সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
সহপাঠ প্রশ্ন
‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসে বর্ণিত টুনি চরিত্রটি একটি কিশোরীসুলভ চপলতার প্রতীক। স্বামী ও সংসার সম্পর্কে সে ছিল একেবারেই অনভিজ্ঞ। সমবয়সীদের সাথে খেলাধুলা ও হাসি-তামাশা করতেই তার বেশি ভালো লাগত। এই চপলাচঞ্চলা টুনিকেই বিয়ে করে ঘরে আনে ষাট বছরের বুড়ো মকবুল। তাদের বয়সের বিস্তর ব্যবধান থাকায় স্বামী ও সংসারের সুখ তার কপালে জোটেনি।
- ক)(1)
খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম কী?
- খ)(2)
“বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখ।”- এ উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের টুনির সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের যে চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে তা আলোচনা কর
- ঘ)(4)
“টুনি ও ‘লালসালু’ উপন্যাসের উদ্দিষ্ট চরিত্র সামাজিক কুসংস্কারের শিকার।” উদ্দীপক ও ‘লালসালু’ উপন্যাসের আলোকে এ উক্তিটিরসত্যতা নিরূপণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম তনুবিবি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখ।”—উক্তিটি দ্বারা মজিদের দৃষ্টির তীক্ষ্ণতা, অবিচলতা এবং তার ভণ্ড ধর্মবিশ্বাসের দুর্ভেদ্যতাকে বোঝানো হয়েছে।
মজিদ যখন গ্রামের সাধারণ ও ধর্মভীরু মানুষদের লক্ষ্য করে কথা বলত বা তাকাত, তখন তার চোখে এক ধরণের স্থির, অটল ও নিশ্চিত ভাব ফুটে উঠত। মজিদ মানুষের অন্ধবিশ্বাসকে পুঁজি করে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখত। তার চোখের ভাষা ও চাউনি সাধারণ মানুষকে মোহগ্রস্ত ও ভীত করত; যেন কোনো সংশয়হীন পাথরে খোদাই করা বিশ্বাস থেকেই সে মানুষের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের টুনির সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের জমিলা চরিত্রের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
‘লালসালু’ উপন্যাসে জমিলা একজন অল্পবয়সী কিশোরী। সে ছিল চঞ্চল, প্রাণবন্ত এবং সংসার সম্পর্কে অনভিজ্ঞ। সাংসারিক নিয়মকানুন কিংবা মজিদের বানানো কঠোর ধর্মীয় বিধিনিষেধের প্রতি তার কোনো ভয় বা আনুগত্য ছিল না। বরং নিজের স্বভাবসুলভ চঞ্চলতা ও অবাধ্যতাই তার মধ্যে প্রধান হয়ে উঠেছিল। বৃদ্ধ মজিদ তাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে ঘরে তোলে, যার ফলে বয়সের বিরাট ব্যবধানের কারণে সে কোনো স্বাভাবিক দাম্পত্য সুখ পায়নি।
উদ্দীপকের টুনিও চপল স্বভাবের এক কিশোরী, যার খেলাধুলা ও হাসি-তামাশা করতেই ভালো লাগত। ষাট বছরের বৃদ্ধ মকবুলের সাথে অসম বয়সের বিয়ে হওয়ায় সেও দাম্পত্য জীবনের সুখ থেকে বঞ্চিত হয়। টুনির এই বাল্যবিয়ে, কিশোরীসুলভ চঞ্চলতা এবং অসম দাম্পত্য জীবনের দিকটি ‘লালসালু’র জমিলার জীবনের প্রতিচ্ছবি। তাই উদ্দীপকের টুনির সাথে জমিলার চরিত্রগত সাদৃশ্য সুস্পষ্ট।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“টুনি ও ‘লালসালু’ উপন্যাসের উদ্দিষ্ট চরিত্র সামাজিক কুসংস্কারের শিকার।”—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।
পুরুষতান্ত্রিক ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামীণ সমাজে নারীদের ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছা, বিকাশ ও অনুভূতির কোনো মূল্য দেওয়া হতো না। উদ্দীপকে টুনি এক অবুঝ কিশোরী, যাকে বয়সের বিস্তর ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও ষাট বছরের বৃদ্ধ মকবুলের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়। বাল্যবিয়ে ও অসম বিয়ের মতো ক্ষতিকর সামাজিক প্রথা ও সংস্কারের কারণেই টুনির স্বাভাবিক জীবন ও সুখ নষ্ট হয়ে যায়।
একইভাবে ‘লালসালু’ উপন্যাসের জমিলাও সামাজিক কুসংস্কার ও ধর্মান্ধতার নির্মম শিকার। প্রথমত, বয়োবৃদ্ধ মজিদের সাথে কিশোরী জমিলার বিয়েটি ছিল সমাজের প্রচলিত অসম ও বাল্যবিয়ের ফসল। দ্বিতীয়ত, জমিলার স্বাভাবিক কিশোরীসুলভ আচরণ ও অবাধ্যতাকে মজিদ ধর্মীয় কুসংস্কার দিয়ে বিচার করে এবং তাকে ‘জিন-ভূতে ধরা’ কিংবা খোদাদ্রোহী আচরণ হিসেবে সাব্যস্ত করে। শেষ পর্যন্ত জমিলার অবাধ্যতা দমন করতে মজিদ ঝড়-বৃষ্টির রাতে তাকে মাজারের পাথরে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে, যা সামাজিক ও ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাসের চরম অমানবিক বহিঃপ্রকাশ।
অতএব, টুনি এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসের জমিলা—উভয়েই সমাজের পিতৃতান্ত্রিক আধিপত্য, বাল্যবিয়ে এবং কুসংস্কারের নির্মম শিকার। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও