যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: মোরগ ডাকে তাই ভোর হয়।দৃশ্যকল্প-২: চা ভর্তি একটি ফ্লাক্সের ওজন ৫ kg, ফ্লাক্সের ওজন ১ kg। সুতরাং চায়ের ওজন ৪ kg।দৃশ্যকল্প-৩: দ্রব্যের চাহিদা ও যোগান বিপরীতধর্মী।
- ক)(1)
ব্যতিরেকী পদ্ধতির অর্থ কী?
- খ)(2)
অন্বয়ী পদ্ধতিকে নিরীক্ষণের পদ্ধতি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ কোন ধরনের অনুপপত্তি ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এবং ৩ কার্যকারণের যে পদ্ধতি দুটির ইঙ্গিত করেছে তার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ব্যতিরেকী' (Difference) শব্দের অর্থ পার্থক্য বা বাদ দেওয়া। যুক্তিবিদ্যায় ব্যতিরেকী পদ্ধতি হলো এমন একটি পরীক্ষণমূলক পদ্ধতি যেখানে একটি ইতিবাচক ও একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্তের মধ্যে পার্থক্যের ভিত্তিতে কার্যকারণ সম্বন্ধ নির্ণয় করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অন্বয়ী পদ্ধতিতে কোনো ঘটনা বা ঘটনাপুঞ্জের প্রাকৃতিক দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ বা নিরীক্ষণের মাধ্যমে একটি মাত্র সাদৃশ্যপূর্ণ সাধারণ শর্ত খুঁজে বের করে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়। এই পদ্ধতিতে গবেষক নিজে কৃত্রিমভাবে পরিবেশ তৈরি বা পরীক্ষণ করতে পারেন না, বরং প্রকৃতির বুকে স্বাভাবিকভাবে ঘটা ঘটনাবলির ওপর নির্ভর করতে হয়। যেহেতু এটি মূলত সাধারণ নিরীক্ষণের ওপর নির্ভরশীল এবং পরীক্ষণ প্রয়োগ করা কঠিন, তাই অন্বয়ী পদ্ধতিকে 'নিরীক্ষণের পদ্ধতি' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ 'কাকতালীয় অনুপপত্তি' (Fallacy of post hoc ergo propter hoc) ঘটেছে।
কোনো একটি ঘটনা অন্য একটি ঘটনার পূর্বে ঘটলেই পূর্ববর্তী ঘটনাটিকে পরবর্তী ঘটনার কারণ মনে করলে কাকতালীয় অনুপপত্তি ঘটে। কার্যকারণ নিয়মানুযায়ী কারণ সর্বদা কার্যের পূর্ববর্তী ঘটনা, কিন্তু সকল পূর্ববর্তী ঘটনাই কারণ নয়; কারণ হলো অপরিবর্তনীয় ও শর্তহীন পূর্ববর্তী ঘটনা।
দৃশ্যকল্প-১ এ বলা হয়েছে: "মোরগ ডাকে তাই ভোর হয়।" এখানে মোরগের ডাক একটি পূর্ববর্তী ঘটনা এবং ভোর হওয়া পরবর্তী ঘটনা। মোরগের ডাকের পরপরই ভোর হতে দেখে ধরে নেওয়া হয়েছে যে মোরগের ডাকই ভোর হওয়ার কারণ। কিন্তু বাস্তবে মোরগের ডাক ভোর হওয়ার প্রকৃত ও শর্তহীন কারণ নয়, বরং পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারণে ভোর হয়। সুতরাং একটি আকস্মিক পূর্ববর্তী ঘটনাকে কারণ হিসেবে গ্রহণ করায় এখানে কাকতালীয় অনুপপত্তি ঘটেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এবং দৃশ্যকল্প-৩ যথাক্রমে জন স্টুয়ার্ট মিলের 'অবশেষ পদ্ধতি' (Method of Residues) এবং 'সহপরিবর্তন পদ্ধতি' (Method of Concomitant Variations)-এর প্রতি ইঙ্গিত করে। নিম্নে এ দুটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ধারণাগত পার্থক্য: অবশেষ পদ্ধতি অনুযায়ী, কোনো ঘটনার যে অংশটুকু পূর্ববর্তী পরিচিত কোনো কারণের কার্য বলে জানা যায়, সেই অংশটুকু বাদ দিলে অবশিষ্ট কার্যাংশের কারণ হবে অবশিষ্ট কারণাংশ। দৃশ্যকল্প-২ এ মোট ওজন (৫ কেজি) থেকে ফ্লাক্সের জানা ওজন (১ কেজি) বাদ দিয়ে অবশিষ্ট চায়ের ওজন (৪ কেজি) নির্ণয় করা হয়েছে, যা অবশেষ পদ্ধতির সুস্পষ্ট প্রয়োগ। অন্যদিকে, দুটি ঘটনার একটির পরিমাণে হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটলে যদি অপরটিরও পরিমাণে হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে, তবে তাদের সম্পর্ককে সহপরিবর্তন পদ্ধতি বলে। দৃশ্যকল্প-৩ এ দ্রব্যের চাহিদা ও যোগানের বিপরীতমুখী পরিবর্তন নির্দেশিত হওয়ায় এটি সহপরিবর্তন পদ্ধতি।
২. প্রকৃতি ও প্রক্রিয়া: অবশেষ পদ্ধতি মূলত একটি নিগমনমূলক পদ্ধতি বা অবশেষ গণনা। এটি পরিমাণের সমষ্টি ও বিয়োগের ওপর প্রতিষ্ঠিত। পক্ষান্তরে, সহপরিবর্তন পদ্ধতি হলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঘটনার পরিমাণের পরিবর্তনকে পরীক্ষণের মাধ্যমে যাচাই করার পদ্ধতি।
৩. উপযোগিতা: যেক্ষেত্রে কারণকে সম্পূর্ণ পৃথক বা আলাদা করা যায় না (যেমন—উত্তাপ ও পারদস্তম্ভের উচ্চতা, মহাকর্ষ বা চাহিদা-যোগান), সেখানে কেবল সহপরিবর্তন পদ্ধতিই একমাত্র উপযোগী। আর যেখানে জটিল মিশ্র কার্যের মধ্য থেকে জানা কারণগুলোর অংশ বাদ দিয়ে অজ্ঞাত অংশের কারণ বের করতে হয়, সেখানে অবশেষ পদ্ধতি কার্যকর।
পরিশেষে, উভয় পদ্ধতিই কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার ও প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক পদ্ধতি হলেও অবশেষ পদ্ধতি বিয়োগভিত্তিক এবং সহপরিবর্তন পদ্ধতি পরিমাণগত পরিবর্তনের মাত্রার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও