অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. রুবেল বাংলাদেশ থেকে চীনে ডাক্তারি পড়তে যায়। সে দেখতে পায় চীনে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা হলেও কোনো অভাব নেই। কাজের জন্য মানুষের কোনো হাহাকার নেই। আবাল বৃদ্ধ বনিতা সকলেই কর্মে নিয়োজিত। নিজ উদ্যোগে সবাই বিভিন্ন জিনিস তৈরি। করছে। তবে সবাই প্রশিক্ষিত এবং সবাই শিক্ষিত। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগের নেই কোনো ঘাটতি। সবাই কাজের উপযুক্ত মূল্যও পাচ্ছে। রুবেল চিন্তা করে তার দেশেও যদি শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন, 'যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটানো যেতো তাহলে জনসংখ্যা সমস্যা না হয়ে সম্পদে পরিণত হতো। অবশ্যসরকার বর্তমানে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
- ক)(1)
শূন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধি কী?
- খ)(2)
"সুস্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ পরিপূরক" ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে মানবসম্পদ উন্নয়নের উপায়সমূহ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
চীন এবং বাংলাদেশের মানবসম্পদের গুণগত মানে কোনো পার্থক্য আছে কি? উদ্দীপকের আলোকে তোমার মতামত, বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশের জন্মহার ও অভিবাসনের যোগফল যখন মৃত্যুহার ও বহির্গমনের যোগফলের সমান হয় এবং মোট জনসংখ্যা স্থির থাকে, তখন তাকে শূন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধি (Zero Population Growth বা ZPG) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুস্বাস্থ্য এবং মানবসম্পদ একে অপরের পরিপূরক, কারণ একটি ছাড়া অন্যটির কার্যকারিতা অর্জন করা অসম্ভব। কেবল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিলেই একজন মানুষ পূর্ণাঙ্গ সম্পদে পরিণত হতে পারে না, যদি না সে শারীরিকভাবে সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকে। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী মানুষ পূর্ণ শ্রম ও মনোযোগ দিয়ে দক্ষতা অনুযায়ী কাজ করতে পারে, যার ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। অপরদিকে, অসুস্থ বা দুর্বল শারীরিক অবস্থার কারণে দক্ষ শ্রমিকের উৎপাদন ক্ষমতাও হ্রাস পায়। তাই দক্ষ ও ফলপ্রসূ মানবসম্পদ গঠনের প্রাথমিক ও অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে চীনের উদাহরণ এবং রুবেলের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উপায়সমূহ প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকের আলোকে মানবসম্পদ উন্নয়নের উপায়গুলো নিম্নরূপ:
১. মানসম্মত শিক্ষা বিস্তার: নিরক্ষরতা দূর করে সবাইকে সময়োপযোগী ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা মানবসম্পদ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।
২. কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ: সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করে মানুষকে সরাসরি উৎপাদনমুখী কাজের উপযোগী করে গড়ে তোলা।
৩. স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন: সুষম পুষ্টি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করে নাগরিকদের রোগমুক্ত ও কর্মক্ষম রাখা।
৪. কর্মসংস্থানের সুযোগ ও উপযুক্ত পারিশ্রমিক: কাজের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি এবং শ্রমের ন্যায্য মূল্য প্রদান করা, যা মানুষকে কাজে উৎসাহিত করে।
৫. যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন: অবকাঠামোগত ও তথ্যপ্রযুক্তিগত যোগাযোগ উন্নয়ন করা, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটায়।অতএব, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমেই বিপুল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকের আলোকে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, চীন এবং বাংলাদেশের মানবসম্পদের গুণগত মানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।
চীন বিপুল জনসংখ্যার দেশ হওয়া সত্ত্বেও তাদের জনশক্তিকে দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও শিক্ষিত মানবসম্পদে রূপান্তর করেছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, চীনে আবালবৃদ্ধবনিতা প্রত্যেকে শিক্ষিত, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং সবাই কোনো না কোনো উৎপাদনশীল কাজে নিয়োজিত। সেখানে উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা, আধুনিক যোগাযোগ এবং কাজের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত রয়েছে। ফলে অতিরিক্ত জনসংখ্যা সেখানে কোনো সমস্যা নয়, বরং দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
অপরদিকে, বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিপুল হলেও তাদের সিংহভাগ এখনো অদক্ষ বা অর্ধদক্ষ। গুণগত মানসম্মত শিক্ষা, প্রায়োগিক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুবিধার অভাবে বাংলাদেশের বিরাট জনগোষ্ঠী পুরোপুরি অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তরিত হতে পারেনি। ফলে দেশে এখনো বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বিদ্যমান এবং কাজের জন্য মানুষের হাহাকার দেখা যায়।
অতএব, সার্বিক বিচারে চীন তাদের জনগণকে কার্যকর মানবপুঁজিতে রূপান্তর করতে পারলেও বাংলাদেশ এখনো এই প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ও উন্নয়নশীল পর্যায়ে রয়েছে, যার ফলে দুই দেশের মানবসম্পদের গুণগত মানে স্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও