ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
দীপিতা এন্টারপ্রাইজের পরিচালনা পর্ষদ চলতি বছর বিক্রয় বিভাগকে ৩,০০,০০০ একক পণ্য বিক্রয়ের নির্দেশ প্রদান করে। ছয় মাস পর কর্তৃপক্ষ দেখতে পায় শুধুমাত্র ১,২০,০০০ একক পণ্য বিক্রয় হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায় দুইজন দক্ষ কর্মী কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। নির্ধারিত সময়ে প্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে দুজন বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয় এবং বিক্রয়কর্মীদের তাদের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত বিক্রয়ের উপর ১% কমিশন দেওয়ার ঘোষণা করা হয়।
- ক)(1)
কর্মসূচি কী?
- খ)(2)
আদর্শমান নির্ধারণ ছাড়া নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা সম্ভব নয় ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানের ১ম ৬ মাসের বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রার বিচ্যুতি নির্ণয় কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দীপিতা এন্টারপ্রাইজ কর্তৃক: গৃহীত পদক্ষেপ যথেষ্ট – তুমি কি একমত? নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতিষ্ঠানের কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য গৃহীত একক ব্যবহার উপযোগী বিশদ ও ধারাবাহিক কর্মপরিকল্পনাকে কর্মসূচি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিয়ন্ত্রণ হলো পূর্বনির্ধারিত মানের সাথে প্রকৃত কার্যফলের তুলনা করে বিচ্যুতি নির্ণয় ও তা সংশোধনের প্রক্রিয়া; তাই আদর্শমান নির্ধারণ ছাড়া নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করা সম্ভব নয়।
আদর্শমান হলো সেই পূর্বনির্ধারিত মানদণ্ড যার ভিত্তিতে প্রকৃত কাজের সঠিকতা ও অগ্রগতি পরিমাপ করা হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজের আদর্শমান নির্ধারিত না থাকলে কর্মীরা কী পরিমাণ বা মানের কাজ করবে তা সুনির্দিষ্ট থাকে না, ফলে প্রকৃত কাজের সাথে তুলনার কোনো ভিত্তি থাকে না। তাই নিয়ন্ত্রণের প্রথম ও প্রধান ধাপ হিসেবে আদর্শমান নির্ধারণ অপরিহার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানের প্রথম ৬ মাসের বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রার বিচ্যুতি ৩০,০০০ একক (ঘাটতি)।
গাণিতিক ব্যাখ্যা:
দীপিতা এন্টারপ্রাইজের পুরো বছরের (১২ মাসের) বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা = ৩,০০,০০০ একক পণ্য।
অতএব, প্রথম ৬ মাসের জন্য সমানুপাতিক বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা (আদর্শমান) = (৩,০০,০০০ ÷ ১২) × ৬ = ১,৫০,০০০ একক।প্রথম ৬ মাসে প্রকৃত বিক্রয়ের পরিমাণ = ১,২০,০০০ একক।
বিচ্যুতি = প্রকৃত বিক্রয় - আদর্শমান
= ১,২০,০০০ একক - ১,৫০,০০০ একক
= - ৩০,০০০ একক (ঋণাত্মক বা ঘাটতি)।সুতরাং, উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানের প্রথম ৬ মাসের বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রার বিচ্যুতি হলো ৩০,০০০ একক পণ্য ঘাটতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দীপিতা এন্টারপ্রাইজ কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ যথেষ্ট—আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত নই।
নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার ধাপগুলো হলো: আদর্শমান নির্ধারণ, প্রকৃত কার্যফল পরিমাপ, আদর্শমানের সাথে প্রকৃত কার্যফলের তুলনা, বিচ্যুতি নির্ধারণ, বিচ্যুতির কারণ বিশ্লেষণ এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। বিচ্যুতির মূল কারণ সঠিকভাবে চিহ্নিত করে যথাযথ সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিলেই কেবল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়।
উদ্দীপকে প্রতিষ্ঠানের ১ম ৬ মাসের বিক্রয় ঘাটতির মূল কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, দুইজন দক্ষ কর্মী চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত বিক্রয় সম্ভব হয়নি। এই ঘাটতি পূরণে কর্তৃপক্ষ নতুন দুজন বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দিয়েছে এবং অতিরিক্ত বিক্রয়ের ওপর ১% কমিশন প্রদানের আর্থিক প্রেষণামূলক ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বাকি ৬ মাসে বিক্রয় করতে হবে (৩,০০,০০০ - ১,২০,০০০) = ১,৮০,০০০ একক, যা সাধারণ ৬ মাসের লক্ষ্যমাত্রার (১,৫০,০০০ একক) চেয়েও অনেক বেশি।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা কাজ শুরু করলেই তারা অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মীদের মতো সাথে সাথেই পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনশীলতা প্রদর্শন করতে পারে না; তাদের কাজের ধরন ও পণ্য সম্পর্কে পরিচিতি ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। এছাড়া পূর্বের দক্ষ কর্মীরা কেন কাজ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন (যেমন: কাজের পরিবেশ, বেতন কাঠামো বা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা), সে সম্পর্কিত দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান উদ্দীপকে পরিলক্ষিত হয় না। নতুন কর্মীদের দ্রুত প্রশিক্ষণ দেওয়া, গ্রাহকসেবা জোরদার করা এবং বাজার সম্প্রসারণের মতো বাস্তবমুখী কৌশল ছাড়া কেবল কমিশন ঘোষণা ও নতুন কর্মী নিয়োগের পদক্ষেপ দিয়ে এত বড় ঘাটতি পুষিয়ে নির্ধারিত ৩,০০,০০০ একক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব নয়।
অতএব, নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার আলোকে বলা যায় যে, প্রতিষ্ঠানটির গৃহীত পদক্ষেপ ইতিবাচক হলেও তা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য এককভাবে যথেষ্ট নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও