জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
স্থূলতা কী?
- খ)(2)
দন্তসংকেত বলতে কী বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' এর গঠন বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের উল্লিখিত 'A' গঠনটি সঞ্চয়ী ভূমিকার পাশাপাশি বিপাকীয় ভূমিকা পালন করে- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শরীরে অতিরিক্ত চর্বি বা মেদ জমার কারণে স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটার অবস্থাকে স্থূলতা (Obesity) বলে। সাধারণত বডি ম্যাস ইনডেক্স বা BMI ৩০ বা তার বেশি হলে তাকে স্থূলতা বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে সংকেতের সাহায্যে স্তন্যপায়ী প্রাণীর চোয়ালের একপাশের বিভিন্ন প্রকার দাঁতের সংখ্যা ও তাদের বিন্যাস সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশ করা হয়, তাকে দন্তসংকেত (Dental formula) বলে।
মানুষের মোট চার ধরনের দাঁত থাকে: কর্তন (Incisor - I), ছেদন (Canine - C), অগ্রপেষণ (Premolar - PM) এবং পেষণ (Molar - M)। পূর্ণাঙ্গ মানুষের স্থায়ী দন্তসংকেত হলো:
I 2/2, C 1/1, PM 2/2, M 3/3 = ৩২। এখানে দাগের উপরের অংশ দ্বারা ঊর্ধ্বচোয়ালের প্রতি অর্ধেকের এবং নিচের অংশ দ্বারা নিম্নচোয়ালের প্রতি অর্ধেকের দাঁতের সংখ্যা বোঝানো হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' অঙ্গটি হলো অগ্ন্যাশয় (Pancreas)। অগ্ন্যাশয় একটি মিশ্র গ্রন্থি (উভয় বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা অংশ বিশিষ্ট)। এর গঠন নিম্নে আলোচনা করা হলো:
১. বাহ্যিক গঠন:
অগ্ন্যাশয় দেখতে লম্বাটে, চ্যাপ্টা এবং হালকা গোলাপি-ধূসর বর্ণের। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১২-১৫ সেমি এবং ওজন প্রায় ৬০-৯০ গ্রাম। এটি প্রধানত তিনটি অংশে বিভক্ত—- মস্তক (Head): ডুওডেনামের 'C' আকৃতির বাঁকের মধ্যে অবস্থান করে।
- দেহ (Body): পাকস্থলীর নিচে অনুপ্রস্থভাবে বিস্তৃত।
- লেজ (Tail): বাম দিকে প্লীহা পর্যন্ত বিস্তৃত সরু অংশ।
২. অভ্যন্তরীণ গঠন:
- বহিঃক্ষরা বা এক্সোক্রাইন অংশ: এটি বহু সংখ্যক লোবিউল বা অ্যাসিনাস (Acinus) নিয়ে গঠিত। অ্যাসিনাসের কোষগুলো থেকে অগ্ন্যাশয় রস (এনজাইম যেমন- ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ, লাইপেজ ইত্যাদি) নিঃসৃত হয়। এগুলো উইরসাং নালি (Wirsung duct) দ্বারা পরিবাহিত হয়ে ডুওডেনামে উন্মুক্ত হয়।
- অন্তঃক্ষরা বা এন্ডোক্রাইন অংশ: অ্যাসিনাসগুলোর ফাঁকে ফাঁকে বিশেষ কোষপুঞ্জ থাকে, যাদের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স (Islets of Langerhans) বলে। এতে প্রধানত চার ধরনের কোষ থাকে:
(ক) আলফা কোষ (গ্লুকাগন হরমোন ক্ষরণ করে),
(খ) বিটা কোষ (ইনসুলিন হরমোন ক্ষরণ করে),
(গ) ডেল্টা কোষ (সোমাটোস্ট্যাটিন ক্ষরণ করে), এবং
(ঘ) পিপি কোষ বা এফ কোষ (প্যানক্রিয়াটিক পলিপেপটাইড ক্ষরণ করে)।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অঙ্গটি হলো মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি যকৃৎ (Liver)। যকৃৎকে মানবদেহের ‘জৈব রসায়নাগার’ বলা হয়, কারণ এটি সঞ্চয়ী ভূমিকার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিপাকীয় ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
যকৃতের সঞ্চয়ী ভূমিকা:
১. গ্লাইকোজেন সঞ্চয়: রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজকে ইনসুলিনের উপস্থিতিতে গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেনে রূপান্তর করে যকৃৎ কোষে সঞ্চয় করে রাখে।
২. চর্বি ও অ্যামিনো অ্যাসিড সঞ্চয়: উদ্বৃত্ত কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন পরিবর্তিত হয়ে চর্বি হিসেবে যকৃতে সঞ্চিত থাকে।
৩. ভিটামিন সঞ্চয়: স্নেহ-দ্রবণীয় ভিটামিন (A, D, E, K) এবং পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (B12, ফলিক অ্যাসিড) যকৃতে সঞ্চিত হয়।
৪. খনিজ লবণ সঞ্চয়: লৌহ (ফেরিটিন হিসেবে), তামা, পটাসিয়াম ইত্যাদি খনিজ যকৃতে সঞ্চিত থাকে।
৫. রক্ত সঞ্চয়: যকৃৎ রক্ত সংবহনের জন্য একটি রক্ত ভাণ্ডার (Blood reservoir) হিসেবে কাজ করে।যকৃতের বিপাকীয় ভূমিকা:
১. শর্করা বিপাক: রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে গ্লাইকোজেনোলাইসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে। আবার অগ্লুকোজ উৎস (যেমন অ্যামিনো অ্যাসিড, গ্লিসারল) থেকে গ্লুকোনিওজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ সংশ্লেষ করে রক্তের শর্করার ভারসাম্য রক্ষা করে।
২. প্রোটিন বিপাক: যকৃতে অতিরিক্ত অ্যামিনো অ্যাসিড ডিঅ্যামিনেশন প্রক্রিয়ায় কিটো অ্যাসিড ও অ্যামোনিয়াতে রূপান্তরিত হয়। পরে অর্নিথিন চক্রের মাধ্যমে ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া থেকে ইউরিয়া উৎপন্ন করে। এছাড়া বিভিন্ন প্লাজমা প্রোটিন (অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, ফাইব্রিনোজেন ইত্যাদি) সংশ্লেষ করে।
৩. লিপিড বিপাক: অতিরিক্ত শর্করাকে ফ্যাটি অ্যাসিডে রূপান্তর (লাইপোজেনেসিস) এবং চর্বির বিটা-অক্সিডেশন ঘটিয়ে শক্তি উৎপাদন করে। এছাড়া কোলেস্টেরল ও লাইপোপ্রোটিন তৈরি করে।
৪. লোহিত রক্তকণিকা ও হিমোগ্লোবিন বিপাক: বয়স্ক ও বিনষ্ট লোহিত কণিকাকে ভেঙে বিলিরুবিন ও বিলিভার্ডিন নামক পিত্তরঞ্জক তৈরি করে।
৫. বিষাক্ত পদার্থ নিষ্ক্রিয়করণ: দেহে প্রবেশকৃত বিভিন্ন টক্সিন, ড্রাগস ও অ্যালকোহলকে ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় ও ক্ষতিকর প্রভাবমুক্ত করে।উপরিউক্ত কার্যাবলির পর্যালোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, যকৃৎ একাধারে প্রয়োজনীয় উপাদান সঞ্চয় করে এবং নানাবিধ রাসায়নিক বিপাক প্রক্রিয়া সুচারুভাবে পরিচালনা করে মানবদেহকে সুস্থ ও কার্যকর রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও