গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ • বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
শোষণ কাকে বলে?
- খ)(2)
“পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন অংশে খাদ্যদ্রব্য ভেঙ্গে ক্ষুদ্রতর অংশে বিভক্ত হয়”- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
চিত্রে A অংশ চিহ্নিত করে তার গঠন বৈশিষ্ট্যের ব্যাখ্যা দাও।
- ঘ)(4)
খাদ্য পরিপাকে A ও B -এর ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিপাক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন সরল, তরল ও দ্রবণীয় খাদ্যসার পৌষ্টিকনালির প্রাচীর ভেদ করে রক্ত বা লসিকায় প্রবেশ করার প্রক্রিয়াকে শোষণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আমরা যেসব জটিল খাদ্য গ্রহণ করি, আমাদের দেহকোষ তা সরাসরি গ্রহণ করতে পারে না। তাই পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন মুখগহ্বর, পাকস্থলী ও ক্ষুদ্রান্ত্রের যান্ত্রিক আলোড়ন ও পাচক রসের বিভিন্ন এনজাইমের রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে জটিল ও অদ্রবণীয় খাদ্য উপাদানগুলো ভেঙে কোষের গ্রহণোপযোগী সরল ও ক্ষুদ্রতর উপাদানে (যেমন— গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল) রূপান্তরিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত A অংশটি হলো 'পাকস্থলী' (Stomach)।
পাকস্থলীর গঠন বৈশিষ্ট্য:
১. আকৃতি ও অবস্থান: পাকস্থলী খাদ্যনালি ও ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামের মাঝে অবস্থিত একটি পুরু প্রাচীরবিশিষ্ট পেশিময় থলিবিশেষ। খালি অবস্থায় এটি অনেকটা ইংরেজি বর্ণ 'J'-এর মতো দেখায়।
২. প্রধান অংশসমূহ: এর প্রধানত চারটি অংশ রয়েছে— কার্ডিয়াক অংশ (অন্ননালির সংযোগস্থল), ফান্ডাস (উপরের গম্বুজাকার অংশ), বডি বা দেহ (মাঝের প্রধান অংশ) এবং পাইলোরিক অংশ (ক্ষুদ্রান্ত্রের সাথে যুক্ত প্রান্ত)। পাইলোরিক প্রান্তে পাইলোরিক স্ফিংক্টার নামক পেশিবলয় থাকে।
৩. প্রাচীরের স্তর: পাকস্থলীর প্রাচীর পাঁচটি স্তরে গঠিত— সেরোসা, অনুদৈর্ঘ্য পেশি, বৃত্তাকার পেশি, তির্যক পেশি এবং মিউকোসা। পেশিবহুল হওয়ার কারণে এটি সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে খাদ্যের যান্ত্রিক ভাঙন ঘটাতে পারে।
৪. গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি: এর অভ্যন্তরীণ মিউকোসা স্তরে অসংখ্য গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থাকে, যেখান থেকে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) এবং পেপসিনোজেন সমন্বিত গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসৃত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে 'A' অংশটি হলো পাকস্থলী এবং 'B' অংশটি হলো অগ্ন্যাশয়। খাদ্য পরিপাকে এ দুটি অঙ্গের ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
A (পাকস্থলী)-এর ভূমিকা:
১. যান্ত্রিক পরিপাক: পাকস্থলীর প্রাচীরের তীব্র সংকোচন ও প্রসারণের (পেরিস্টালসিস) ফলে খাদ্যবস্তু পিষ্ট হয়ে মণ্ড বা কাইমে (Chyme) পরিণত হয়।
২. রাসায়নিক পরিপাক: পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) খাদ্যের ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে এবং নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত করে। পেপসিন প্রোটিনকে ভেঙে পেপটোনে পরিণত করে। শিশুদের ক্ষেত্রে রেনিন এনজাইম দুগ্ধ প্রোটিন কেসিনকে প্যারাকেসিনে রূপান্তর করে। এখানে শর্করা পরিপাককারী কোনো এনজাইম কার্যকর থাকে না।B (অগ্ন্যাশয়)-এর ভূমিকা:
অগ্ন্যাশয় একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্র গ্রন্থি। পরিপাকের জন্য এটি অগ্ন্যাশয় রস (Pancreatic juice) ডিওডেনামে ক্ষরণ করে:
১. শর্করা পরিপাক: অগ্ন্যাশয়ের অ্যামাইলেজ এনজাইম শ্বেতসার ও গ্লাইকোজেনকে মল্টোজে পরিণত করে।
২. প্রোটিন পরিপাক: ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন এনজাইম প্রোটিন ও পেপটনকে ভেঙে পলিপেপটাইডে এবং কার্বক্সিপেপটাইডেজ পলিপেপটাইডকে অ্যামিনো অ্যাসিডে পরিণত করে।
৩. স্নেহ পরিপাক: অগ্ন্যাশয়িক লাইপেজ পিত্তলবণের সহায়তায় ইমালসিফাইড ফ্যাটকে ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে রূপান্তর করে।সুতরাং, পাকস্থলীতে মূলত আমিষ খাদ্যের প্রাথমিক পরিপাক ঘটে এবং অগ্ন্যাশয় রস দ্বারা ক্ষুদ্রান্ত্রে শর্করা, আমিষ ও লিপিড—তিন প্রকার খাদ্যেরই চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ পরিপাক সম্পন্ন হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও