ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২১
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
সজল, কাজল, ফজল ও কফিলসহ চার বন্ধু মিলে একটি কফিশপ চালানোর জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। কফিল কফিশপে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করেনি, তবে তার প্রাক্তন কফিশপ 'কফিলস' এর নাম সে এই ব্যবসায় ব্যবহার করতে দিয়েছে- 'কফিলস' নামে কফিশপটি ভালো চলছে এবং অর্জিত মুনাফা চারজনে ভাগ করে নেয়। আকস্মিক দুর্ঘটনায় 'কাজল মৃত্যুবরণ করলে তাঁর ১৫ বছরের ছেলে রাজুকে ব্যবসায় অন্তর্ভুক্ত করতে বাকি তিনজন সম্মত হয়। এক বছর পর প্রতিষ্ঠানের ১ লক্ষ টাকা লোকসান হয়। কিন্তু রাজু কোনো দায় নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
- ক)(1)
অংশীদারদের অসীম দায় কী?
- খ)(2)
নিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায় উত্তম কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'কফিনস' কফিশপ কোন ধরনের ব্যবসায় সংগঠন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের রাজুর দায় অস্বীকার করার যৌক্তিকতা মূল্যায়ন কর
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অংশীদারি ব্যবসায়ের দায় পরিশোধের জন্য অংশীদারদের ব্যবসায়িক মূলধনের বাইরে ব্যক্তিগত সম্পত্তি পর্যন্ত দায়বদ্ধ থাকাকে অংশীদারদের অসীম দায় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায় অধিক উত্তম, কারণ এটি অনিবন্ধিত ব্যবসায়ের তুলনায় আইনগত বাড়তি সুবিধা ও সুরক্ষা লাভ করে। নিবন্ধিত হলে প্রতিষ্ঠানটি তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে চুক্তিজনিত অধিকার আদায়ে বা ১০০ টাকার অধিক দাবির জন্য মামলা দায়ের করতে পারে এবং অংশীদাররা নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তিতেও আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন, যা অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'কফিলস' কফিশপটি একটি সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠন।
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী, সকলের দ্বারা বা সকলের পক্ষে একজনের দ্বারা পরিচালিত ব্যবসায়ের মুনাফা নিজেদের মধ্যে বণ্টনের নিমিত্তে চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিবর্গের মধ্যকার সম্পর্ককে অংশীদারি ব্যবসায় বলে।
উদ্দীপকে সজল, কাজল, ফজল ও কফিল চার বন্ধু মিলে চুক্তি অনুযায়ী কফিশপটি পরিচালনা করছে এবং অর্জিত মুনাফা চারজনে ভাগ করে নিচ্ছে। কফিল মূলধন না দিলেও নিজের সুনাম/ব্যবসায়ের নাম ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে মুনাফার অংশীদার হয়েছে। চুক্তির ভিত্তিতে মুনাফা বণ্টনের এই বৈশিষ্ট্য প্রমাণ করে যে এটি একটি সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রাজুর লোকসানের দায় অস্বীকার করার বিষয়টি আইনগতভাবে সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৩০ ধারা অনুযায়ী, একজন নাবালক অংশীদারি ব্যবসায়ের পূর্ণাঙ্গ অংশীদার হতে পারে না। তবে সকল অংশীদারের সম্মতিতে নাবালককে কেবল মুনাফা বা সুবিধার জন্য অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। নাবালকের দায় ব্যবসায়ের তার প্রাপ্য অংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং তার কোনো ব্যক্তিগত দায় থাকে না।
উদ্দীপকে কাজলের মৃত্যুর পর তার ১৫ বছর বয়সী নাবালক ছেলে রাজুকে অংশীদারি ব্যবসায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এক বছর পর প্রতিষ্ঠানে ১ লক্ষ টাকা লোকসান হলে রাজু তার দায় নিতে অস্বীকৃতি জানায়। যেহেতু রাজু নাবালক এবং নাবালক হিসেবে সে কেবল ব্যবসায়ের সুবিধার অংশীদার, তাই ব্যবসায়ের কোনো লোকসানের জন্য তার ওপর ব্যক্তিগত কোনো দায় বর্তায় না। আইনগতভাবে তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি দিয়ে লোকসান মেটানোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। অতএব, রাজুর দায় অস্বীকার করার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ সঠিক ও আইনসঙ্গত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও