ রক্ষায় মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও