যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃষ্টান্ত-১: কিছু কুকুর নয় পোষাপ্রাণী। কিছু পোষাপ্রাণী নয় কুকুর।দৃষ্টান্ত-২: সকল বাঙালি হন অতিথি পরায়ণ। আহনাফ হন একজন বাঙালি।আহনাফ হন অতিথি পরায়ণ।দৃষ্টান্ত-৩: বানর হয় চতুষ্পদ প্রাণী। হরিণ হয় চতুষ্পদ প্রাণী।খরগোশ হয় চতুষ্পদ প্রাণী। সকল পশু হয় চতুষ্পদ প্রাণী।
- ক)(1)
অনুমান কী?
- খ)(2)
অমাধ্যম অনুমান কী যথার্থ অনুমান?
- গ)(3)
দৃষ্টান্ত-১ এ কোন ধরনের অনুপপত্তি ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃষ্টান্ত-২ এবং দৃষ্টান্ত-৩ এ নির্দেশিত অনুমান দু'টির পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জানা বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে অজানা বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করার মানসিক প্রক্রিয়াকে অনুমান (Inference) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদদের মতে অমাধ্যম অনুমানকে পুরোপুরি 'যথার্থ অনুমান' বলা যায় না। যথার্থ অনুমানে জানা সত্য থেকে একটি সম্পূর্ণ নতুন অজানা সত্যে পদার্পণ করা হয় এবং একটি জ্ঞানগত উল্লম্ফন (inductive/deductive leap) থাকে। কিন্তু অমাধ্যম অনুমানে একটিমাত্র প্রদত্ত আশ্রয়বাক্যের অর্থকেই ভিন্ন আকারে প্রকাশ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যেখানে প্রকৃত অর্থে নতুন কোনো জ্ঞান পাওয়া যায় না। তাই অনেক যুক্তিবিদের মতে এটি অনুমানের চেয়ে বাক্য রূপান্তর মাত্র।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃষ্টান্ত-১ এ 'অবৈধ আবর্তনজনিত অনুপপত্তি' (Fallacy of illicit conversion) বা 'O' যুক্তিবাক্যের অবৈধ আবর্তন ঘটেছে।
দৃষ্টান্ত-১ এর আশ্রয়বাক্যটি হলো: 'কিছু কুকুর নয় পোষাপ্রাণী।' এটি একটি বিশেষ নঞর্থক বা 'O' যুক্তিবাক্য। যুক্তিবিদ্যার আবর্তনের নিয়ম অনুসারে, কোনো অব্যাপ্ত পদকে সিদ্ধান্তে ব্যাপ্ত করা যায় না।
এখানে আশ্রয়বাক্যটিতে উদ্দেশ্য পদ 'কুকুর' অব্যাপ্ত (যেহেতু 'O' যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্ত)। কিন্তু যখন একে আবর্তন করে সিদ্ধান্তে রূপান্তর করা হলো—'কিছু পোষাপ্রাণী নয় কুকুর' (O যুক্তিবাক্য), তখন সিদ্ধান্তের বিধেয় স্থানে এসে 'কুকুর' পদটি ব্যাপ্ত হয়ে গেছে (যেহেতু নঞর্থক যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ সবসময় ব্যাপ্ত)। নিয়মানুযায়ী আশ্রয়বাক্যে অব্যাপ্ত পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্ত হতে পারে না। ফলে আবর্তনের নিয়ম লঙ্ঘিত হওয়ায় এখানে 'অবৈধ আবর্তনজনিত অনুপপত্তি' ঘটেছে। যুক্তিবিদ্যায় তাই 'O' বাক্যের বৈধ আবর্তন সম্ভব নয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃষ্টান্ত-২ এবং দৃষ্টান্ত-৩ এ যথাক্রমে 'অবরোহ অনুমান' (Deductive Inference) এবং 'আরোহ অনুমান' (Inductive Inference) নির্দেশিত হয়েছে। নিম্নে এদের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. গতিপ্রকৃতিগত পার্থক্য: দৃষ্টান্ত-২ হলো একটি অবরোহ অনুমান (মাধ্যম অনুমান/সহানুমান), যেখানে ব্যাপকতর সত্য ('সকল বাঙালি হন অতিথি পরায়ণ') থেকে বিশেষ ক্ষেত্রে ('আহনাফ হন অতিথি পরায়ণ') সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে। পক্ষান্তরে, দৃষ্টান্ত-৩ হলো আরোহ অনুমান, যেখানে কতগুলো বিশেষ দৃষ্টান্ত (বানর, হরিণ, খরগোশ) নিরীক্ষণ করে সার্বিক সিদ্ধান্তে ('সকল পশু হয় চতুষ্পদ প্রাণী') উপনীত হওয়া হয়েছে।
২. সিদ্ধান্তের ব্যাপকতা: অবরোহ অনুমানে সিদ্ধান্ত কখনো আশ্রয়বাক্যের চেয়ে বেশি ব্যাপক হতে পারে না; এটি সবসময় আশ্রয়বাক্যের সমান বা কম ব্যাপক হয়। কিন্তু আরোহ অনুমানে সিদ্ধান্ত সবসময় জ্ঞাত আশ্রয়বাক্যগুলোর চেয়ে অধিক ব্যাপক হয়।
৩. নতুন জ্ঞানের উৎস: অবরোহ অনুমানে কোনো নতুন তথ্যের আবিষ্কার হয় না, আশ্রয়বাক্যে প্রচ্ছন্ন থাকা সত্যটিই সিদ্ধান্তে ব্যক্ত হয়। কিন্তু আরোহ অনুমানে জানা থেকে অজানায় যাওয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ নতুন জ্ঞান বা সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
৪. সত্যতার ধরন: দৃষ্টান্ত-২ (অবরোহ) প্রধানত আকারগত সত্যতার ওপর জোর দেয়। অপরদিকে, দৃষ্টান্ত-৩ (আরোহ) বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে আকারগত ও বস্তুগত উভয় প্রকার সত্যতা অর্জনে সচেষ্ট থাকে।
সুতরাং, দৃষ্টান্ত দুটি যথাক্রমে অবরোহ ও আরোহ অনুমানের আদর্শ রূপকে উপস্থাপন করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও